অনলাইন বা ডিজিটাল কুরবানীর হাটের মাধ্যমে পশু কেনায় শরঈ শর্ত প্রতিপালিত হওয়া সম্ভব নয়, তাই এই ডিজিটাল বা অনলাইন কুরবানীর পশুর হাট শরীয়তসম্মত নয়


দ্বীন ইসলাম কখনোই উন্নত ও আধুনিক পদ্ধতিকে অস্বীকার করে না, তবে শর্ত হচ্ছে তা শরীয়তসম্মত হতে হবে। বর্তমান সময়ে বেচাকেনার একটি আধুনিক পদ্ধতি হচ্ছে ডিজিটাল বা অনলাইনে বেচাকেনা। তবে পবিত্র কুরবানীর পশু অনলাইনে বেচাকেনা করা কতটুকু শরীয়তসম্মত তা জানার জন্য কয়েকটি বিষয় আলোকপাত করলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। যেমন অনলাইনে পশু ক্রয় বিক্রয় করতে গেলে যে কয়টি বিষয়ের সম্মুখীন হতে হবে তা হচ্ছে-
১. পশুর ছবি তোলা বা ভিডিও করা।
২. পশুর বয়স, সুস্থতা ও নিখুঁততা যাচাই বাছাই করা।
৩. ভাইরাসকে ছোঁয়াচে মনে করে এই পদ্ধতি অবলম্বন করা।
৪. দেখেশুনে ক্রয় করার পরিবর্তে ধারণার উপর ক্রয় করা।
প্রথমেই জানা প্রয়োজন, অনলাইনে পশু ক্রয় বিক্রয় করতে গেলে যে বিষয়টি প্রথমে আসবে তা হলো ছবি ভিডিও তথা হারামের মাধ্যম। যা সম্মানিত দ্বীন ইসলামে নাজায়িয ও হারাম। আর হারাম কাজ করে বা হারামের মাধ্যমে পবিত্র কুরবানী করলে তা কবুল হবে না।
দ্বিতীয়ত, পশুর বয়স কত, পশুটি কতটুকু সুস্থ, কতটুকু নিখুঁত সেটা অনলাইনে স্পষ্টভাবে জানা সম্ভব নয় বা দেখা অসম্ভব। তাই পবিত্র কুরবানীর এভাবে ক্রয় করলে কুরবানী কবুল হওয়ার শর্তসমূহ প্রমাণ করা অসম্ভব এবং সে পশু কুরবানী করলে তা কবুল না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী।
তৃতীয়ত, বর্তমান সময়ে ভাইরাসকে কেন্দ্র করে যেহেতু এই অনলাইনে পশু ক্রয় বিক্রয়ের ব্যবস্থা। সেহেতেু এটা নির্দ্বিধায় হারাম ও ফিতনামূলক ব্যবস্থা। কেননা সম্মানিত দ্বীন ইসলামে ছোঁয়াচে বা সংক্রমণ বলে কিছুই নেই। এরূপ বিশ্বাস করার কারনে ঈমান বিনষ্ট হওয়ায় পবিত্র কুরবানীর পশু ক্রয় বিক্রয় করা কোন মুসলমানের পক্ষে সম্ভবপর হবে না। তথা পবিত্র কুরবানী কবুল হবে না।
আর চতুর্থত, পবিত্র কুরবানী ক্ববুল হওয়ার জন্য যেসব শর্ত রয়েছে তা অনলাইনের মাধ্যমে যাচাই বাছাই করা, হালাল পন্থায় কোনভাবেই পশু দেখে ক্রয়-বিক্রয় সম্ভব হবেনা। বরং ধারণার উপর ক্রয়- বিক্রয় করা হবে। যা শরীয়তে বেচা-কেনার শর্ত ভঙ্গের শামিল। তাই এ অনলাইনে কুরবানীর পশু ক্রয় করলে তা কবুলযোগ্য হবেনা।
আবার সম্মানিত শরীয়তে বেচা-কেনা বিষয়ে কিছু জরুরী বিষয় রয়েছে, যা জানা প্রয়োজন-
বেচা-কেনা, ক্রয়-বিক্রয়, ব্যবসা ও তিজারত এগুলো সমার্থক শব্দ। সাধারণ অর্থে লাভের আশায় বৈধ পণ্যের লেন-দেনকে ব্যবসা ও তিজারত বলা হয়। যেমন ফিক্হের কিতাবে বলা হয়েছে,
مُبَادَلَةُ الْمَالِ بِالْمَالِ بِالتَّرَاضِي
বাণিজ্যিক ভিত্তিতে দুই পক্ষের পূর্ণ সম্মতিক্রমে মুদ্রা কিংবা বৈধ পণ্যের বিনিময়ে বৈধ পণ্যের হস্তান্তরকে ইসলামী শরীয়তে বেচা-কেনা বলে। (হিদায়া-টিকা ৩/১৮)
বেচা-কেনা শরীয়তসম্মত উপায়ে সংঘটিত হওয়ার জন্য কমপক্ষে ৩টি জিনিস পেতে হবে।
১. বৈধ মাল হতে হবে।
২. পণ্যের মূল্য নির্ধারিত হতে হবে।
৩. উভয়পক্ষ থেকে স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি পেতে হবে।
অথচ অনলাইনে কুরবানীর পশু ক্রয় করলে উল্লেখিত একটিও পরিপূর্ণভাবে পাওয়া সম্ভব নয়। যেহেতু সেখানে হারামের সংমিশ্রণ রয়েছে।
কাজেই ডিজিটাল বা অনলাইনে পবিত্র কুরবানীর পশু ক্রয় করা থেকে বিরত থাকা সকল মুমিন মুসলমানের একান্ত অপরিহার্য দায়িত্ব।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে