আজকের শিক্ষা মন্ত্রণালয় কেমন জাতি গঠন করতে চায়?



  1. শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড- শিক্ষার গুরুত্ব বুঝানোর জন্য এই কথাটিই সর্বাধিক ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ যে জাতি যতবেশী শিক্ষিত সে জাতি ততবেশী দৃঢ় মেরুদন্ডের অধিকারী। মেরুদন্ডের ব্যবহার সম্পর্কে আমরা সবাই কমবেশী জানি যে দেহের আকৃতি ধরে রাখার জন্য মেরুদন্ডের কোন বিকল্প নেই। কিন্তু আমরা কখনো কি ভেবে দেখেছি যে মেরুদন্ডহীন প্রাণীদের দেহ কেমন হয়কিভাবে তারা বেঁচে থাকেসোজা সাপটা উত্তর হলো তাদেরকে আমরা কোন কাজে ব্যবহার করি না। পৃথিবীর সর্বাধিক সংখ্যক প্রাণী ইনভার্টেব্রাটা অথবা মেরুদন্ডহীন সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্বেও তাদের অস্তিত্ব আমরা স্বীকার করি না। আমরা সবাই জাতিগতভাবে একমত যে মশামাছিপিপড়া ইত্যাদি প্রাণীর বেঁচে থাকার অধিকার নেই। প্রানীর অধিকারজীবপ্রেম ইত্যাদি নিয়ে তথাকথিত সচেতন গোষ্ঠীও মেরুদন্ডহীন প্রাণীদেরকে ঠিক প্রানী বলে মনে করে না।

    তবে ব্যাঙটিকটিকি ইত্যাদি প্রাণী মেরুদন্ডহীন প্রাণীদের খেয়ে বেঁচে থাকে- সেটা ভিন্ন বিষয়। ইকোসিস্টেম অথবা ফুড চেইন ধরে রাখার জন্য মেরুদন্ডহীন প্রাণীদেরকে প্রয়োজন বৈকি। তবে মেরুদন্ডহীন প্রাণীরা ভূমি শাসন করে নাজঙ্গলের রাজা হয়না অথবা ইতিহাসেও স্থান পায় না।

    জাতির মেরুদন্ডের ব্যবহার কিদেহের মেরুদন্ড যেমন দেহের আকৃতি ধরে রাখে তেমনি জাতির আকৃতি ধরে রাখার জন্য জাতির মেরুদন্ড তথা শিক্ষার বিকল্প নেই। কেউ যদি শিক্ষার মান নষ্ট করতে চায়শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতি প্রবেশ করায় অথবা পাঠ্যপুস্তকের বিষয়বস্তু কলুষিত করার মাধ্যমে শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নষ্ট করতে চায় তবে চোখ বুঁজে বলে দেয়া যায় যে সেই ব্যক্তি জাতিকে মেরুদন্ডহীন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আরো ভেঙে বলিসেই জাতিকে পরাধীন বানানো, ”মেরুদন্ডযুক্ত প্রাণীর খাবার বানানোদেশহীনভূমিহীনঅস্তিত্বহীন বানানোর জন্য অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।

    একটু অফ টপিকে যাই। অভিজিৎ ভট্টাচার্য্যএকজন হিন্দুভোরের কাগজে মাদ্রাসার বইয়ে অশ্লীলতা শিরোনামে সংবাদ করেছে (সুত্র: bit.ly/2B7kvlS) যেখানে সে পবিত্র হাদীস শরীফকে অশ্লীল আখ্যা দিয়েছে।

    অর্থাৎ রাসূলে করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অশ্লীল কথা বলেছেন যেটা মুসলমানরা ১৪০০ বছর ধরে পালন করে আসছে। আসুনপবিত্র হাদীস শরীফটি দেখি যেটিকে অশ্লীল বলেছে অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য।

    একদা এক ব্যক্তি হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) কে জিজ্ঞাসা করলেনআমি কি আমার মায়ের কাছে প্রবেশ করতে অনুমতি প্রার্থনা করবতিনি বললেন হ্যাঁ। তখন লোকটি বললআমি তো তার খাদেম। হজরত রসুলুল্লাহ বললেনতুমি তার কাছে অনুমতি চাও। তুমি তোমার মাকে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখতে পছন্দ করো?’

    এক ব্যক্তিকে বলা হচ্ছে যে সে যেন তার মায়ের কক্ষে প্রবেশের পুর্বে অনুমতি প্রার্থনা করে। নচেৎ এমনও হতে পারে যেতার মা বস্ত্রপরিহিতা অবস্থায় নেইঅথবা বস্ত্র পরিবর্তন করছেন- এমন অবস্থায় সে তার মায়ের কক্ষে প্রবেশ করে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়েছে।

    চরম বাস্তবতা যেগুলোকে পশ্চিমারা ট্যাবু বলে থাকেসে সম্পর্কে পবিত্র হাদীস শরীফে সতর্ক করা হয়েছে। এই পবিত্র হাদীস শরীফকে অযৌক্তিকইসলাম অবমাননাকরব্যঙ্গাত্মক ও রসাত্মক মনগড়া উক্তি সর্বোপরি অশ্লীল আখ্যা দিলো একজন হিন্দু সাংবাদিক
    একজন সাংবাদিক অশ্লীল বললে এমন কি ই বা হয়ে যাবে- এমনটি যারা ভাবছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলছি যেসম্প্রতি মাদ্রাসা বোর্ডের পাঠ্যপুস্তক হতে বহু কন্টেন্ট অপসারণ করার পদক্ষেপ নিয়েছে এনসিটিবি। পাঠ্যপুস্তক হতে পবিত্র কুরআন শরীফে ব্যবহৃত জিহাদ শব্দআল্লাহর রাসূল নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র হাদীস শরীফ ইত্যাদি অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পিছনে এরকম ঝড়ো সাংবাদিকের উড়ো সংবাদই মূল পরিচায়ক।

    বলছিলাম
    জাতির মেরুদন্ডের কথা। দেশের ৯৫% মুসলমানদের মেরুদন্ড ভেঙে কুরআন শরীফ-হাদীস শরীফ বিবর্জিতগাছে ছাগল চড়ানোওড়নাবিহীনরথ টানা হিন্দুমনা (সুত্র: bit.ly/2oYwXmg) অস্তিত্বহীনজাতীয়তাহীন এক জাতি বানানোর জন্য কোন চেষ্টা বাকী রাখেনি বর্তমান শিক্ষা মন্ত্রনালয়।
    এইজন্যই আজকে ইনভার্টেব্রাটা জাতির মতো লুকিয়ে লুকিয়ে বেঁচে আছে মুসলমানরা। বাংলাদেশের ১৮ কোটি মুসলমান আজকে ৩০-৪০ লাখ হিন্দুর কাছে পরাজিত। মুসলমানদের নবীকে অশ্লীল বলে গালি দেয় সাধারণ এক হিন্দু কলামিস্ট। মুসলমানদের পাঠ্যপুস্তক থেকে ইসলাম ধর্ম অপসারণ করে হিন্দু নারায়ন চন্দ্র সাহা। আর স্বঘোষিত নাস্তিকঅযোগ্য নাহিদের মতো শিক্ষামন্ত্রীর কোন বিকল্প বাংলাদেশের ১৮ কোটি মুসলমানের কাছে নেই।
Views All Time
2
Views Today
3
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে