অংপুরী (রংপুরী) ভাষা শিখুন! (উৎসর্গ: প্রভাতের সূর্য)


সুপ্রিয় ব্লগার ভাই ও বন্ধুরা! আশাকরি আপনারা সবাই ভালো আছেন। “আসুন চট্টগ্রামের ভাষা শিখি” পোস্টের পর এবার আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি রংপুরের ভাষা নিয়ে। সামনে আরো কোন কোন ভাষা শিখতে চান জানালে সে বিষয়ের পোস্ট দেয়া যাবে!

রংপুর বিভাগে মোট জেলা আটটি। এ আটটি জেলার সব যায়গার ভাষা প্রায় একই রকম। অনেকটা কাছাকাছি। সাধারণত প্রতি ১৮ কিলোমিটার অন্তর মানুষের মুখের ভাষার ব্যবধান তৈরি হয় (বিভিন্ন মতভেদ আছে)। তবে মূল টান বা উচ্চারণে অনেকটা মিল থাকে।

রংপুর বিভাগের জেলাগুলো হলো- রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁ, দিনাজপুর, নীলফামারী ও পঞ্চগড়।

রংপুরিয়া ভাষা শিক্ষার আসর IRLTS
International Rangpuriya Language Testing System

 

শব্দের প্রথম অক্ষর ‘র’ হলে উচ্চারণ ‘অ/এ/এ্যা’-এর মত হয়:

রসূণ – অসূণ
রক্ত – অক্ত
রংপুর – অমপুর

রানী : একি আজা (রাজা) তোমার মাথায় অক্ত (রক্ত) !!!
রাজা: অক্ত নয় আনী (রানী) অং, অং (রং) !!!!

 

তুমি আর আপনি শব্দের একসাথে ব্যবহার
এ অঞ্চলের ভাষার মজার বিষয় হলো তুমি আর আপনি দু’টোই একসাথে বলে।
যেমন- ক্যা বাহে! তোমরাগুলা এগলা কী শুরু করনেন?
তোমরা হামার বাড়িত যাইমেন।

তবে রংপুরের ভাষায় গনহারে তুমি (তোমাক, তোমরাগুলা, তোমরার এই রকম) বলা হয়।

 

‘‘ ছ’’ এর ব্যবহার ‘ চ ’ রূপেঃ মাছ>মাচ
শব্দের মধ্যবর্তী স্থানে অতিরিক্ত স্বরবর্ণের ব্যবহার যেমন: গেলে> গেইলে, বোন> বইন,
‘ল’ এর স্থলে ‘ন’ এর ব্যবহার: লাট> নাট, লাগে> নাগে, লালমনিরহাট> নালমনিরহাট
অধিকরণ কারকে ‘‘ত ’’ বিভক্তির প্রয়োগ: ‘‘ বাবা বাড়িত নাই’’
অপিনিহিতর ব্যবহার: অদ্য> অহিজ, কাল্য> কাইল
শব্দের মধ্যবর্তী ব্যঞ্জনবর্ণ লোপ: কহিল> কইল
স্থানের নামের শেষের বর্ণে এ-কার থাকলে তা তুলে দিয়ে শব্দের শেষে ‘ত’ বর্ণ যুক্ত করণের প্রবণতা। যেমন- মাঠত (মাঠে), ঘাটত (ঘাটে), হাটত (হাটে)।
ভবিষ্যতে স্বয়ং কর্ম সম্পাদনের ক্ষেত্রে ক্রিয়াপদের শেষে ‘ম’ বর্ণ ব্যবহারের প্রবণতা। যেমন- যাইম (যাবো), খাইম (খাবো), দেখিম (দেখবো)।
সম্বোধনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত কতিপয় শব্দের উদাহরণ হচ্ছে – মুঁই (আমি), হামরা (আমরা), তুঁই (তুমি), তোমরাগুলা (তোমরা), অঁয় (সে), ওমরা/ ওমরাগুলা (তারা)।

 

কিছু শব্দ ও অর্থ

হাকাউ= আন্দাজে বলা
এ্যালা = এখন
ক্যাঙ্কা আচো বাহে?
কুশার/কুইশর = আখ
চিংড়ি = ইচলা
গড়াই মাছ = টাকি মাছ
কোষ্টা শাক = পাট শাক
আও = কথা বলা
ফ্যাদলা পাড়া = বকবক করা
বেগুন = বাইগন
ছাওয়া = বাচ্চা
উদিনকা = সেদিন
আইগন্যা =  বাড়ির উঠান বা আঙ্গিনা
বাহে= বাবা-মা, চাচা-চাচি, খালা-খালু, শশুর-শাশুড়ি –এ শ্রেণীকে বুঝায়

 

কিছু ভাষা:

মাঝত মাঝত হামার সাথোত তোমরা আও কইরেন (মাঝে মাঝে আমার সাথে আপনি কথা বলিয়েন)
এইলা পড়ি মোক নজ্জা নাগোছে! (এটা পড়ে আমার লজ্জা লাগছে!)

মুই হনু আসল অম্পুইরা। (আমি হলাম আসল রংপুরী)

দরকার পড়লে মুই হাঁটি হাঁটি অংপুর যাইম, তা-ও এই বাসোত উঠিম না! (দরকার হলে আমি হেটে হেটে রংপুর যাবে কিন্তু এ বাসে উঠবো না।

পাউঁছাবার যায়া মুই পাগারোত্‌ পন্‌নু। (পেছনে যেতে গিয়ে আমি পুকুরে পড়লাম)

মুরুব্বীর ঘর কয়, ছাওয়া পোয়াক বেশী নেকাপড়া করা ভালো নোয়ায়। কথায় কথায় ইংরেজী কইবে হামার সামনোত-এটা হামার সহ্য হবার নয়।

অমপুরের নাপা শাগের যে স্বাদ। আলু ভত্তা দিয়া মাখো আর খাও!

এ এলাকায় ব্যাপক প্রচলিত কয়েকটি ছড়া –

ঘুমপাড়ানী ছড়া

আয় নিন্দো বায় নিন্দো

পাইকোরের পাত

কান কাটা কুকুর আইসে

ঝিৎ করিয়া থাক।

 

পাঁচ গুটি খেলার ছড়া

ফুলন ফুলন ফুলনটি

একেতে দুলনটি

দুলন দুলন দুলনটি

একেতে তিলনটি

তেলন তেলন তেলনটি

একেতে ঝামনটি

ঝামন ঝামন ঝামনটি

একেতে জোড়ঝামনটি।

মুই রংপুরের ছাওয়া বাহে! মোক সাতে নিয়্যা ব্যারান।
মুই আইজ থাকি তোমার গুল্যার সাতে থাকিম।

তোমরা মোর পোস্ট পইচ্ছেন মুই খুব খুসি হইছং

(কিছু নেট থেকে সংগৃহীত, কিছু নিজের বানানো)

 

Views All Time
1
Views Today
7
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+