অসাম্প্রদায়িকতা এবং কাফির-মুশরিক-মুনাফিকদের ধোঁকাবাজি


অসম্প্রদায়িকতা শব্দের অর্থ হলো কারো কোনো নিজস্ব সম্প্রদায় বা দল নেই, সবাই একই দল বা সম্প্রদায় বা মতের অন্তর্ভুক্ত। আসলেই কি সবাই অসাম্প্রদায়িক অর্থাৎ কারো কোনো দল, মত বা সম্প্রদায় নেই-বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখা যাক। সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “যে যে সম্প্রদায় বা দলের সাথে মিল রাখে, সে সেই সম্প্রদায় বা দলের অন্তর্ভুক্ত। এখন যদি মুসলমান দাবি করার পরও মুশরিকদের পূজায় যায়, পহেলা বৈশাখ পালন করে, খ্রিস্টানদের ন্যায় কোর্ট, টাই, প্যান্ট পরেন, তাহলে আপনি তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেলেন। অথচ একজন মুসলমান হিসেবে আপনার উচিত ছিল সম্মানিত শরীয়ত উনার হুকুম-আহকামের প্রতি ইস্তিকামত থাকা। কোন বিধর্মীকে কি দেখাতে পারবেন, তারা মুসলমানদের কোনো উৎসব পালন করে? তারা কি মুসলমানদের অনুসরণে নামায পড়ে, রোযা রাখে, পবিত্র শবে বরাত-পবিত্র শবে কদর পালন করে, তাহলে তারা কি করে অসাম্প্রদায়িক হতে পারে। এছাড়া এক বিধর্মীও আরেক নিয়ম-নীতি পালন করে না। একজন গোঁড়া ইহুদী কখনো খ্রিস্টানদের টাই পরে না। ইউরোপের শতবর্ষব্যাপী যুদ্ধের ইতিহাস পড়ে দেখুন, সেখানে নিজস্ব মতকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য ইহুদী-নাছারারা একে অপরের সাথে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। এছাড়া খ্রিস্টানদের বিভিন্ন দল-উপদল শত শত বর্ষব্যাপী যুদ্ধে লিপ্ত থেকেছে। অর্থাৎ নিজের জীবন থেকে তারা তাদের সাম্প্রদায়িকতাকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছে। ধর্মের কথা বাদই দিলাম। এক রাজনৈতিক দল আরেক রাজনৈতিক দলের মতকে সহ্য করতে পারে না। এক রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় গেলে বিরোধী দলকে দমন করার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করে। তাহলে দেখা যাচ্ছে- কেউই অসাম্প্রদায়িক নয়। প্রত্যেকেরই নিজস্ব সম্প্রদায়, দল, মত, ঐতিহ্য, ধ্যান-ধারণা রয়েছে। তাহলে অসাম্প্রদায়িকতা নিয়ে এত বেশি আলোচনা হচ্ছে কেন? মূলত, অসাম্প্রদায়িকতা হচ্ছে মুসলমানদের ধোঁকা দেয়ার সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র। একজন মুসলমান হিসেবে আপনাকে সরাসরি পূজায় যেতে বলা হচ্ছে না; ববং আপনাকে বোঝানো হচ্ছে আপনি যদি নিজেকে অসাম্প্রদায়িক দাবি করেন, তাহলে আপনাকে পূজায় যেতে হবে। কিন্তু কাফির-মুশরিকদের উচ্ছ্বিষ্টভোগী ফুটপাতের লোকগুলি কিন্তু অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলে বিধর্মীদের উপদেশ দিচ্ছে না যে, সব বিধর্মীদের নামায পড়তে হবে, রোযা রাখতে হবে, পবিত্র শবে বরাত, পবিত্র শবে ক্বদর পালন করতে হবে। এখানে কিন্তু তাদের কথিত অসাম্প্রদায়িকতা নেই- এখানে তারা পুরোই সাম্প্রদায়িক। এখন বুঝুন তাদের অসাম্প্রদায়িকতা শুধু মুসলমানদের দ্বারা বিধর্মীদের নিয়ম-নীতি-উৎসব পালন করানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ। তাই কাফির-মুশরিক এবং তাদের উচ্ছ্বিষ্টভোগী মুসলিম নামধারী মুনাফিকদের থেকে সাবধান। একজন মুসলমান কখনোই অসাম্প্রদায়িক হতে পারেন না।

Views All Time
2
Views Today
3
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে