‘অছাম্প্রদায়িক’ চেতনা ধারণের কারণেই একদা প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন ছা-ছমুছা-ছপের কারখানাতে পরিণত হয়েছে


“এক কাপ ছা, একটা ছমুছা, আর একটা ছপ, মাত্র দশ টাকায় এই তিনটা জিনিস পাওয়া যাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে।”
প্রতি বছর আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাঙ্কিং প্রকাশিত হওয়ার পর যখন তাতে ঢাবি, বুয়েট কিংবা বাংলাদেশের কোনো ভার্সিটিকেই প্রথম ১০০০ এর তালিকায় খুঁজে পাওয়া যায় না, তখন তা নিয়ে এক-দেড়মাস পত্রিকা-মিডিয়াগুলোতে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। সবাই কারণ খুঁজতে চেষ্টা করে, কেন একদা ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ বলে খ্যাত ঢাকা ভার্সিটি বর্তমানে ১০০০ এর তালিকার মধ্যেও ঢুকতে পারছে না?
গত ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ঢাবির এই কলঙ্ক রুখতে তার স্বভাবসিদ্ধ ভুল উচ্চারণে লেখার শুরুতে দেয়া হাস্যকর মন্তব্যটি করে। গবেষণা নয়, টিএসসির ক্যান্টিনে ১০ টাকায় পাওয়া ‘ছা-ছমুছা-ছপ’ই হলো ঢাবির গর্ব! উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ স্কুল কিংবা পাঠশালা নয়। তার মূল কাজ ধরিয়ে-শিখিয়ে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করিয়ে ডিগ্রিধারী উৎপাদন করা নয়। একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতি বছর কতোগুলো গবেষণাপত্র বের হয়, সেগুলো কতোটা মানসম্মত, সেটাই উক্ত প্রতিষ্ঠানের র‌্যাঙ্কিংয়ের ক্ষেত্রে প্রধান বিবেচ্য ধরা হয়। অবশ্য সম্প্রতি খবরে প্রকাশিত হয়েছে যে, ঢাবি-জাবির মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতেও এখন পিএইচডি ছাড়াই অধ্যাপক বানিয়ে দিচ্ছে, অথচ বহির্বিশ্বের দেশগুলোর ভার্সিটিগুলোতে পিএইচডি ছাড়া এখন লেকচারারও নিয়োগ দেয়া হয় না।
কিন্তু বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণাকর্মের এই খরা কেন? কারণ বিশ্লেষণে সম্প্রতি এদেশের ইসলাম বিদ্বেষী গোষ্ঠীর এক কেউকেটা ‘আহমক রফিক’ এর একটি সাক্ষাৎকার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা যেতে পারে। সে তার সাক্ষাৎকারে বলেছে যে, ডক্টরেট করার জন্য কলকাতা ভার্সিটিতে গিয়ে বঙ্কিমের বই পড়ে তাকে তার ‘সাম্প্রদায়িক’ মনে হয়েছে, হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু গবেষণাপত্রে যে এই কথা লেখা যায়নি, সে প্রসঙ্গে সে উল্লেখ করেছে-
“এ কথা আমি স্যারকে বললাম, সে একমত হয়েছিল। সে বলল কিন্তু তোমার এই কথাগুলো সত্যি হলেও থিসিসে যদি আমি এগুলো লিখি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে ডক্টরেট দেবেনা।” (সূত্র: ‘আরবি নয়, সংস্কৃত শিখতে চেয়েছিলাম’, আহমক রফিক, বাংলা ট্রিবিউন, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮)
অর্থাৎ সারাবিশ্বেই বিশ্ববিদ্যালয় নামক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব সাম্প্রদায়িক ও আদর্শিক অবস্থান থাকে এবং সেই অবস্থানকে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইতিহাস, সাহিত্য ও সমাজ তত্ত্বের নিজস্ব বয়ানকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়, যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রকাশ করে নিজ নিজ জাতীয় ও সম্প্রদায়গত দৃষ্টিকোণ থেকে একের পর এক ‘গবেষণা পত্র’। ৯/১১ এর পর থেকে ইসলামবিরোধী গবেষণা করার জন্য পশ্চিমা দেশগুলোর ভার্সিটিতে সরকারি ফান্ড দেয়ার বিষয়টি তো বলাই বাহুল্য, যার ফলে তাদের থিসিসে থাকে দ্বীন ইসলাম ও নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের শান মুবারকে যথেষ্ট আপত্তিকর বক্তব্য ও মুসলমানদের প্রতি তীব্র ঘৃণা।
এখন যদি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সাম্প্রদায়িক অবস্থানই না থাকে, তাহলে সে কেনইবা গবেষণা করবে? অছাম্প্রদায়িক হওয়ার অর্থই হচ্ছে সে অপর সম্প্রদায়ের মাঝে নিজেকে বিলীন করে দিয়েছে, অর্থাৎ এক্ষেত্রে তার প্রভুগোষ্ঠী থিওরী প্রসব করবে আর অছাম্প্রদায়িক প্রতিষ্ঠান সেই উচ্ছিষ্ট গলঃধকরণ ও প্রচার করবে মাত্র। সাম্প্রদায়িকতা না থাকায় তার নিজস্ব মৌলিকতা যেহেতু নেই, মৌলিক কোনো তত্ত্বও তার থেকে বের হওয়া অসম্ভব। যা হয়েছে ঢাকা সহ দেশের তাবৎ বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর ক্ষেত্রে।
এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা এখন হিন্দুদের সরস্বতী পূজার জন্য ঢাকা শহরকে অচল করে দিচ্ছে, জগন্নাথ হলের উগ্র ছাত্রদের দ্বারা শাহবাগ চত্বরে ব্যবসায়ী দম্পতিকে শারীরিক হেনস্থায় দিয়েছে সমর্থন। উল্লেখ্য, এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একদা হিন্দুরা বলত ‘মক্কা বিশ্ববিদ্যালয়’। সেটাকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা যেন নিজেদেরকে ইসলাম বর্জিত প্রমাণের প্রাণপণ চেষ্টাতে লিপ্ত।

Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে