সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দু:খিত। ব্লগের উন্নয়নের কাজ চলছে। অতিশীঘ্রই আমরা নতুনভাবে ব্লগকে উপস্থাপন করবো। ইনশাআল্লাহ।

আকরামুল আউওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি তা’যীম প্রদর্শনে ব্যর্থ বা উনাদের আযীমী শান মুবারক বিরোধী আচরণকারীদের জন্য ইহকাল-পরকাল উভয় কালেই লাঞ্ছনা-গঞ্জনা এবং কঠিন শাস্তি


إِنَّ شَانِئَكَ هُوَ الْأَبْتَرُ
অর্থ: “আপনার শান মুবারক বিরোধীরাই নির্বংশ তথা লাঞ্চিত ও অপমানিত।” (পবিত্র সূরা কাওছার শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ-৩)

অর্থাৎ যে বা যারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি যথাযথ তা’যীম প্রদর্শন করবে না এবং উনার আযীমী শান মুবারক বিরোধী আচরণ করবে, তাদের জন্য ইহকাল-পরকাল উভয় কালেই লাঞ্ছনা-গঞ্জনা এবং কঠিন শাস্তি রয়েছে। একইভাবে যারা মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কষ্ট দিবে, তাদের জন্যও ইহকাল-পরকাল উভয় কালেই লাঞ্ছনা-গঞ্জনা এবং কঠিন শাস্তি রয়েছে। কেননা, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

إِنَّ الَّذِينَ يُؤْذُونَ اللّـهَ وَرَسُولَهُ لَعَنَهُمُ اللّـهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَأَعَدَّ لَهُمْ عَذَابًا مُّهِينًا

অর্থ: “নিশ্চয়ই যারা মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকে কষ্ট দিবে, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাত উভয় কালে লা’নত। এবং (পরকালে) তাদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে যন্ত্রণাদায়ক কঠিন আযাব।” (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ-৫৭)

অর্থাৎ যারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি যথাযথ তা’যীম তাকরীম মুবারক প্রদর্শন করবে না, উনাদের আযীমী শান মুবারক উনার বিরোধী আচরণ করবে, উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে, উনাদেরকে কষ্ট দিবে, তারা কখনোই নাজাত লাভ করতে পারবে না। বরং তাদের জন্য ইহকাল-পরকাল উভয় কালেই লাঞ্ছনা-গঞ্জনা এবং কঠিন শাস্তি রয়েছে। এমনকি দুনিয়াতেই তারা খোদায়ী গজবে আক্রান্ত হয়ে লাঞ্ছিত ও অপমানিত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে। নাউযুবিল্লাহ! দুনিয়াতে সে যতই ইবাদত করুক না কেন, তার কোনো আমল কোনো কাজে আসবে না। নাউযুবিল্লাহ!

কেননা, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ الله تَعَالـى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ الله صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْ اَنَّ رَجُلًا صَفَّ بَيْنَ الرُّكْنِ وَالْـمَقَامِ فَصَلّى وَصَامَ ثُـمَّ لَقِىَ اللهَ وَهُوَ مُبْغِضٌ لّاَهْلِ بَيْتِ سيدنا حبيبنا مُحَمَّدٍ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ النَّارَ.
অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, কোনো ব্যক্তি যদি সম্মানিত রুকন ইয়ামেন এবং মাক্বামে ইবরাহীম শরীফ উনাদের মধ্যবর্তী স্থানে সারিবদ্ধ হয়ে থাকে। অতঃপর নামায পড়ে এবং রোযা রাখে। অতঃপর এই অবস্থায় তার মৃত্যু হয় যে, সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, তাহলে সে অবশ্যই জাহান্নামে প্রবেশ করবে।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (যাখাইরুল ‘উক্ববা লিমুহিব্বে ত্ববারী ১/১৮, খ¦ছায়িছুল কুবরা ২/৪৬৫)

অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একদা আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবা মুবারক দিলেন এবং বলতে থাকলেন যে, হে লোক সকল! যারা আমার হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করলো, উনাদের বিরোধিতা করলো, তাদের হাশর-নশর হবে ইহুদীদের সাথে। আমি আরজ করলাম, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যদিও তারা রোযা রাখে এবং নামায পড়ে? উত্তরে তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, হ্যাঁ! যদিও তারা রোযা রাখে, নামায পড়ে এবং দাবি করে যে, তারা মুসলমান। (তা সত্ত্বেও হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের বিরোধিতা করার কারণে, উনাদের শত্রু হওয়ার কারণে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদের সমস্ত ইবাদত বিনষ্ট করে দিয়ে তাদেরকে ক্বিয়ামতের দিন ইহুদীদের দলভুক্ত করে উঠাবেন।)” নাউযুবিল্লাহ! (জামিউল আহাদীছ লিস সুয়ূত্বী ১০/৪৭৫, তারীখে জুরজান ৩৬৯ পৃষ্ঠা)

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে