আজ দিবাগত রাতই সম্মানিত ও মহাপবিত্র মি’রাজ শরীফ উনার রাত মুবারক


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
وَرَفَعْنَا لَكَ ذِكْرَكَ.
অর্থ: “(আমার মাহবূব হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আর নিশ্চয়ই আমি আপনার মহাসম্মানিত আলোচনা মুবারক, মর্যাদা-মর্তবা মুবারক বুলন্দ থেকে বুলন্দতর করেছি।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূর ইনশিরাহ শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৪)
অর্থাৎ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শুধু যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরু থেকে অদ্যবধি মহান আল্লাহ পাক উনার হাক্বীক্বী দায়িমী দীদার মুবারক-এ মশগূল রয়েছেন এবং অনন্তকাল যাবৎ সেই সম্মানিত হাক্বীক্বী দায়িমী দীদার মুবারক-এ মশগুল থাকবেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি কখনও মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত হাক্বীক্বী দায়িমী দীদার মুবারক থেকে এক পলকের তরেও জুদা ছিলেন না, এখনও জুদা নেই এবং অনন্তকাল যাবৎ কখনও জুদা থাকবেন না। সুবহানাল্লাহ! সেই বিষয়টিই তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেছেন,
لِىْ مَعَ اللهِ وَقْتٌ لَّا يَسْعٰنِىْ فِيْهِ مَلَكٌ مُّقَرَّبٌ وَلَا نَبِىٌّ مُّرْسَلٌ
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে আমার এমন একটি সময় রয়েছে, অর্থাৎ দায়েমীভাবে এমন নিছবত মুবারক রয়েছেন যেখানে কোন নৈকট্যপ্রাপ্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের এবং হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের স্থান সঙ্কুলান হয় না।” সুবহানাল্লাহ! (সিররুল আসরার শরীফ)
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, এ বিষয়ে সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নজম শরীফ উনার মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নজম শরীফ নুযুলের দিক থেকে ২৩তম এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কিতাব কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে তারতীব মুতাবিক ৫৩তম। ৬২খানা সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ এবং ৩খানা সম্মানিত ও পবিত্র রুকূ’ শরীফ। এই সম্মানিত ও পবিত্র সূরা শরীফ উনার প্রথম ১৮খানা সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের মধ্যে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে সম্মানিত ও পবিত্র মি’রাজ শরীফ উনার হাক্বীক্বী বিষয়টা সমস্ত কায়িনাতকে বুঝিয়ে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَى. مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَى. وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى. إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى. عَلَّمَهُ شَدِيدُ الْقُوَى. ذُو مِرَّةٍ فَاسْتَوَى. وَهُوَ بِالْأُفُقِ الْأَعْلَى. ثُمَّ دَنَا فَتَدَلَّى. فَكَانَ قَابَ قَوْسَيْنِ أَوْ أَدْنَى. فَأَوْحَى إِلَى عَبْدِهِ مَا أَوْحَى
অর্থ: “কসম তারকার। যখন তা অস্তমিত হয়ে গেলো। অর্থাৎ সম্মানিত ও পবিত্র মি‘রাজ শরীফে যখন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেই সম্মানিত ও পবিত্র আরশে আযীম শরীফ-এ তাশরীফ মুবারক নিলেন তখন তারকাগুলি অতিক্রম করে তিনি চলে গেলেন। সুবহানাল্লাহ! তোমাদের যিনি ছাহিব যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিভ্রান্ত হননি, পথ হারা হননি। তিনি সম্মানিত সুপথ মুবারক-এ ছিলেন, সম্মানিত হিদায়াত মুবারক উনার মধ্যেই তিনি ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত ওহী মুবারক ব্যতীত নিজ থেকে কোনো কথা মুবারক বলেন না, কোনো কাজ মুবারক করেন না। সুবহানাল্লাহ! উনাকে শিক্ষা দিয়েছেন যিনি সর্বশক্তিমান, যিনি খালিক্ব মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক তিনি। সুবহানাল্লাহ! যিনি অত্যন্ত শক্তিশালী, ক্ষমতা সম্পন্ন। তিনি সর্বোচ্চ প্রান্তের শীর্ষে অপেক্ষমান ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! তারপর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম তিনি (মহান আল্লাহ পাক উনার) নিকটবর্তী হলেন এবং ঝুকে গেলেন। একটা ধনুকের দুই মাথা টান দিলে যতটুকু মিলে যায়, তার চেয়েও বেশি তিনি নিকটবর্তী হয়ে গেলেন। সুবহানাল্লাহ! যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মাহবূব হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত ওহী মুবারক করলেন, যা করার।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নজম শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১-১০)
এই প্রথম ১০খানা সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের মধ্যে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি প্রাথমিক এবং মূল বিষয়টা স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! এরপর পরবর্তী ৮খানা সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের মধ্যে যিনি খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি তাছদীক্ব বা সত্যায়ন করে বিষয়টা আরো স্পষ্ট করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
مَا كَذَبَ الْفُؤَادُ مَا رَأَى. أَفَتُمَارُونَهُ عَلَى مَا يَرَى. وَلَقَدْ رَآهُ نَزْلَةً أُخْرَى. عِنْدَ سِدْرَةِ الْمُنْتَهَى. عِنْدَهَا جَنَّةُ الْمَأْوَى. إِذْ يَغْشَى السِّدْرَةَ مَا يَغْشَى. مَا زَاغَ الْبَصَرُ وَمَا طَغَى. لَقَدْ رَأَى مِنْ آيَاتِ رَبِّهِ الْكُبْرَى.
অর্থ: “আমার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র অন্তর মুবারক, ক্বলব মুবারক মিথ্যারোপ করেননি। তিনি যা দেখেছেন সত্যই বলেছেন। সুবহানাল্লাহ! কি ব্যাপার তোমরা (জিন-ইনসান আমার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে) সম্মানিত ও পবিত্র যিয়ারত মুবারক করেছেন, (আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত ও পবিত্র মি‘রাজদ শরীফ করেছেন,) এ বিষয়ে কি তোমরা তর্ক-বিতর্ক করো? না‘ঊযুবিল্লাহ! তিনি দ্বিতীয়বার আরেকবার দেখলেন। সুবহানাল্লাহ! (আসলে দেখা শুরু করলেন। কোথা থেকে?) সিদরতুল মুন্তাহা থেকে দেখা শুরু করলেন। নিশ্চয়ই সিদরতুল মুন্তাহা সেখানেই জান্নাতুল মাওয়া। সম্মানিত সিদরতুল মুন্তাহা উনাকে যা দিয়ে আচ্ছাদন করার কথা ছিলো, তা দিয়ে আচ্ছাদন করা হয়েছে, আচ্ছাদিত হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র চক্ষু মুবারক কিন্তু বক্র হননি, অবাধ্যও হননি। অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র চক্ষু মুবারক অক্ষমতা বা অপারগতা প্রকাশ করেননি। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র চক্ষু মুবারক যা দেখেছেন, সঠিকভাবেই দেখেছেন। সুবহানাল্লাহ! সবচাইতে বড় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিয়ামত মুবারক যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনারই তিনি মহাসম্মানিত যিয়ারত মুবারক লাভ করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নজম শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১১-১৮)
এই সম্মানিত ও পবিত্র ১৮খানা আয়াত শরীফ উনাদের অনেক তাফসীর তথা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ রয়েছে। এখানে আক্বাইদের অনেক মাসয়ালা-মাসায়েল রয়েছে। সুবহানাল্লাহ! এখানে সংক্ষিপ্ত তাফসীর মুবারক উল্লেখ করা হলো-
সংক্ষিপ্ত তাফসীর মুবারক:
প্রথমত যেটা বলা হচ্ছে-
وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَى
ক্বসম তারকা সমূহের। যে তারকাগুলো তিনি অতিক্রম করে চলে গেলেন। যেগুলো অস্তমিত হয়ে গেলো। যেগুলো নিচে পড়ে গেলো। তিনি তারকাগুলো অতিক্রম করে চলে গেলেন। অর্থাৎ সম্মানিত ও পবিত্র আরশে আযীম শরীফ-এ তাশরীফ মুবারক নিলেন। সুবহানাল্লাহ!
مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَى
তোমাদের যিনি রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সব অবস্থায়ই সুপথে রয়েছেন এবং সম্মানিত হিদায়েত মুবারক উনার মধ্যেই রয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! কাজেই সম্মানিত ও পবিত্র মি‘রাজ শরীফ নিয়ে চিন্তা করার কোনো কারণ নেই। তিনি তো সম্মানিত হিদায়েত মুবারক এবং সম্মানিত সুপথ মুবারক উনাদের মধ্যেই রয়েছেন; বরং তিনি সম্মানিত হিদায়াত মুবারক এবং সম্মানিত সুপথ মুবারক উনাদের মালিক। সুবহানাল্লাহ! যেটা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে বলা হচ্ছে-
هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ
অর্থ: “যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মহাসম্মানিত রসূল, উনার মাহবূব হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত হিদায়েত মুবারক ও সম্মানিত ও পবিত্র সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন। সুবহানাল্লাহ!”
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন সম্মানিত হিদায়েত এবং সুপথ মুবারক উনাদের মালিক। সুবহানাল্লাহ! তিনি যাকে সম্মানিত হিদায়েত মুবারক দান করেন, সম্মানিত সুপথ মুবারক দান করেন, সে-ই সম্মানিত হিদায়াত মুবারক পায়, সম্মানিত সুপথ মুবারক পায়। সুবহানাল্লাহ! কাজেই, এখানে দ্বিতীয় চিন্তা করার কোনো সুযোগ নেই।
وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى. إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى
তিনি কিন্তু কখনোই নিজ থেকে কোনো কথা বলেন না, কাজ করেন না, সমর্থন করেন না। সুবহানাল্লাহ! তিনি সর্বাবস্থায় সম্মানিত ওহী মুবারক উনার দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত। সুবহানাল্লাহ!
عَلَّمَهُ شَدِيدُ الْقُوَى
শিক্ষা দিলেন কে? যিনি সবচাইতে শক্তিশালী।
এখন অনেকে বলে থাকে, অপব্যাখ্যা করে থাকে যে, শক্তিশালী হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি শিক্ষা দিয়েছেন। না‘ঊযুবিল্লাহ! এখানে একটা উছূল রয়েছে, মানুষ উছূলটা জানে না। সমস্ত হযরত নবী এবং রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে কোনো সৃষ্টি, কোনো কায়িনাত, জিন-ইনসান, কোনো ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম কেউই শিক্ষা দিবে না এবং দেয়ার যোগ্যতা রাখে না। স্বয়ং যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদেরকে শিক্ষা দিয়ে থাকেন। সুবহানাল্লাহ!
والله على كل شيئ قدير
অর্থ: “যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সবচাইতে শক্তিশালী।” সুবহানাল্লাহ!
عَلَّمَهُ شَدِيدُ الْقُوَى
শিক্ষা দিলেন কে? যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক শক্তিশালী তিনি। সুবহানাল্লাহ!
আবার বললেন,
ذُو مِرَّةٍ فَاسْتَوَى
তিনি অত্যন্ত শক্তিশালী। সুবহানাল্লাহ! তিনি অপেক্ষমান ছিলেন।
اِسْتَوَى (ইস্তিাওয়া) এই সম্মানিত শব্দ মুবারক অর্থ কি? ইমামে আযম আবূ হানীফাহ রহমতুল্লাহ আলাইহি উনাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলো اِسْتَوَى (ইস্তাওয়া) শব্দ মুবারক উনার অর্থটা কি? তিনি সব অর্থই বললেন- বরাবর হওয়া, উপবেশন করা ইত্যাদি অনেক অর্থ। তবে যিনি খালিক্ব যিনি মালিক, যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি কিভাবে ‘ইস্তাওয়া’ হয়েছেন, তা জিন-ইনসানের ইলিমের বাইরে। সুবহানাল্লাহ!
এখানে ‘ইস্তাওয়া’ অর্থ হচ্ছে অপেক্ষমান। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি অত্যন্ত শক্তিশালী। সুবহানাল্লাহ! তিনি অপেক্ষমান ছিলেন। যেহেতু মহান আল্লাহ পাক তিনি তো উনার মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত দাওয়াত মুবারক দিয়েছেন। যদিও যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি কোনো স্থান, কাল, পাত্রের অধীন নন। সুবহানাল্লাহ! তারপরেও উনার মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যে সম্মানিত শান মুবারক কতটুকু বুলন্দ করা হয়েছে, সে বিষয়টা বুঝানোর জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি অপক্ষেমান ছিলেন। কোথায়?
وَهُوَ بِالْأُفُقِ الْأَعْلَى
সর্বোচ্চ প্রান্তের শীর্ষে। সর্বোচ্চ প্রান্তের শীর্ষে তিনি অপেক্ষমান ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
এখানে একটা বিষয় বলা হয়, সম্মানিত ইলমে তাছাউফ মুবারক উনার পরিভাষায় সেটা হচ্ছে, আলমে ইমকান। আলমে ইমকানটা কী? সেটা হচ্ছে, যমীন থেকে অর্থাৎ তাহতাচ্ছারা থেকে সম্মানিত ও পবিত্র আরশে আযীম শরীফ পর্যন্ত হচ্ছে আলমে খল্ক্ব। আব, আতেশ, খাক, বাদ, নফস এই পাঁচটা। তাহতাচ্ছারা থেকে আরশে আযীম পর্যন্ত আলমে খলক্ব। যেটা বলা হচ্ছে-
خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ
অর্থাৎ যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এই আলমে খলক্ব ৬ দিনে সৃষ্টি করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
এখন ৬ দিন এটা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার ভাষা। মানুষ কিন্তু এই দিনটা বুঝে না। মানুষকে বুঝানোর জন্য বলা হয় যে ৬ ধাপে, ৬ স্তরে সৃষ্টি করা হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! এবং এর উপরে আরশে আযীম থেকে ঠিক সমপরিমাণ, নিচ থেকে আরশে আযীম যতটুকু তার উপর ঠিক ততটুকু হচ্ছে আলমে আমর। আর এই দুইটা মিলে হচ্ছে আলমে ইমকান। আলমে আমর হচ্ছে- ক্বলব, রূহ, সের, খফী, আখফা। এই পাঁচটা। যেটা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ-এ বলা হচ্ছে-
إِذَا أَرَادَ شَيْئًا أَنْ يَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ
অর্থাৎ “যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি যখন চান, ‘কুন’ বললেই আলমে আমর সেটা সৃষ্টি হয়ে যায়।” সুবহানাল্লাহ! যেমন- আরো বলা হচ্ছে-
وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الرُّوحِ قُلِ الرُّوحُ مِنْ أَمْرِ رَبِّي
অর্থাৎ ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনাকে রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে, আপনি বলে দিন, যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার একটা সম্মানিত আদেশ মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
আর আলমে আমরের আক্ছ প্রতিচ্ছবী হচ্ছে আলমে খলক্ব। এই দুইটা মিলে হচ্ছে আলমে ইমকান। এই সমস্ত কিছুর শীর্ষে যিনি খালিক্ব যিনি মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ‘ইস্তাওয়া’ অপেক্ষমান ছিলেন। সেখান থেকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র যিয়ারত মুবারক শুরু হলো। সুবহানাল্লাহ!
(বি: দ্র: মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওয়াজ শরীফ থেকে সংকলিত)

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে