আজ দিবাগত রাতটিই সুমহান বরকতময় মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মি’রাজ শরীফ উনার বরকতপূর্ণ রাত।


নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “পবিত্র মি’রাজ শরীফ উনার বরকতময় রাতে আমি মহান আল্লাহ পাক উনাকে সর্বোত্তমভাবে দেখেছি।” অর্থাৎ, সরাসরি দীদার মুবারক লাভ করেছি। সুবহানাল্লাহ।
আজ দিবাগত রাতটিই সুমহান বরকতময় মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মি’রাজ শরীফ উনার বরকতপূর্ণ রাত। যা মুসলমানদের ঈমান, আক্বীদা, হুসনে যন এবং আমলের সাথে বিশেষভাবে সম্পর্কযুক্ত। মহাসম্মানিত এ রাতে বান্দার সমস্ত দুআ সুনিশ্চিতভাবে কবূল হয়। এবং মহাসম্মানিত এ দিন উনার রোযায় বিশেষ নিয়ামত মুবারক হাছিল হয়।
কাজেই, পবিত্র মি’রাজ শরীফ এবং উনার সংশ্লিষ্ট মুবারক প্রতিটি বিষয় সর্বোচ্চ হুসনে যনের সাথে বিশ্বাস করে এ মহান রাতে খালিছভাবে দুআ-ইস্তিগফার করা এবং দিনে রোযা রাখা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব ও কর্তব্য। পাশাপাশি মহাসম্মানিত এ মহান দিবস সম্পর্কে ছহীহ আক্বীদাহ সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করা, এ মহান দিবস ব্যাপকভাবে উদযাপনে ব্যাপক ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা, বরাদ্দ এবং বাধ্যতামূলক ছুটি ঘোষণা করা বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রত্যেক দেশের সরকারের জন্য ফরয।

“আজ দিবাগত রাতটিই সুমহান বরকতময় মহাপবিত্র ২৭শে রজবুল হারাম শরীফ। অর্থাৎ পবিত্র মি’রাজ শরীফ উনার বরকতপূর্ণ রাত। পবিত্র মি’রাজ শরীফ হলো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল ফাযায়িল-ফযীলতসমূহ উনাদের মধ্য হতে একটি বিশেষ ফাযায়িল-ফযীলত মুবারক। পবিত্র ইসলামী শরীয়ত উনার পরিভাষায় মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মহান আল্লাহ পাক উনার যে আনুষ্ঠানিক পবিত্র দীদার মুবারক হয়েছে উনাকে ‘পবিত্র মি’রাজ শরীফ’ বলা হয়। সুবহানাল্লাহ! যার শুরু হতে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি বিষয় সর্বোচ্চ হুসনে যনের সাথে বিশ্বাস করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরয। আর পবিত্র মি’রাজ শরীফ সংশ্লিষ্ট কোন বিষয় অস্বীকার ও অবজ্ঞা করা বা বদ আক্বীদাহ পোষণ করা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।

সবচেয়ে মশহুর, গ্রহণযোগ্য ও দলীলভিত্তিক মতে আনুষ্ঠানিক নবুওয়ত প্রকাশের দশম বছর অতিবাহিত হওয়ার পর হিজরতের প্রায় ত্রিশ মাস পূর্বে পবিত্র রজবুল হারাম মাস উনার ২৭ তারিখ লাইলাতুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ বা সোমবার শরীফ রাতে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত পবিত্র মি’রাজ শরীফ অনুষ্ঠিত হয়। এ মতের উপরই বিশ্বের নির্ভরযোগ্য সকল ইমাম, মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনাদের ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই, মহাসম্মানিত মি’রাজ শরীফ উনার তারিখ নিয়ে ইখতিলাফের কোন সুযোগ নেই।

মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “পবিত্র মি’রাজ শরীফ উনার বরকতময় রাতে আমি মহান আল্লাহ পাক উনাকে সর্বোত্তমভাবে দেখেছি বা সরাসরি দীদার মুবারক লাভ করেছি। সুবহানাল্লাহ। অর্থাৎ, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার পূতপবিত্র নূরানী অবয়ব মুবারক নিয়েই পবিত্র মি’রাজ শরীফে গমন করেছেন এবং সরাসরি হাক্বীক্বীভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার দীদার মুবারক গ্রহণ করেছেন। আর এটাই আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদাহ।

পবিত্র মি’রাজ শরীফ মুসলমানদের ঈমান, আক্বীদা, হুসনে যন এবং আমলের সাথে বিশেষভাবে সম্পর্কযুক্ত। কারণ, মহান রাতেই নামায ফরয করা হয়েছে। মহাসম্মানিত এ রাতে বান্দার সমস্ত দুআ সুনিশ্চিতভাবে কবূল হয়।

মহাসম্মানিত এ দিন উনার রোযায় বিশেষ নিয়ামত মুবারক হাছিল হয়। পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি পবিত্র রজব মাস উনার সাতাশ তারিখে রোযা রাখে, সে যেন ষাট মাস রোযা রাখলো। অন্য হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি পবিত্র রজব মাস উনার সাতাশ তারিখে রোযা রেখে ইফতারীর সময় নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি তিনবার দরূদ শরীফ পাঠ করবে, মহান আল্লাহ পাক তার যিন্দেগীর গুণাহ ক্ষমা করে দিবেন। সুবহানাল্লাহ।

আজ দিবাগত রাতটিই সুমহান বরকতময় মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মি’রাজ শরীফ উনার বরকতপূর্ণ রাত। কাজেই, পবিত্র মি’রাজ শরীফ এবং উনার সংশ্লিষ্ট মুবারক প্রতিটি বিষয় সর্বোচ্চ হুসনে যনের সাথে বিশ্বাস করে এ মহান রাতে খালিছভাবে দুআ-ইস্তিগফার করা, দিনে রোযা রাখা, পবিত্র মীলাদ শরীফ, পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ ও দোয়া-মুনাজাতের মাহফিল করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক বেশি বেশি বর্ণনা করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব ও কর্তব্য।

পহেলা বৈশাখসহ কুফরী-শিরকীপূর্ণ পূজা ও অশ্লীলতার বিষয়গুলোর বোনাস ও ছুটিসহ সব কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে মহাসম্মানিত মি’রাজ শরীফ উনার মহান দিবস সম্পর্কে ছহীহ আক্বীদাহ সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করা, এ মহান দিবস ব্যাপকভাবে উদযাপনে ব্যাপক ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা, বরাদ্দ এবং বাধ্যতামূলক ছুটি ঘোষণা করা বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রত্যেক দেশের সরকারের জন্য ফরয।

Views All Time
1
Views Today
7
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে