অনেকে বলে থাকে অমুক হুযুর বলে এটা সঠিক, তমুক হুযুর বলে ঐটা সঠিক! আমরা কার কাছে যামু!?


অনেকে বলে থাকে অমুক হুযুর বলে এটা সঠিক, তমুক হুযুর বলে ঐটা সঠিক! আমরা কার কাছে যামু!?

আচ্ছা ভাই! অসুখ বিসুখ হলেও তো ডাক্তারের কাছে যান! তাইনা!? তখনতো এত বিতর্ক আর অনেকের পরামর্শের পরও ভালো ডাক্তার ঠিকই খুজে বের করেন! কেউ মূর্খ হলেও ভালো ডাক্তার ঠিকই চিনে!

তাহলে মনের রোগ নিরাময় করতে, দ্বীনি ইলম শিক্ষা গ্রহন করতে সঠিক শিক্ষক বা হক্কানী মুর্শিদ বা ওলী আল্লাহ চিনতে এত হতাশ কেনো?

একমাত্র যারা শরীয়া’ মুতাবিক আমল করেন তারাই অনুসরনযোগ্য আদর্শ!

আমরা প্রত্যেকেই কাউকে না কাউকে অনুসরণ করে থাকি। তবে বাজার দরে সবাইকে অনুসরণ করা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম, সম্মানিত শরীয়ত উনার সম্পূর্ণ খিলাফ ও গুনাহের কাজও বটে। কেননা মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার সম্মানিত কালাম পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মাঝে ইরশাদ মুবারক করেন-
وَاتَّبِعْ سَبِيْلَا مَنْ اَنَابَ اِلَىَّ
অর্থ: “যিনি আমার এবং আমার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে রূজু হয়েছেন উনার অনুসরণ করো।”
বিপরীতে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَلَا تُطِعْ مَنْ اَغْفَلْنَا قَلْبَهٗ عَنْ ذِكْرِنَا وَاتَّبَعَ هَوَاهُ وَ كَانَ اَمْرُهٗ فُرُطًا
অর্থ: “যার বা যাদের ক্বল্ব্ আমার সম্মানিত যিকির মুবারক থেকে গাফিল এবং সম্মানিত যিকির থেকে গাফিল হওয়ার কারণে নিজেদের নফসের অনুসরণ করে আর নফসের অনুসরণ করার কারণে তাদের কাজ বা তাদের আমলগুলি সম্মানিত শরীয়ত উনার খিলাফ হয় এমন ব্যক্তিদেরকে তোমরা অনুসরণ অনুকরণ করবে না। তাদের থেকে দূরে থাকবে।”
সম্মানিত শরীয়ত উনার খিলাফ কাজ কি? যেমন, পর্দা করা ফরয আর বেপর্দা হওয়া হারাম। এখন যারা বেপর্দা হবে মহিলাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে উঠা-বসা করবে তারা অনুসরণের অযোগ্য।
আবার সম্মানিত শরীয়ত উনার ফতওয়া হলো প্রাণীর ছবি তোলা হারাম। এই হারাম কাজ যারা করবে তারা জাহান্নামী। এই জাহান্নামী হওয়ার আমল তথা যারা ছবি তুলবে তারাও অনুসরণের যোগ্য নয়। এমনিভাবে যারা সম্মানিত শরীয়ত উনার খিলাফ কাজ তথা তন্ত্রমন্ত্র করা, হরতাল করা, লংমার্চ করা, টিভি চ্যানেলে প্রোগ্রাম করা, নেশা করা ইত্যাদি কাজ যারা করবে তাদেরও অনুসরণ করা যাবে না। কেননা উপরোক্ত কাজগুলো সম্মানিত কুরআন শরীফ, সম্মানিত হাদীছ শরীফ, ইজমা শরীফ ও কিয়াস শরীফ উনাদের সম্পূর্ণ খিলাফ ও কঠিন গুনাহের কাজ।
তাই প্রত্যেককে ইহকাল ও পরকালে নাজাত অন্বেষণকারী ব্যক্তিবর্গের জন্য ফরয-ওয়াজিব হবে সম্মানিত শরীয়ত উনাকে যারা মানেন উনাদেরকে অনুসরণ করা। আর যারা সম্মানিত শরীয়ত উনাকে মানে না, তাদের থেকে দূরে থাকা। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে সেই তাওফীক দান করুন।

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে