আকরামুল আউওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি তা’যীম প্রদর্শনে ব্যর্থ বা উনাদের আযীমী শান মুবারক বিরোধী আচরণকারীদের জন্য ইহকাল-পরকাল উভয় কালেই লাঞ্ছনা-গঞ্জনা এবং কঠিন শাস্তি


কাফিল পাদ্রী নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক উনার সাথে বেয়াদবী করার কারণে তার উপর সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার গযব নাযিল হয়েছে। সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উসীলা করে ক্ষমা প্রার্থনা করার কারণে তাকে ক্ষমা করা হয়েছে।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে বেয়াদবী করার কারণে আবু লাহাবের বিরুদ্ধে মহান আল্লাহ পাক একখানা সূরা শরীফ নাযিল করেন। সে পচে গলে, লাঞ্ছিত হয়ে কুকুর ও শিয়ালের আহার্যরূপে কঠিন যন্ত্রণা পেয়ে মৃত্যুমুখে পতিত হয়।
কিতাবে আরো উল্লেখ করা হয়, এক মজলিসে উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার শান মুবারক আলোচনা করা হলো। সেই মজলিসে নেককার দাবিদার এক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলো। কিন্তু প্রতিবাদ করার সামর্থ্য থাকার পরও সে কোনো প্রতিবাদ করেনি। ওই রাত্রে নেককার দাবিদার সেই ব্যক্তি স্বপ্ন দেখতে লাগলো যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অত্যন্ত জালালী শান মুবারক নিয়ে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেছেন। তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার শান মুবারক বিরোধী আলোচনার প্রতিবাদ করার সামর্থ্য থাকার পরও তুমি প্রতিবাদ করলে না কেন? প্রতিবাদ করার সামর্থ্য ছিলো না বলে সে মিথ্যা বললো। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ হযরত ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম উনার শান মুবারক বিরোধী আলোচনার প্রতিবাদ করার সামর্থ্য থাকার পরও প্রতিবাদ না করার কারণে তুমি অন্ধ হয়ে যাবে। সত্যিই জাগ্রত হয়ে সেই ব্যক্তি নিজেকে অন্ধ অবস্থায় পেলো। নাউযুবিল্লাহ!
অনুরূপভাবে সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি বিদ্বেষ থাকার কারণে এবং উনাদেরকে কষ্ট দেয়ার কারণেও অনেকের উপর সরাসরি আযাব-গজব নাযিল হয়েছে। পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে, “হযরত আবু রজা রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে এবং হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে গাল-মন্দ করো না। বনু জুহাইম গোত্রের আমাদের এক প্রতিবেশী কুফা হতে ফিরে এসে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনাকে ফাসিকের ছেলে ফাসিক বলে গালি দিলো। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! সে বললো, উনাকে হত্যা করা হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! বর্ণনাকারী বলেন, তখন মহান আল্লাহ পাক সেই নরাধমের চোখে দুটি উল্কা নিক্ষেপ করলেন, (আসমান থেকে দুটি উল্কা এসে তার চোখে আঘাত করলো) তৎক্ষণাত সে অন্ধ হয়ে গেল। (আহমদ শরীফ, তাবারনী)
কিতাবে আরো উল্লেখ করা হয়, কারবালার ঘটনার সাথে জড়িত এক ব্যক্তি হঠাৎ অন্ধ হয়ে যায়। তাকে তার অন্ধত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে সে বলে, এক রাত্রে সে স্বপ্নে দেখে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাত মুবারকে একখানা লাঠি। উনার সামনে কারবালার ঘটনার সাথে জড়িত দশজনের কর্তিত মাথা পড়ে রয়েছে। তিনি স্বপ্ন দ্রষ্টাকে লক্ষ্য করে বললেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করার কাজে সম্পৃক্ত থাকায় তুই অন্ধ হয়ে যাবি। এ বলে তিনি উনার লাঠি মুবারক দ্বারা তার চোখে দুটি আঘাত করেন। ফলশ্রুতিতে তৎক্ষণাত সে অন্ধ হয়ে যায়। (জাওযী)
মূল কথা হলো, যারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি যথাযথ তা’যীম তাকরীম প্রদর্শন করবে না, উনাদের আযীমী শান মুবারক বিরোধী আচরণ করবে, উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে, উনাদেরকে কষ্ট দিবে, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উনাদের শান মুবারক বিরোধী কার্যকলাপে সমর্থন দিবে, সাধ্য অনুযায়ী প্রতিবাদ করবে না, তাদের জন্য পরকালে কঠিন শাস্তি তো আছেই এমনকি দুনিয়াতেই তারা আযাব-গজবে পর্যদুস্ত হয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।
কাজেই, সকলকে সর্বদা সজাগ ও সচেতন থাকতে হবে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে সর্বাধিক মুহব্বত করতে হবে। উনাদেরকে সর্বাধিক মুহব্বত করার এবং উনাদের শান মুবারক বিরোধী কার্যক্রম হতে সার্বিকভাবে হিফাযত থাকার তাওফীক্ব মহান আল্লাহ পাক তিনি সকলকে নসীব করুন। আমীন।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে