অমঙ্গল শোভাযাত্রা একটা শেরেকী অনুষ্ঠান যা করলে মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে শিরক করা হবে


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে ১৯৮৯ সাল থেকে শুরু হয় অমঙ্গল শোভাযাত্রা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে শোভাযাত্রা বের করে। শোভাযাত্রায় থাকে বিশালাকার চারুকর্ম পাপেট, হাতি ও ঘোড়াসহ বিভিন্ন পশুর সাজসজ্জা, থাকে বাদ্যযন্ত্র। বৈশাখী উৎসবের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো এই অমঙ্গল শোভাযাত্রা। এই অমঙ্গল শোভাযাত্রা স্পষ্ট একটি হিন্দুয়ানী ও শিরকী সংস্কৃতি।
অমঙ্গল শোভাযাত্রায় পেঁচা, ময়ূর ও বিভিন্ন প্রাণীর বিকৃত মুখোশ, যা মূর্তিরই নামান্তর, তা নিয়ে মিছিল করা হয়। এটা ভারতীয় গোঁড়া ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় বিশ্বাসের মৌলবাদী কুসংস্কৃতির প্রতিফলন। তারা ধারণা করে- পেঁচা ও বিভিন্ন বিকট মুখোশগুলো সব মঙ্গলের (প্রকৃতপক্ষে অমঙ্গলের) প্রতিচ্ছবি। বছরের প্রথম দিনে এদেরকে নিয়ে শোভাযাত্রা করলে তারা খুশি হবে এবং সারা বছর তারা এই শোভাযাত্রীদেরকে আর উৎপাত করবে না। নাউযুবিল্লাহ!
এই বিশ্বাস মুসলমানদের নয়। কারণ মুসলমানদের বিশ্বাস হলো- আমাদের খায়র-বরকত একমাত্র মহান আল্লাহ পাক তিনিই করতে পারেন; অন্য কেউ নয়। অন্য কোনোভাবে নয়। কোনো শোভাযাত্রার মাধ্যমে নয়, কোনো প্রদীপ জ্বালিয়েও নয়। যে বিষয় সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- “অতএব, পরবর্তী ও পূর্ববর্তী সব খায়র-বরকত মহান আল্লাহ পাক উনার হাত মুবারকে।” (পবিত্র সুরা সূরা নজম শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২৫)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- “হে মহান আল্লাহ পাক আপনি ছাড়া কেউ কল্যাণ দিতে পারে না, আপনি ছাড়া কেউ খায়র-বকত ও দুরবস্থা দূর করতে পারে না। ক্ষমতা ও শক্তির আধার একমাত্র আপনি।” (পবিত্র আবু দাউদ শরীফ)
জীবজন্তুর ছবি আঁকা যেখানে নিষিদ্ধ, সেখানে জীবজন্তুর মূর্তি বানিয়ে বর্ষবরণ বা যে -কোনো অনুষ্ঠানকে চমকপ্রদ করে তোলা কোনো মুসলমানের পক্ষে আদৌ সম্ভব নয়। ঢোল-বাদ্যসহকারে অমঙ্গল শোভাযাত্রা ও ইসলাম ও মুসলিম তাহযীব তমাদ্দুন সঙ্গে আদ্যোপান্ত সঙ্গতিহীন। এসবই আমাদের মুসলিম জাতীয় চেতনার পুরোপুরি পরিপন্থী। আমাদের সরলমতি যুবক-যুবতীরা জানে না, এসবের মধ্যদিয়ে একটি গভীর চক্রান্ত সক্রিয় রয়েছে, যার মূল হলো এতদ্দেশীয় মুসলমানকে এমনভাবে ভ্রষ্ট ও বিভ্রান্ত করা, যাতে তারা নিজেরাই নিজেদের স্বকীয়তাকে মুছে দিতে পারে। নাউযুবিল্লাহ!
অতএব, অমুসলিমদের উৎসব-অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া এবং তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তাদের উৎসব-অনুষ্ঠানের সাথে একমত পোষণ করার অর্থ কুফরের সাথে একমত পোষণ করা। নাউযুবিল্লাহ!
কেউ যদি এ ধারণা পোষণ করে যে, নববর্ষের প্রারম্ভের সাথে কল্যাণের কোনো সম্পর্ক রয়েছে, তবে সে শিরকে লিপ্ত হলো। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে অংশীদার স্থির করলো। আর শিরক এমন অপরাধ যে, শিরকের উপর কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে মহান আল্লাহ পাক তিনি তার জন্য জান্নাতকে চিরতরে হারাম করে দেবেন।

Views All Time
2
Views Today
4
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে