আজ ঐতিহাসিক সুমহান বরকতময় ‘পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ’।


অর্থাৎ পবিত্র ছফর মাস উনার শেষ ইয়াওমুল আরবিয়ায়ি বা বুধবার শরীফ। যা কুল কায়িনাতের সকলের জন্য এক সুমহান ঈদ বা খুশির দিন।
এ উপলক্ষে সকলের জন্য আবশ্যক হচ্ছে- খুশি প্রকাশ করে সাধ্যমতো হাদিয়া পেশ করা, দান-ছদক্বা করা, গোসল করা, ভালো খাওয়া, অধিক পরিমাণে পবিত্র মীলাদ শরীফ, পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ ও পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করা।

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে যারা উত্তমভাবে অনুসরণ করেন মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদের প্রতি সন্তুষ্ট।’
আর বাংলাদেশসহ সকল মুসলিম ও অমুসলিম সরকারের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- এ মুবারক দিনটি পালনের সর্বপ্রকার ব্যবস্থা গ্রহণসহ এ মুবারক দিন উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা।

, ‘আখির’ শব্দটি ভাষাগত দিক থেকে আরবী; যদিও তা ফার্সী ও উর্দূতে ব্যবহার হয়। এর অর্থ শেষ। আর ‘চাহার শোম্বাহ’ হচ্ছে ফার্সী শব্দ। এর অর্থ বুধবার। আর আখির শব্দের সাথে ‘ইয়া’ নিছবতপ্রাপ্ত বা যুক্ত হওয়ার কারণে ফার্সী ভাষার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ আখিরী শব্দটি ফার্সী। ‘আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ’

বলতে পবিত্র ছফর মাস উনার শেষ বুধবার উনাকে বুঝানো হয়ে থাকে। মূলত এ দিনটি মুসলিম উম্মাহর জন্য এক বিশেষ খুশির দিন।
পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ উনার গুরুত্ব ও ফযীলত আলোচনাকালে তিনি এসব কথা বলেন।

 এ মুবারক দিনটি সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিদায়ের পূর্ববর্তী মাসের অর্থাৎ পবিত্র ছফর মাস উনার তৃতীয় সপ্তাহে তিনি অসুস্থতাকে গ্রহণ করেন অতঃপর এই মাসের ৩০ তারিখ ইয়াওমুল আরবিয়ায়ি বা বুধবার দিন সকালে তিনি সুস্থতাকে গ্রহণ করেন। ফলে ভোর বেলা ঘুম মুবারক থেকে জেগে তিনি বললেন, ‘আমার নিকট কে আছেন?’

এ কথা শুনামাত্রই উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি ছুটে আসলেন এবং বললেন, ‘ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার মাতা-পিতা আপনার জন্য কুরবান হোক। আমি হাযির আছি।’ তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, ‘হে উম্মুল মু’মিনীন

হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম! আমার মাথা মুবারক উনার ব্যথা দূর হয়ে গেছে এবং শরীর মুবারকও বেশ হালকা মনে হচ্ছে। আমি আজ সুস্থ।’ সুবহানাল্লাহ! এ কথা শুনে উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হলেন এবং তাড়াতাড়ি পানি আনয়ন করে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাথা মুবারক ধুয়ে দিলেন এবং সমস্ত শরীর মুবারক উনার মধ্যে পানি মুবারক ঢেলে ভালোভাবে গোসল মুবারক করিয়ে দিলেন। সুবহানাল্লাহ!

, এই গোসল মুবারক উনার ফলে মনে হলো নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম উনার শরীর মুবারক হতে বহু দিনের অসুস্থতাজনিত অবসাদ অনেকাংশে দূর হয়ে গেল। তারপর তিনি বললেন, ‘হে উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম! ঘরে কোনো খাবার আছে কি?

’ তিনি জবাব দিলেন, ‘জী-হ্যাঁ, কিছু রুটি পাকানো আছে।’ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, ‘আমার জন্য তা নিয়ে আসুন আর হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে খবর দিন, তিনি যেন উনার আওলাদগণ উনাদেরকে নিয়ে তাড়াতাড়ি আমার নিকট চলে আসেন।’ উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে সংবাদ দিলেন এবং ঘরে যে খাবার তৈরি করা ছিলো তা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারক-এ পরিবেশন করলেন।

 সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার আওলাদগণ উনাদেরকে নিয়ে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট হাজির হলেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে নিজের গলা মুবারক উনার সাথে জড়িয়ে স্নেহের পরশ বুলিয়ে দিলেন, নাতিগণ উনাদের কপাল মুবারক উনাদের মধ্যে চুমো মুবারক খেলেন এবং উনাদেরকে সাথে নিয়ে আহারে বসলেন।

কয়েক লোকমা খাবার গ্রহণ করার পর অন্যান্য উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারাও খিদমতে এসে হাযির হলেন। অতঃপর পর্যায়ক্রমে বিশিষ্ট ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারাও বাইরে এসে হাযির হন।

কিছুক্ষণ পর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বাইরে এসে উনাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, ‘হে আমার হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম! আমার বিদায়ের পর আপনাদের অবস্থা কিরূপ হবে?’ এ কথা শুনে হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারা ব্যাকুলচিত্তে কান্না শুরু করলেন। উনাদের এ অবস্থা দেখে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদেরকে সান্ত¡না দান করলেন। অতঃপর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মসজিদে নববী শরীফ উনার মধ্যে ওয়াক্তিয়া নামাযের ইমামতি করলেন।

 আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থতাকে গ্রহণ করার পর সুস্থতাকে গ্রহণ করে মসজিদে নববী শরীফ উনার মধ্যে আগমন করেন এবং নামাযের ইমামতি করেন এই অপার আনন্দে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারা নিজ নিজ সামর্থ্য অনুসারে অনেক কিছু হাদিয়া পেশ করেন। কোনো কোনো বর্ণনায় জানা যায় যে, খুশি হয়ে হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম তিনি সাত হাজার দীনার,

হযরত উমর ফারূক আলাইহিস সালাম তিনি পাঁচ হাজার দীনার, হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি দশ হাজার দীনার, হযরত আলী র্কারামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি তিন হাজার দীনার, হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি একশত উট ও একশত ঘোড়া মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় হাদিয়া করতঃ মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুহব্বত ও সন্তুষ্টি লাভ করেন। সুবহানাল্লাহ!

, মূলকথা হলো- আজ ঐতিহাসিক সুমহান বরকতময় ‘পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ’। অর্থাৎ পবিত্র ছফর মাস উনার শেষ ইয়াওমুল আরবিয়ায়ি বা বুধবার শরীফ। যা কুল কায়িনাতের সকলের জন্য এক সুমহান ঈদ বা খুশির দিন।

এ উপলক্ষে সকলের জন্য আবশ্যক হচ্ছে- খুশী প্রকাশ করে সাধ্যমতো হাদিয়া মুবারক পেশ করা, দান-ছদক্বা মুবারক করা, গোসল করা, ভালো খাওয়া, অধিক পরিমাণে পবিত্র মীলাদ শরীফ, পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ ও পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করা। আর বাংলাদেশসহ সকল মুসলিম ও অমুসলিম সরকারের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- এ মুবারক দিনটি পালনের সর্বপ্রকার ব্যবস্থা গ্রহণসহ এ মুবারক দিন উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা।

 

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে