আজ পবিত্র রজবুল হারাম শরীফ উনার ১লা জুমুয়াহ উনার রাত। অর্থাৎ মহাপবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফ উনার রাত


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘মহান আল্লাহ পাক উনার নিদর্শন সম্বলিত দিবসগুলিকে স্মরণ করিয়ে দিন সমস্ত কায়িনাতকে। নিশ্চয়ই এর মধ্যে ধৈর্যশীল ও শোকরগোজার বান্দা-বান্দীদের জন্য ইবরত ও নছীহত রয়েছে।’ সুবহানাল্লাহ!
আজ রাতটিই পবিত্র রজবুল হারাম শরীফ উনার ১লা জুমুয়াহ উনার রাত। অর্থাৎ মহাপবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফ উনার রাত। সুবহানাল্লাহ! ফলে সুমহান রজবুল হারাম শরীফ উনার বেমেছাল ও বরকতময় পহেলা জুমুয়াহ উনার রাতটি হচ্ছেন- নিশ্চিতভাবে দোয়া কবুলের রাত। সুবহানাল্লাহ!
তাই প্রত্যেকের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে, মহাপবিত্র এ রাতটি তওবা ইস্তেগফার, ইবাদত-বন্দেগী ও দোয়া মুনাজাতে কাটানো। আর পরের দিন রোযা রাখা। আর সরকারের জন্যও ফরয হচ্ছে- মাহফিলসমূহের সার্বিক আনজাম দেয়ার সাথে সাথে উনাদের পবিত্র জীবনী মুবারক ও পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফ উনার বিষয়ে শিশুশ্রেণী থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ শ্রেণী পর্যন্ত সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করা এবং উক্ত দিবসে সরকার ছুটি ঘোষণা করা।

যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইউস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যূল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদে রসূল, মাওলানা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আর (হে আমার হাবীব, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি তাদেরকে (সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসীকে) আইয়্যামিল্লাহ তথা মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ বিশেষ দিনগুলো সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দিন, জানিয়ে দিন। নিশ্চয়ই এই বিশেষ বিশেষ দিনগুলো উনাদের মধ্যে অবশ্যই প্রত্যেক শোকরগুজার ও ধৈর্যশীল বান্দা-বান্দীদের জন্য নির্দশন মুবারক রয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! আর সেই মহাসম্মানিত আইয়্যামুল্লাহ তথা মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ বিশেষ দিবসসমূহ উনাদের এক অনন্য বেমেছাল মহাসম্মানিত বরকতপূর্ণ ফযীলতপূর্ণ বিশেষ রাত ও দিবস হচ্ছেন রজবুল হারাম শরীফ উনার পহেলা জুমুয়া উনার রাত ও দিন। সুবহানাল্লাহ! আর আজ দিবাগত রাতটিই সুমহান রজবুল হারাম শরীফ উনার বেমেছাল বরকতময় পহেলা জুমুয়াহ উনার রাত। সুবহানাল্লাহ! যে রাতটি হচ্ছেন নিশ্চিতভাবে দোয়া কবুলের রাত। সুবহানাল্লাহ!

এই মহাপবিত্র রজবুল হারাম শরীফ উনার পহেলা জুমুয়া উনার রাতে আবূ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার ও সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম উনাদের মহাপবিত্র মহাসম্মানিত রহমতপূর্ণ, বরকতপূর্ণ, সাকীনাপূর্ণ, ফযীলতপূর্ণ আযীমুশ্শান নিসবাতুল আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। আর সেই মুবারক রাতেই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সম্মানিত আম্মা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক খিদমতে কুদরতীভাবে তাশরীফ মুবারক নেন। যার কারণে এ মুবারক রাত্রিটি সারা বিশ্বে পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফ হিসেবে মশহুর। অর্থাৎ তারিখ হিসেবে পবিত্র রজবুল হারাম শরীফ মাস উনার ১লা তারিখ। আর বার হিসেবে পবিত্র রজবুল হারাম শরীফ মাস উনার প্রথম জুমুয়া উনার রাতটিই হচ্ছেন- পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব শরীফ উনার মুবারক রাত। সুবহানাল্লাহ! তাই এই মুবারক রজনীর মর্যাদা-মর্তবা, বুযূর্গী-সম্মান, অন্যান্য রাতের চেয়ে লক্ষ-কোটিগুণ বেশি। এমনকি পবিত্র লাইলাতুল বরাত ও পবিত্র লাইলাতুল ক্বদরের চেয়েও লক্ষ-কোটিগুণ বেশি। সুবহানাল্লাহ!

আমরা ইনশাআল্লাহ আজ দিবাগত বা’দ মাগরিব ঢাকা রাজারবাগ দরবার শরীফে আমাদের সুন্নতি জামে মসজিদে পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ ও বিশেষ ওয়াজ মাহফিল উনার পর বাদ ইশা পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ করতঃ বিশেষভাবে দুয়া-মুনাজাত মুবারক করবো এবং পরের দিন রোযা রাখবো। কেননা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক অর্জণের লক্ষ্যে পবিত্র রজবুল হারাম শরীফ মাস উনার যে কোনো একদিন পবিত্র রোযা রাখবে ও কোনো একরাত ইবাদতে কাটাবে মহান আল্লাহ পাক তিনি তার আমলনামায় পূর্ণ এক বৎসর রোযা রাখার ও পূর্ণ এক বৎসর রাতে ইবাদত করার ফযীলত লিখে দিবেন।” সুবহানাল্লাহ!¬¬ তাই প্রত্যেকের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে, এ মহাপবিত্র রাতটি তওবা ইস্তেগফার, ইবাদত-বন্দেগী, পবিত্র মীলাদ শরীফ, পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ ও দোয়া মুনাজাতে কাটানো। আর পরের দিন রোযা রাখা।

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে