আখেরী চাহার শোম্বাহ একটি বিশেষ আইয়্যামুল্লাহ সুবহানাল্লাহ।


আখেরী চাহার শোম্বাহ কি ? এটা কি ইসলামী দিবস ?

 

হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে আহলে বাইত শরীফ আলাইহিন্নাস সালাম ও হযরত সাহাবায়েকিরাম রদ্বীয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগনের একটি স্মৃতি বিজড়িত বরকতময় দিন আখেরী চাহার শোম্বাহ ।সুবহানাল্লাহ

আখেরী শব্দের অর্থ – শেষ আর চাহার শোম্বাহ শব্দের অর্থ ফার্সী ভাষায় বুধবার । অর্থাৎ ১১ হিজরী শরীফ উনার সফর মাসের শেষ বুধবার আখেরী চাহার শোম্বাহ উদযাপন করা হয়। অবশ্যই এটা একটা ইসলামী দিবসসমুহের একটি অন্যতম দিন।
আখিরী রসূল হাবীবুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দীর্ঘদিন অসুস্থতা অনুভব করার পর পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ’র (সফর মাসের শেষ বুধবার) সকালে সুস্থতা অনুভব করেন।ঐদিন তিনি হযরত উম্মুল মো’মেনীন সিদ্দিকা আলাইহাস সালাম উনার হুজরা শরীফে ছিলেন। মাথা মুবারক উনার ব্যথা একটু কম অনুভূত হলে তিনি গোছল করেন। অতঃপর গোসল করতঃ তিনি খানা তৈরী আছে কিনা জিজ্ঞাসা করলেন । হযরত উম্মুল মো’মেনীন সিদ্দিকা আলাইহাস সালাম জানালেন রুটি ও গোস্ত মজুদ আছে । তিনি তা পরিবেশন করলেন এবং আহলে বাইতগনের অন্যতম সদস্য হযরত জাহরা আলাইহাস সালামসহ আওলাদে রাছুল ইমামুছ ছানি-ইমামুস ছালিস আলাইহিস সালাম ও উম্মুল মো’মেনীন আলাইহিন্নাস সালামগন উনার সবাই সেখানে হাজির হলেন। তিনি সবাইকে  সাথে নিয়ে নাস্তা করেন। অতঃপর হযরত সাহাবায়ে কিরামগণের খোঁজ-খবর নেন এবং খুশি প্রকাশ করে মসজিদে নববী শরীফে যান।
আখিরী রসূল হাবীবুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুস্থতা অনুভব দেখতে পেয়ে সাহাবীগণ অত্যন্ত আনন্দিত হন। এজন্য উনারা মহান আল্লাহ’র দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন এবং সে উপলক্ষে সাধ্যমতো আখিরী রসূল হাবীবুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’র খিদমতে হাদিয়া তোহফা দেন। এছাড়া গরিব-মিসকিনদেরকেও দান সদকা করেন। সেক্ষেত্রে হযরত আবু বকর সিদ্দিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সাত হাজার দিনার, হযরত উমর ফারুক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু পাঁচ হাজার দিনার, হযরত উছমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু দশ হাজার দিনার, হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিন হাজার দিনার এবং আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু একশত উট ও একশত ঘোড়া হাদিয়া করেন।
তবে উক্ত দিনের শেষ প্রান্তে আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পুনরায় অসুস্থতা অনুভব করেন এবং তা নিয়েই পবিত্র ১২ই রবীউল আউয়াল শরীফ সোমবার তারিখে তিনি  বিছালী শান মোবারক প্রকাশ করেন।
(সীরাতে ইবনে হিশাম: দ্বিতীয় ভাগ, পৃষ্ঠা ৬৫৩, আদ দ্বীন ওয়াত তারীখুল হারামাইনিশ শারীফাঈন, পৃষ্ঠা ২৮১)
মহান আল্লাহ পাক হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ও হযরত সাহাবায়েকিরাম রদ্বীয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগনের অনুসরনে দুনিয়ার সকল জ্বিন-ইনসান কুল-কায়িনাতবাসীকে আখেরী চাহার শোম্বাহ বা সফর মাসের শেষ বুধবার পালনকারীর জন্য সকলকে নিয়ামত-রবকত, রহমত-ছাকিনাহ মাগফেরাত ও নাজাত দান করুন। আমিন।

আখেরী চাহার শোম্বাহ একটি বিশেষ আইয়্যামুল্লাহ সুবহানাল্লাহ।

Views All Time
1
Views Today
3
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে