অশুভ বা কুলক্ষণ বিশ্বাস করা কুফরী


ফক্বীহুল উম্মত হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেন। মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, الطيا رة شرك قاله ثلاثا অর্থ: “কোনো কিছুকে অশুভ বা কুলক্ষণ মনে করা কুফরী।” তিনি এই বাক্য মুবারক তিনবার উল্লেখ করেছেন। (তিরমিযী শরীফ, মুসনাদে আহমদ ইবনে হাম্বল ১/৩৮, শরহুস সুন্নাহ, ৬/২৭৪, মিশকাত শরীফ ৩৯২, শরহুত ত্বীবী ৮/৩২) কাজেই কোনো কিছুকে অশুভ বা কুলক্ষণে মনে করা যাবে না। তবে ভালো লক্ষণ আছে। ভালো বলা যাবে। বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছি তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, لا طيارة وخيرها الفال قالوا وما الفال قال الكلمة الصا لحة يسمعها احدكم অর্থ: “তোমরা কোনো বিষয়কে অশুভ বা কুলক্ষণে মনে করো না। তবে শুভ বা ভালো লক্ষণ আছে। (তা বলা যেতে পারে।) হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারা আরজ করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! শুভ লক্ষণ কি? তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, উত্তম কথা, যা আপনাদের মধ্যে কেউ শুনতে পান।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ ৩৯১, শরহুত ত্বীবী, ৮/৩১৩, শরহুস সুন্নাহ ৬/২৭২) কেউ বিপদগ্রস্ত, রোগাক্রান্ত কিংবা মুছিবতগ্রস্ত হলে, চিন্তা-পেরেশানীতে থাকলে এমন অবস্থায় কোনো কোনো সময় কেউ কেউ সুসংবাদ বা উত্তম খবর শুনতে পায়। তার প্রশংসা কিংবা রোগ মুক্তি বা বিপদ দূরীভূত হওয়ার কথা শুনতে পায়, যা তার ইতমিনানের কারণ হয়। এই সংবাদ বা সান্তনার বাণী বহন করেন, সেই যুগের গাউছ, কুতুব, ওলী-আবদাল, রেজালুল গায়িব (লোক চক্ষুর অন্তরালে অবস্থানকারী ব্যক্তিত্বগণ) এমনকি হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালামগণ তা বহন করে থাকেন। কখনো খোলা মাঠে, জন-মানবহীন শূন্যস্থানে আওয়াজ শুনতে পায়। এসব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পক্ষ থেকে বান্দা ও উম্মতের জন্য তাৎক্ষণিক পুরস্কার। দয়া, দান, ইহসান। এসব বিষয় সত্য ও ভালো লক্ষণ। কাজেই ভালো লক্ষণ গ্রহণ করা, মনে করা যাবে। কিন্তু খারাপ লক্ষণ, কুলক্ষণ মনে করা জায়িয নেই। বরং হারাম ও কুফরী।

 

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে