অন্তর বা ক্বলব থেকে দুনিয়ার মুহব্বত দূর না করা পর্যন্ত হাক্বীক্বী ঈমানদার হওয়া যায় না


নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “দুনিয়ার মুহব্বত সমস্ত গুনাহের মূল, দুনিয়ার মুহব্বত তরক করা সমস্ত ইবাদতের মূল।” সুবহানাল্লাহ!
প্রত্যেক আদম সন্তানের অন্তরে দুনিয়ার মুহব্বত থাকে, দুনিয়ার মুহব্বত অন্তরে থাকলে ইচ্ছা অনিচ্ছায় মানুষ দুনিয়ার দিকে ঝুঁকে যায়। মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের থেকে দূরে সরে যায়। নাউযূবিল্লাহ! এই দুনিয়ার মুহব্বত যদি অন্তর থেকে বের করে দেওয়া যায় তাহলে ইচ্ছা অনিচ্ছায় উনাদের দিকে সে রুজু হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ! এই দুনিয়ার মুহব্বত বের করার জন্য অলীআল্লাহ উনাদের কাছে বাইয়াত হতে হয়। বাইয়াত হয়ে যিকির আযকার করে অন্তর বা ক্বলব পরিশুদ্ধ করতে হয়। তাহলেই অন্তর থেকে দুনিয়ার মুহব্বত বের হয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুহব্বত অন্তরে পয়দা হয়। তখন তার পক্ষে সব সময় নেক কাজ করা সম্ভব হয়। এই সম্পর্কে সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণনা করা হয়েছে, হযরত হারেসা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি একদিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে বিনীত নিবেদন করলেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি যথার্থ মু’মিন হতে পেরেছি বলে মনে করি।” এতে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার কাছে জানতে চাইলেন এর প্রমান কি? হযরত হারেসা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সবিনয়ে জানালেন, দুনিয়ার মোহ আমার অন্তর থেকে এমনভাবে পলায়ন করেছে যে, আমার দৃষ্টিতে স্বর্ণ ও রৌপ্যের মধ্যে কোন পার্থক্য সূচিত হয়না। উভয় বস্তুই আমার কাছে সমান তুচ্ছ। জান্নাত এবং জাহান্নাম আমি দিব্য চোখে দেখতে পাই। একথা শুনে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, “ঈমানের যে সোপানে আপনার উপনীত হওয়া প্রয়োজন ছিল, সে সোপানে আপনি উপনীত হয়েছেন। এখন সযতেœ এ ঈমানকে হিফাযত করুন।” সুবহানাল্লাহ! অন্তর বা ক্বলব পরিশুদ্ধ হলে হাক্বীক্বী ঈমানদার হওয়া যায় এবং দুনিয়ার মুহব্বত, ধনসম্পদের মুহব্বত সব দূর হয়ে যায়।
মহান আল্লাহ পাক তিনি যেনো আমাদেরকে ক্বলব পরিশুদ্ধ করার জন্য এবং হাক্বীক্বী ঈমানদার হওয়ার জন্য যামানার মহান মুজাদ্দিদ মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সঙ্গী হওয়ার তাওফীক্ব দান করেন। আমীন!

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে