আজ মহা-মহিমান্বিত ৭ই রবীউল আউয়াল শরীফ! মুবারক হো- আফদ্বালুন নিসা বা’দাল আম্বিয়ায়ি ওয়া উম্মাহাতিল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক বিলাদত শরীফ।


সব প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ ও সালাম। আজ মহামহিমান্বিত ৭ই রবীউল আউয়াল শরীফ।

সাইয়্যিদাতুন নিসা, যাওজাতু মুজাদ্দিদে আ’যম, আফদ্বালুন নিসা বা’দাল আম্বিয়ায়ি ওয়া উম্মাহাতিল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, উম্মুল উমাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক বিলাদত শরীফ। যিনি সর্বোত্তম, সর্বশ্রেষ্ঠ ও পরিপূর্ণরূপে অন্তরে ধারণ করেছেন মুজাদ্দিদে আ’যম, মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে- এবং বুক মুবারক-এ ধারণ করেছেন খলীফাতুল উমাম হযরত মুজাদ্দিদে ছানী আলাইহিস সালাম; ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম, হযরত শাহযাদী উলা ক্বিবলা আলাইহাস সালাম; ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত উম্মে কুলসুম আলাইহাস সালাম, হযরত শাহযাদী ছানী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনাদেরকে। এবং মুবারক আহলে বাইত শরীফ-এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন কুতুবুল আলম, বাবুল ইলম, শাফীউল উমাম হযরত শাহদামাদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে।

পৃথিবীর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মুজাদ্দিদ তথা মুজাদ্দিদে আ’যম উনার মুহতারাম সহধর্মিণী হিসেবে উম্মুল উমাম, মুহতারামা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার এক সেকেন্ডের খিদমত, মুরীদ-মুতাক্বিদ অন্য সবার সম্মিলিত খিদমতের চেয়ে লক্ষ-কোটি গুণ ঊর্ধ্বে, যথাযথই তিনি সাইয়্যিদায়ে মঈনে মুজাদ্দিদে আ’যম। তিনি এ যামানার মু’মিন মুসলমানগণের রূহানী মাতা তথা উম্মুল মু’মিনীন। উম্মাহর মাতা তথা উম্মুল উমাম। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, সাইয়্যিদাতুন নিসা, যাওজাতু মুজাদ্দিদে আ’যম, আফদ্বালুন নিসা বা’দাল আম্বিয়ায়ি ওয়া উম্মাহাতিল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, যামানার উম্মুল মু’মিনীন, উম্মুল উমাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার বিলাদত শরীফ, উনার বেমেছাল শান, মান, মর্যাদা, ফাযায়িল, ফযীলত সম্পর্কে মুসলিম উম্মাহ চরম বেখবর। অথচ উনাদের উসীলায়ই মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা রহমত, বরকত, ছাকীনা ও ইহসান যমীনে নাযিল করে থাকেন।

প্রসঙ্গত হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে- নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে যে নিয়ামত দান করেছেন তার জন্য মহান আল্লাহ পাক উনাকে মুহব্বত করো। আর আমাকে মুহব্বত করো মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি লাভ করার জন্য। আর আমার আহলে বাইত আলাইহিমুস সালামগণ উনাদেরকে মুহব্বত করো আমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য।”

মূলত উনার ফাযায়িল-ফযীলত, মর্যাদা-মর্তবা ও বুযূর্গী সম্পর্কিত ইলম না থাকার কারণেই অনেকে উনাকে যথাযথ মুহব্বত ও অনুসরণ করতে পারছে না। যার ফলে তারা মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খাছ রেযামন্দি হাছিলে ব্যর্থ হচ্ছে। তাই উনার সম্পর্কে জানা সকলের জন্যই ফরয। কেননা, যে বিষয়টা আমল করা ফরয সে বিষয়ে ইলম অর্জন করাও ফরয। প্রসঙ্গতঃ ‘সূরা কাহাফ-এর ১০৯ নম্বর আয়াত শরীফ-এ আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলে দিন, আমার রব মহান আল্লাহ পাক উনার শান-মান লিখার জন্য যদি সমুদ্রের পানিকে কালি বানানো হয় তবুও মহান আল্লাহ পাক উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত শেষ হওয়ার পূর্বেই সমুদ্র নিঃশেষ হয়ে যাবে। আরো অনুরূপ যোগ করা হলেও।” বলাবাহুল্য, এটা যেমন স্বয়ং আল্লাহ পাক উনার শান মুবারকে তেমনি উনার হাবীব আখিরী রসূল হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শানেও এবং সাথে সাথে উনাদের রঙে রঞ্জিত মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদাতুন নিসা, যাওজাতু মুজাদ্দিদে আ’যম, আফদ্বালুন নিসা বা’দাল আম্বিয়ায়ি ওয়া উম্মাহাতিল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনাদের শানেও যথাযোগ্যভাবে প্রযোজ্য।

সঙ্গতকারণেই এই সুমহান বিলাদত শরীফ-এর তাৎপর্য, গুরুত্ব, মহত্ত্ব, শান-শওকত লিখিবার যেমন কোন ভাষার শুরু এবং শেষ নাই তেমনি বিলাদত শরীফ পালনের ব্যাপকতার, ঘনঘটার, শান-শওকতেরও তথা সমন্বিত আয়োজনেরও কোন পরিশেষ নাই। সবকিছুই এখানে ব্যর্থ। সম্পৃক্ত শুধুই অক্ষমতা প্রকাশ। অনিবার্য এখানে ক্ষমা প্রার্থনা। বলার অপেক্ষা না রেখে আমরাও তাই এই সুমহান বিলাদত শরীফ প্রসঙ্গে আমাদের সব অক্ষমতার ভারে প্রথমেই করছি শেষ স্তরের ক্ষমা প্রার্থনা। নিবেদন করছি সমগ্র সত্তার নিংড়ানো নিবেদিত মুহব্বত ও শেষ স্তরের আত্মসমপূর্ণ। মহান আল্লাহ পাক তিনি আহলে বাইত শরীফ সম্পর্কে ইরশাদ করেন, “হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি (উম্মতদেরকে) বলুন, আমি তোমাদের নিকট কোন প্রতিদান চাইনা। তবে আমার নিকটজন তথা আহলে বাইতগণ উনাদের প্রতি তোমরা সদাচরণ করবে।” (সূরা শূরা/২৩)

আবারো বলতে হয়, এক্ষেত্রে বর্তমান যামানায় হযরত আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদের মাঝে লক্ষ্যস্থল হলেন, সাইয়্যিদাতুন নিসা, যাওজাতু মুজাদ্দিদে আ’যম, আফদ্বালুন নিসা বা’দাল আম্বিয়ায়ি ওয়া উম্মাহাতিল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনি। উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালামগণ, উনাদের সমন্বিত নিয়ামত নিবিষ্টভাবে পরিপূর্ণ হয়েছে উনার মাঝে। বিশেষত: বেমেছালভাবে ফুটে উঠেছে উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম ও উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাদের ফাযায়িল-ফযীলত, আমল-খিদমত, তায়াল্লুক-নিছবত থেকে তা’লীম তরবিয়ত সবকিছু। (সুবহানাল্লাহ!) উনার সাথে খাছ তায়াল্লুক নিছবত হাছিলের মাধ্যমেই কেবলমাত্র সম্ভব মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের রেযামন্দি ও সন্তুষ্টি হাছিল করা। সুবহানাল্লাহ!

বলাবাহুল্য, হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি বর্তমান মুসলিম উম্মাহর জন্য সুমহান আদর্শ। উনার মুবারক ছোহবত ইখতিয়ার করেই মুসলিম নারী বুঝতে পারবে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, হযরত আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম, মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের শান-মান, মর্যাদা, বুযূর্গী-সম্মান এবং হাছিল করতে পারবে নিছবত। প্রসঙ্গত আরো উল্লেখ্য যে, সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম, উনার ফায়িয-তাওয়াজ্জুহ লাভের মাধ্যমে অর্থাৎ উনার মুবারক ছোহবত ইখতিয়ারের মাধ্যমে নারী টিজিং, নারী নির্যাতন, পরকীয়া, লিভ টুগেদার, পারিবারিক বন্ধন ভঙ্গ, আত্মহত্যার প্রবণতা, মাদকাসক্তি, খুন থেকে শুরু করে সব ধরনের সামাজিক অবক্ষয় থেকে দেশ জাতি মুক্তি লাভ করবে। কারণ, তাতে সব মায়েরাই রূহানী যোগ্যতা হাছিল করবে। এবং এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের সন্তানরাও ভাল হয়ে যাবে। সুতরাং বলতে গোটা দেশ-জাতিই শুদ্ধ হয়ে যাবে।

সঙ্গতকারণেই মুজাদ্দিদে আ’যম, মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে এমন ফযীলত হাদিয়া করেছেন যেন উভয়ে উভয়ের প্রতিবিম্ব। প্রতিচ্ছবি। পার্থক্য শুধু একজন মুজাদ্দিদে আ’যম। অপরজন জাওযাতুন মুজাদ্দিদে আ’যম। সঙ্গতকারণেই এর পরিসর কেবল রাজারবাগ শরীফ অথবা রাজারবাগ শরীফ-এর সিলসিলাভুক্ত পরিম-লেই পরিশেষ হবার জন্য নয়। বরং অনিবার্য কারণেই তথা নিজস্ব প্রয়োজনেই পৃথিবীর প্রত্যেক মা-বোনদের সাইয়্যিদাতুন নিসা, যাওজাতু মুজাদ্দিদে আ’যম, আফদ্বালুন নিসা বা’দাল আম্বিয়ায়ি ওয়া উম্মাহাতিল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার প্রসঙ্গে প্রজ্ঞাপূর্ণ ইলম পরিপূর্ণভাবে অর্জন করতে হবে। গোটা বিশ্বপরিসরেই এর পর্যালোচনা করিতে হবে। গোটা বিশ্বব্যাপীই এই সুমহান বিলাদত শরীফ ব্যাপক শান-শওকত ও জওক-শওক তথা যথাযোগ্য ভাবগাম্ভীর্য এবং সর্বশেষ প্রচেষ্টার প্রতিফলন ঘটিয়ে পালন করতে ইবে। এবং দিন দিন উত্তরোত্তর এটার ব্যাপকতা বিস্তর বিস্তার ঘটাতে হবে ইনশাআল্লাহ।

মূলতঃ এর উপরই নির্ভর করবে ভক্ত মুরীদ-মুতাকিদ, আশিকীন-মুহেব্বীন বিশেষতঃ আনজুমানে আল বাইয়্যিনাত তথা আন্তর্জাতিক আল বাইয়্যিনাত-এর মূল্যায়ন অথবা অর্জিত সফলতা বা ব্যর্থতা। মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি মহান মুজাদ্দিদে আ’যম, গাউছুল আ’যম, দস্তগীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সাইয়্যিদাতুন নিসা, যাওজাতু মুজাদ্দিদে আ’যম, আফদ্বালুন নিসা বা’দাল আম্বিয়ায়ি ওয়া উম্মাহাতিল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক উছীলায় তা খুলুছিয়াতের সাথে পালন করার তাওফিক দান করুন। (আমীন)

সম্পাদকীয়-দৈনিক আল ইহসান-৩১.০১.১৪৩২ হিজরী, ০৩ তাসি ১৩৭৯ শামসি।

Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+