অমুসলিম জাতিসমূহের বংশপরম্পরায় পালনীয় বিশেষায়িত মুসলিমবিরোধী খাদ্যাভ্যাস-সংস্কৃতি-পোশাকরীতি ও মুসলমানদের করণীয়


অস্ট্রেলিয়ার সিডনি রাজ্যের লিভারপুল শহরে একটি ‘আন্তঃধর্মীয় সম্মেলনে’র আয়োজন করেছিল লিভারপুল সিটি কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ। সম্মেলনে আগতদের মধ্যে মুসলিম অতিথি থাকায় খাবারের মেন্যুতে স্বাভাবিকভাবেই শুকরের গোশত রাখা হয়নি। কিন্তু তাতে করে ফুঁসে উঠে উক্ত এলাকার মেসিডোনিয়ান খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যরা। স্থানীয় পত্রিকা ‘সিডনি মর্নিং হেরাল্ড’-এ প্রকাশিত হয় যে, মেসিডোনিয়ার খ্রিস্টানদের নিকট শুকরের গোশত ছিল তুর্কী শাসনের অধীনে থেকে নিজেদের খ্রিস্টত্ব টিকিয়ে রাখার মাধ্যম। তাই তারা কিছুতেই মুসলমান অতিথিদের জন্য শুকরের গোশত বাদ দেয়ার বিষয়টি মেনে নেবে না। (http://bit.ly/2M61N4p)

উল্লেখ্য, পূর্ব ইউরোপের মেসিডোনিয়া ছিল ৫০০ বছর ধরে তুর্কী উসমানীয় সাম্রাজ্যের অধীন। স্বাভাবিকভাবেই উক্ত এলাকার প্রশাসন-পরিবেশে যে ইসলামী আবহ বিরাজ করত, সেই ইসলামী আবহের প্রতি ঘৃণা বজায় রেখে নিজেদের খ্রিস্টত্ব ধরে রাখতে উক্ত এলাকার অর্থোডক্স খ্রিস্টানরা শুকরের গোশত ভক্ষণ করতো। ঠিক একই ধরণের ইসলামবিরোধী প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছিল উপমহাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়। প্রাবন্ধিক নীরদ চৌধুরী তার ‘আত্মঘাতী বাঙালী’ গ্রন্থের ৫০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছে “বাঙালি হিন্দু পুরুষ ইংরেজ রাজত্বের আগে একমাত্র মুসলমান নবাবের কর্মচারী হইলে মুসলমানী পোষাক পরিত, উহা অন্দরে লইয়া যাওয়া হইত না। বাহিরে বৈঠকখানার পাশে একটা ঘর থাকিত, সেখানে চোগা-চাপকান-ইজার ছাড়িয়া পুরুষেরা ধুতি পরিয়া ভিতরের বাড়িতে প্রবেশ করিত। তাহার প্রবেশদ্বারে গঙ্গাজল ও তুলসীপাতা থাকিত, ম্লেচ্ছ পোষাক পরিবার অশুচিতা হইতে শুদ্ধ হইবার জন্য পুরুষেরা গায়ে গঙ্গাজল ছিটাইয়া মাথায় একটা দুইটা তুলসীপাতা দিত।”

অর্থাৎ মুসলিম শাসনামলে বাহিরে মুসলমানী পোষাক পরলেও হিন্দুরা বাসায় গিয়ে গায়ে গঙ্গার পানি (মূলত গো-চনা মিশ্রিত পানি) ছিটাতো ও ইসলামী পোষাক ত্যাগ করে ধুতি পরিধান করতো হিন্দুত্ব বজায় রাখার স্বার্থে। এজন্য অর্থোডক্স খ্রিস্টানদের নিকট শুকরের গোশতের ন্যায় হিন্দুদের নিকট গোবরচনা ও ধুতি-নেংটি আজও বিশেষ স্থান দখল করে রয়েছে। উল্লেখ্য, কাফির-মুশরিকদের প্রতিটি সামাজিক রীতি ও খাদ্যাভ্যাস এমনভাবে তারা তৈরী করে নিয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে মুসলিমবিরোধী মনোভাব তারা ধরে রাখতে পারে। আফসোসের বিষয়, মুসলমানদের এধরণের কোনো কার্যক্রম বা পরিকল্পনা কিছুই নেই।

অথচ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত মদীনা শরীফ-এর ইহুদীদের দ্বারা আশুরা শরীফ-এ ১টি রোযা রাখার বিপরীতে ২টি রোযা রাখার শরীয়ত জারি করেছিলেন। অর্থাৎ কাফির-মুশরিকদের বিরোধিতা করতে বিশেষায়িত রীতি-নিয়ম পালন মূলত খাছ সুন্নত তথা ফরয উনারই অন্তর্ভূক্ত, কারণ সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মাঝে সরাসরি নির্দেশ মুবারক প্রদান করা হয়েছে যে, “তোমরা ইহুদী-খ্রিস্টানদের খিলাফ করো”।

এধরণের বিশেষায়িত কার্যক্রমের অনুপস্থিতির কারণেই কিন্তু মুসলমানরা অনায়াসে বিধর্মীদের রীতিনীতি গ্রহণ করে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যায়। নাউযুবিল্লাহ! স্পেনের খ্রিস্টানরা ৮০০ বছর মুসলিম শাসনের অধীনে থেকেও খ্রিস্টত্ব বজায় রেখেছিল, বিপরীতে উপমহাদেশের মুসলমানরা সিপাহী বিদ্রোহের পর মাত্র ৯০ বছর ব্রিটিশ শাসনের অধীনে থেকেই খোল-নলচে পাল্টে একেবারে খ্রিস্টান-হিন্দু বনে গিয়েছে। নাউযুবিল্লাহ! কাফির-মুশরিকরা প্রতিদিন একাধিক বই রচনা করে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন করে, শান মান মুবারক উনার খিলাফ করে। নাউযুবিল্লাহ! মুসলমানদের লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রতিদিন কমপক্ষে ১ হাজার বই কাফির-মুশরিকদের বিরুদ্ধে রচনা করা।

কারণ কাফির-মুশরিকদের বিরুদ্ধে বিশেষায়িত বইপত্র ও রীতি-নিয়মের অনুপস্থিতির কারণে ইউরোপ-আমেরিকার ন্যায় যেসব দেশে মুসলমানরা সংখ্যালঘু, তারা অনায়াসে কাফির হয়ে যাচ্ছে। আর বাংলাদেশের ন্যায় যেসব দেশে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ, তারাও এখন নিজেদের মুসলমানিত্ব রক্ষায় হিমশিম খাচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ!

Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে