অশ্লীলতা ও বিকৃতরুচিতে ভরপুর মূর্তিপূজকদের গোটা সমাজজীবন


“সেকালে বাঙালীদের (মূর্তিপূজকদের) মধ্যে ‘শাশুড়ে’ এবং ‘বৌও’ বলিয়া দুটি গালি শোনা যাইত, উহার প্রথমটির অর্থ শাশুড়িরত, ও দ্বিতীয়টির অর্থ পুত্রবধূরত। শ্বশুর-পুত্রবধূর ব্যাপার সম্ভবত খুব কমই দেখা যাইত, কিন্তু শাশুড়ি-জামাই ঘটিত ব্যাপার বিরল ছিল না।” (সূত্র: বাঙালি জীবনে রমণী, নীরদ সি চৌধুরী, পৃষ্ঠা ৬৭)
প্রাবন্ধিক নীরদ সি চৌধুরী বাঙালি মূর্তিপূজকদের মধ্যে প্রচলিত শাশুড়ি-মেয়েজামাইয়ের ব্যভিচার নিয়ে শুধু তার একটি বইতে নয়, বরং তার তিন-তিনটি বইতে এ আলোচনা করেছে। তার অন্য দুটি বই ‘আত্মঘাতী বাঙালী’ ও তার ইংরেজিতে লেখা আত্মজীবনী ‘অঁঃড়নরড়মৎধঢ়যু ড়ভ ধহ ঁহশহড়হি রহফরধহ’ এর দ্বিতীয় খ-েও এই একই বিষয় নিয়ে সে আলোচনা করেছে। শেষোক্ত দুটি বইতে সে তার বক্তব্যের স্বপক্ষে উদাহরণ দিতে গিয়ে তার বন্ধু ঔপন্যাসিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক ক্লাসমেটের উদাহরণ টেনেছে, যে কিনা তার শাশুড়িকে নিয়ে গ্রামের শ্বশুরবাড়ি থেকে পালিয়ে কলকাতায় গিয়ে উঠেছিল।
তৎকালীন সময়ে কলকাতার থিয়েটারগুলোতে যেসব মেয়ে অভিনয় করত, গান গাইত এবং নাচতো তারা আক্ষরিক অর্থেই ‘পতিতা’ ছিল। এমনকি কলকাতার প্রথমদিককার সিনেমা অভিনেত্রীরাও ছিল পতিতালয় থেকে আগত। যে কারণে বাঙালি মূর্তিপূজকদের সমাজজীবন থেকে শুরু করে কর্মজীবন, প্রত্যেকটি স্থানেই তাদের বিকৃতরুচি মাথাচাড়া দিয়ে উঠত। নীরদ সি চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেছে “ইহার উপর রসিকতা চাপিলে তো কথাই নাই। তখন যে-কোনও বস্তুর উল্লেখ নরনারীর সঙ্গমের প্রতীক হইয়া দাঁড়াইত। প্রেসে কাজ করিলে ‘লেড’ ও ‘স্পেস’ বলিবার উপায় ছিল না, কেরানীগিরি করিলে দোয়াত-কলমের উল্লেখ করিলে সকলে হাসিত। এ-রকম কত বলিব! (সূত্র: বাঙালী জীবনে রমণী, পৃষ্ঠা ৭৩)
এই মূর্তিপূজারীদের সমাজেরই প্রতিনিধিত্ব করতো রবীন্দ্র, যার পৈতৃক সম্পত্তির মধ্যে ছিল কলকাতায় অবস্থিত ৪৩টি পতিতালয়। তবে এদেশের মূর্তিপূজকদেররা কলকাতার ন্যায় তাদের অনুকূল পরিবেশ না পাওয়ার কারণে কর্মক্ষেত্রে লোকদেখানো ভদ্র আচরণ করছে এবং ইন্টারনেটকে তারা বেছে নিয়েছে তাদের গালিগালাজ চর্চার ক্ষেত্র হিসেবে। নাউযুবিল্লাহ!

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে