সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে আহাল হিসেবে না পাওয়ার কারণে শোক প্রকাশ করে বিভিন্ন মহিলা উনাদের ক্বাছীদা শরীফ পাঠ


পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবের ইলম রাখতো এরূপ অনেক মহিলা উনারা জানতেন যে, সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত কপাল মুবারক-এ এখন ‘নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ অবস্থান মুবারক করছেন। তিনিই হবেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আব্বা আলাইহিস সালাম। উনার মাধ্যমেই আখিরী নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করবেন। তাই উনারা নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ধারণ করার প্রত্যাশা করেছিলো। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক তিনি এই বিষয়ে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মনোনীত করেছেন এবং উনাকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম হিসেবেই সৃষ্টি মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! এই সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, اللهُ أَعْلَمُ حَيْثُ يَجْعَلُ رِسَالَتَهُ অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত রিসালাত মুবারক কোথায় রাখবেন, তা তিনিই অধিক ভালো জানেন।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা আন‘আম শরীফ, সম্মানিত আয়াত শরীফ: ১২৪) মূলত, এই সকল মহিলা উনারা সেই সম্মানিত নিয়ামত মুবারক তথা নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে লাভ করতে না পারায়, আফসোস ও অনুতাপ করে অনেক ক্বাছীদা শরীফ পাঠ করেন। যেমন, উম্মু ক্বিতাল বিনতে নাওফেল তিনি উনার ব্যর্থতার জন্যে অনুতাপ প্রকাশ করতে গিয়ে নিম্নোক্ত ক্বাছীদাহ শরীফ আবৃত্তি করেছিলেন, عَلَيْكَ بَآلِ زُهْرَةَ حَيْثُ كَانُوا … وَآمِنَةَ الَّتِي حَمَلَتْ غُلَامَا تَرَى الْمَهْدِيَّ حِينَ نَزَا عَلَيْهَا … وَنُورًا قَدْ تَقَدَّمَهُ أَمَامَا إِلَى أَنْ قَالَتْ فَكُلُّ الْخَلْقِ يَرْجُوهُ جَمِيعًا … يَسُودُ النَّاسَ مُهْتَدِيًا إِمَامَا بَرَاهُ اللهُ مِنْ نُورٍ صَفَاءً … فَأَذْهَبَ نُورُهُ عَنَّا الظَّلَامَا وَذَلِكَ صُنْعُ رَبِّكَ إِذْ حَبَاهُ … إِذَا مَا سَارَ يَوْمًا أَوْ أَقَامَا فَيَهْدِي أَهْلَ مَكَّةَ بَعْدَ كُفْرٍ … وَيَفْرِضُ بَعْدَ ذَلِكُمُ الصِّيَامَا অর্থ: “আপনি সম্মানিত যুহরা পরিবার উনাকে আঁকড়ে ধরে রাখবেন, উনারা যেখানেই থাকুন। আর সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে একজন মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত রেহেম শরীফ উনার মধ্যে ধারণ করেছেন। উনাকে আপনি সম্মানিত হিদায়াতদানকারীরূপে দেখতে পাবেন, যখন তিনি উনার উপর উপগত হবেন। আর ওই মহাসম্মানিত নূর মুবারক উনাকে যা উনার সম্মুখে পথপ্রদর্শক হিসেবে চলেন। তিনি আরো বলেন, সমস্ত সৃষ্টিজগতের প্রত্যেকেই উনাকে (সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে) কামনা করেন। তিনি হিদায়াতদানকারী ইমামরূপে সকল মানুষের কর্তৃত্ব করবেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে পরিচ্ছন্ন নির্মল মহাসম্মানিত নূর মুবারক দ্বারা সৃষ্টি মুবারক করেছেন। তারপর উনার মহাসম্মানিত নূর মুবারক আমাদের থেকে অন্ধকার দূরীভূত করেছেন। সুবহানাল্লাহ! এটা আপনার রব মহান আল্লাহ পাক উনার অনুগ্রহ। তিনি তা হাদিয়া মুবারক করেছেন। দিনের বেলা যখন তিনি চলমান থাকেন অথবা স্বস্থানে অবস্থান করেন। কুফরীর পর তিনি সম্মানিত মক্কাবাসী উনাদেরকে হিদায়াত দান করবেন। তারপর তিনি উনাদের উপর ছিয়াম তথা রোযা ফরয করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ২/৩০৮, বাইহাক্বী শরীফ) আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ, আল কামিল ফীত তারীখ, তারীখুল উমাম ওয়াল মুলকসহ আরো অনেক কিতাবে বর্ণিত রয়েছে যে, সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ করান। তারপর সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে ৩ দিন অবস্থান মুবারক করলেন। অতঃপর ফাত্বিমা নাম্নী এক মহিলা পাদ্রী উনার সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার দেখা হলে, উক্ত মহিলা পাদ্রী সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে বলেন, مَا صَنَعْتَ بَعْدِي فَأَخْبَرَهَا فَقَالَتْ وَاللهِ مَا أَنَا بِصَاحِبَةِ رِيبَةٍ وَلَكِنِّي رَأَيْتُ فِي وَجْهِكَ نُورًا فَأَرَدْتُ أَنْ يَكُونَ فِيَّ وَأَبَى اللهُ إِلَّا أَنْ يَجْعَلَهُ حَيْثُ أَرَادَ ثُمَّ أَنْشَأَتْ فَاطِمَةُ تَقُولُ: إِنِّي رَأَيْتُ مُخِيلَةً لَمَعَتْ … فَتَلَأْلَأَتْ بِحَنَاتِمِ الْقَطْرِ فَلَمَأْتُهَا نُورًا يُضِيءُ لَهُ … مَا حَوْلَهُ كَإِضَاءَةِ الْبَدْرِ وَرَجَوْتُهَا فَخْرًا أَبُوءُ بِهِ … مَا كُلُّ قَادِحِ زَنْدِهِ يُورِي للَّه مَا زُهْرِيَّةٌ سَلَبَتْ … ثَوْبَيْكَ مَا اسْتَلَبَتْ وَمَا تَدْرِي وَقَالَتْ فَاطِمَةُ أَيْضًا: وَلَمَّا حَوَتْ مِنْهُ أَمِينَةُ مَا حَوَتْ … حَوَتْ مِنْهُ فَخْرًا مَا لِذَلِكَ ثَانِ. অর্থ: “আমার নিকট থেকে গিয়ে আপনি কী করলেন? সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি উনাকে সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ উনার সংবাদ মুবারক শুনালেন। শুনে উক্ত মহিলাটি বললেন, আমি চরিত্রহীনা নারী নই। তবে আপনার সম্মানিত চেহারা মুবারক-এ আমি বিশেষ মহাসম্মানিত নূর মুবারক দেখেছিলাম, চেয়েছিলাম যে, সেই বিশেষ মহাসম্মানিত নূর মুবারক আমার মধ্যে আসুক। অর্থাৎ সেই বিশেষ মহাসম্মানিত নূর মুবারক ধারণ করে আমি সর্বোচ্চ হাক্বীক্বী কামিয়াবী হাছিল করি। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক উনার ইচ্ছা ছিলো অন্যরকম। এই বলে সেই মহিলাটি কয়েকটি পংক্তি আবৃত্তি করেন, নিশ্চয়ই আমি একখানা মেঘখ- মুবারক উনাকে জ্বলজ্বল করতে দেখেছি। ফলে মেঘমালা আলোকিত হয়ে উঠেছে। আমি উনাকে এমন একটি নূর মুবারক মনে করলাম, যেই মহাসম্মানিত নূর মুবারক জ্যোৎ¯œার চাঁদের ন্যায় উনার আশেপাশের সবকিছুকে আলোকিত করেন। সুবহানাল্লাহ! আমি উনাকে এমন গর্বের বস্তু হিসেবে বরণ করে নিলাম, যাঁকে আমি নিয়েই আসবো। প্রত্যেক চকমকি প্রজ্জ্বলনকারী তা প্রজ্জ্বলিত করতে পারে না। আল্লাহ পাক উনার শপথ, সম্মানিত যুহরিয়াহ গোত্র উনার মহাসম্মানিত মহিলা (সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি) আপনার সাধারণ কোন লেবাস মুবারক ছিনিয়ে নেননি অথচ আপনি তা জানেন না। অর্থাৎ আপনি নিশ্চিতভাবে জানেন যে, সম্মানিত যুহরা গোত্র উনার সুমহান মহাসম্মানিতা ব্যক্তিত্বা মুবারক সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আপনার থেকে কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত মুবারক ‘নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ উনাকে গ্রহণ করেছেন ও ধারণ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! ফাত্বিমা তিনি আরো বলেন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার থেকে এক মহাসম্মানিত নূর মুবারক গ্রহণ করেছেন ও ধারণ করেছেন। যা কায়িনাতের অন্য কেউ গ্রহণ করতে পারেনি, ধারণও করতে পারেনি। তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার থেকে ফখরুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নূর মুবারক ধারণ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! উনার মেছাল মহান আল্লাহ পাক উনার কায়িনাতে দ্বিতীয় আর কেউই নেই।” সুবহানাল্লাহ! (আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ২/২৫০)
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে