আচ্ছা! বৃষ্টি এলে রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কি করতেন?


 

তিনি কিন্তু মোটেই বৃষ্টি থেকে দূরে সরে যেতেন না বরং প্রচণ্ড খুশি হতেন। খুব সাবধানতার সাথে উনার পবিত্র জিসিম মুবারকের কিছু অংশ উন্মুক্ত করে বৃষ্টির পরশ বুলাতেন।
(সুবহানাল্লাহ)

হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন – “আমরা যখন রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে বসা ছিলাম, তখন বৃষ্টি এলো। তিনি শরীর মুবারকের কিছু অংশ উন্মুক্ত করে বৃষ্টিকে অনুভব করলেন। আমরা বললাম, “ইয়া রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি এমন কেন করলেন?” তিনি বললেন, “কারণ এটা (এই বৃষ্টি) অবশ্যই আমার রবের পক্ষ থেকে এসেছে।”
(মুসলিম শরীফ )
হযরত ইমাম কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এই হাদীস শরীফ সম্পর্কে বলেন –
“আমাদের নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বৃষ্টির বারাকাহ পেতে এমনটা করতেন। কারণ, আল্লাহ্‌পাক বৃষ্টিকে রহমত, মনোরম এবং সংশোধক বলে বর্ণনা করেছেন।
এই হাদীস শরীফ আমাদের আরো শেখায় , প্রত্যেকেরই এই বর্ষণকে সম্মান করা উচিত এবং এর সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য থেকে বিরত থাকা উচিত।”
(আল-মুফহিম)

হযরত সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা এই সুন্নাহ অনুসরণে খুবই আগ্রহী ছিলেন।
হযরত উসমান যুন নূরাঈন আলাইহিস সালাম তিনি বৃষ্টির শুরুতে নিজেকে উন্মুক্ত করতেন।হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনিও অনুরূপ করতেন।হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি বৃষ্টির মধ্যে বসে থাকতেন আর বলতেন- “এটা অবশ্যই আল্লাহ্‌পাক উনার আরশ থেকে এসেছে।”
(ইবনু আবী শায়বা)

হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বৃষ্টি এলে দুয়া মুবারক করতেন- “হে আল্লাহপাক! মুষলধারায় উপকারী বৃষ্টি বর্ষণ করুন।”
(বুখারী শরীফ)

বলা হয়েছে, যে সুন্নতসমূহকে মহব্বত করলো সে যেন হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলােইহি ওয়া সাল্লাম উনাকেই মুহব্বত করলো। আর যে উনাকে মুহব্বত করলো ,সে উনার সাথেই জান্নাতে অবস্থান করবে।
(সুবহানাল্লাহ)
পরের বার বৃষ্টি হলে চেষ্টা করুন না দৌড়াতে। না পালাতে। ছাতাটা বন্ধ করুন। চলার পথে একটুখানি দাঁড়ান। আর শরীরের কিছু অংশকে বৃষ্টির সংস্পর্শে আসতে দিন , নিয়ত অবশ্যই সুন্নত আদায়ের লক্ষ্যে হতে হবে।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে