আজ মহিমান্বিত ৫ মুহররমুল হারাম শরীফ- সাইয়্যিদাতুন নিসা, উম্মু উম্মিল উমাম, মাহজুবা, ত্বাহিরা, ত্বইয়িবা, তাওশিয়া, তাজিমা, তাকরিমা, শাফিয়াহ, মুশাফ্ফায়াহ, হাবীবাতুল্লাহ, জামিয়াতুল আলক্বাব সাইয়্যিদাতুনা হযরত নানী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার সুমহান দিবস। মুসলিম উম্মাহর উচিত- যথাযথভাবে এ দিনের হক্ব আদায়ে নিবেদিত হওয়া।


বেহেশতে দাখিল হওয়া মুসলমানদের জন্য বিশেষ আকাঙ্খিত এবং বহুল আলোচিত বিষয়। কিন্তু আলোচনা যখন আসে তখন এমন ধরন হয়- যেন শুধু পুরুষরাই বেহেশতে যাবেন। অথচ নারীরাও যে বেহেশতে উঁচু মর্যাদায় থাকবেন অথবা নারীরাও যে বিশেষ মুত্তাক্বী ও মুহসীনা হতে পারেন- এ বিষয়টি খুব একটা আলোচনা হয় না। যা মূলত নামধারী মালানা ও সাধারণ মুসলমান উভয়েরই বিরাট অজ্ঞতা ও উদাসীনতা। নাঊযুবিল্লাহ! অপরদিকে সঠিক আক্বীদার মুসলমান মাত্রই ওলীআল্লাহগণ উনাদের প্রতি বিশ্বাসী ও শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু খুব কম মুসলমানের মাঝেই এ ধারণা বিরাজমান যে- মুসলিম মহিলাগণ উনারাও মহান ও বিরাট ওলীআল্লাহ হতে পারেন। লাখ লাখ পুরুষ ওলীআল্লাহ উনাদের পাশাপাশি লাখ লাখ মহিলা ওলীআল্লাহও যে থাকতে পারেন সে ধারণা খুব কম সংখ্যক লোকেরই আছে। ইতিহাসের শুরু থেকেই হযরত মহিলা ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্না এবং হযরত মহিলা ওলীআল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহিন্নাগণ উনাদের আলোচনা, মূল্যায়ন, স্মরণ উনাদের সংশ্লিষ্ট দিবস যথাযথ তা’যীম-তাকরীমের সাথে আদৌ পালিত হয়নি বললেই চলে। যা অতীব দুঃখজনক। অথচ মহান আল্লাহ পাক তিনি ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা ঠিকই কামিল-নেক্কার-মুত্তাক্বী মহিলাগণ উনাদেরকে মর্যাদা-মর্তবা ও ফযীলত দান করেছেন। প্রসঙ্গত, মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে উম্মু রুহিল্লাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত মারইয়াম আলাইহাস সালাম উনার সম্পর্কে ইরশাদ মুবারক করেন, “উনার সমকক্ষ কোনো পুরুষও নেই।” বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, এ ধারাবাহিকতায় ইতিহাসে সর্বপ্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ তাজদীদ করেছেন যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, যামানার লক্ষ্যস্থল আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি। তিনিই সর্বপ্রথম হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, হযরত বানাতু রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত মহিলা ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্না তথা ইতিহাসে অবলুপ্ত সকল মহিলা ওলীআল্লাহগণ উনাদের সংশ্লিষ্ট বিশেষ দিন ও বিষয় যথাযথ তা’যীম-তাকরীম, জওক-শওক, মুহব্বত, খুলুছিয়ত, আদব-শরাফত এবং আর্থিক খিদমতের মাধ্যমে পালনের দ্বারা আখাচ্ছুল খাছ রহমত, বরকত ও ফযীলত হাছিলের সম্পূর্ণ নতুন তাজদীদ উম্মাহকে হাদিয়া করেছেন। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার সুমহান তাজদীদ মুবারকের ধারাবাহিকতায় আরেক অনবদ্য তাজদীদ মুবারক হচ্ছেন- ৫ মুহররমুল হারাম শরীফ সাইয়্যিদাতুন নিসা, উম্মু উম্মিল উমাম, মাহজুবা, ত্বাহিরা, ত্বইয়িবা, তাওশিয়া, তাজিমা, তাকরিমা, শাফিয়াহ, মুশাফ্ফায়াহ, হাবীবাতুল্লাহ, জামিয়াতুল আলক্বাব সাইয়্যিদাতুনা হযরত নানী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার সুমহান দিবস যথাযথভাবে পালন করা। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদাতুনা হযরত নানী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন সম্মানিত ‘সাইয়্যিদ’ খান্দানের তথা ‘আওলাদে রসূল’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। উনাদের পূর্বপূরুষ পবিত্র মক্কা শরীফ উনার অধিবাসী ছিলেন। সেখান থেকে পরবর্তীতে এদেশে তাশরীফ এনেছেন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত নানী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত পিতা ছিলেন অত্র উপমহাদেশের বিশেষতঃ মাদরাসার আরবী বিভাগের প্রধান, ক্বারীউল কুররা, উস্তাযুল উলামা ওয়াল মাশায়িখ, মমতাজুল মুহাদ্দিছীন ওয়াল মুফাস্সিরীন ওয়াল ফুক্বাহা, আওলাদে রসূল হযরতুল আল্লামা ক্বারী আব্দুল আজিজ আলাইহিস সালাম। সাইয়্যিদাতুনা হযরত নানী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি শুধু পর্দার বেমেছাল দৃষ্টান্তই ছিলেন না; পাশাপাশি তিনি ছিলেন বেমেছাল আলিমা। তিনি পবিত্র কালামে পাক উনার হাফিযা ছিলেন এবং বেমেছাল ক্বারী ছিলেন। ক্বিরাত শাস্ত্রে উনার অনেক উদ্ভাবনী ইলম এবং আলাদা প্রজ্ঞা ছিল। তিনি সারা জীবন হাজার হাজার মহিলাকে তালীম-তরবিয়ত দিয়েছেন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত নানী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত নানা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সাথে বড় বড় আরবী-ফারসী কিতাবের পান্ডুলিপির কারেকশন করে দিতেন। অভূতপূর্ব দক্ষতায় পবিত্র কুরআন শরীফ বিশুদ্ধভাবে ছাপানোর প্রুফ দেখতেন। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত নানা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার ছিহহাতী শান ও মারীদ্বী শান উভয় অবস্থাতেই হযরত নানী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি বেমেছাল খিদমতের আঞ্জাম দিতেন। দুনিয়াবী কোনো চাহিদা তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত নানা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নিকট পেশ করতেন না। সাইয়্যিদুনা হযরত নানা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি অঢেল অর্থ উপার্জন করতে পারতেন। কিন্তু অর্থকে প্রাধান্য না দিয়ে তিনি ইলমের খিদমতে নিয়োজিত থাকতেন আর উনাকে নিবেদিতভাবে সাহায্য করতেন ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে উৎসাহ যুগিয়ে দ্বীন-দুনিয়ার বাদশাহ বানিয়ে রাখতেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত নানী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! তখনকার সমাজে এ কথা বহুল প্রচলিত ছিলো যে, “সাইয়্যিদুনা হযরত নানা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার কখনো ওযু ভাঙতো না। অর্থাৎ অধিকাংশেরও অধিকাংশ সময় ওযু অবস্থায় থাকতেন তিনি। আর “সাইয়্যিদাতুনা হযরত নানী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি কখনো নামায ছাড়া থাকতেন না। অর্থাৎ অধিকাংশেরও অধিকাংশ সময় তিনি বিভিন্ন নফল নামায আদায়ে মশগুল থাকতেন। সুবহানাল্লাহ! অপরদিকে সুনিপুণ গৃহকর্মেও হযরত নানী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন অতুলনীয়া এবং সুস্বাদু রান্না-বান্নায় এবং অভিনব পরিবেশনে স্বনামধন্যা। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদাতুনা হযরত নানী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পূর্বে নিজে নিজের নূরানী হাত মুবারক ও পবিত্র ক্বদম মুবারক উনাদের নখ মুবারক কেটে ওযু মুবারক ও গোছল মুবারক করে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার পবিত্র ‘সূরা ইয়াসীন’ শরীফ তিলাওয়াত করে উত্তর দক্ষিণ হয়ে শুয়ে পবিত্র ক্বিবলা শরীফ উনার দিকে নূরানী চেহারা (মুখ) মুবারক রেখে পবিত্র কালিমা শরীফ “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মাদুর রসূলুল্লাহ” ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জোরে জোরে পাঠ করতে করতে মহান বারে ইলাহী উনার পরম দীদার মুবারকে চলে যান। এ মহিমান্বিত দিনটি ছিল- ১৪৩৪ হিজরী সনের ৫ মুহররমুল হারাম শরীফ ইয়াওমুছ ছুলাছা বা মঙ্গলবার অপরাহ্ন ৩:১০ মিনিট। ত্বাহিরা, ত্বইয়িবা, সাইয়্যিদাতুন নিসা, উম্মুল উমাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি স্বয়ং নিজে হযরত নানী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র গোসল মুবারক উনার আঞ্জাম দেন। ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার অন্তর্গত চারাবাগের পারিবারিক কবরস্থানে সাইয়্যিদুনা হযরত নানা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার পাশেই উনার পবিত্র মাযার শরীফ অবস্থিত। উল্লেখ্য, জীবদ্দশায় সাইয়্যিদাতুনা হযরত নানী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার অনেক কারামত প্রকাশিত হয়। পরীক্ষায় ভলো করা, বিয়ে হওয়া, অসুখ-বিসুখ ভালো হওয়া ইত্যাদি ছিল উনার আম কারামত। তবে উনার আখাছছুল খাছ কারামত হচ্ছে যে, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের আগেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন এবং যতদিন পার হয়েছে তত গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন যে, উনার মহাসম্মানিতা আওলাদ বিনতুল মুকররমা উম্মুল উমাম হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি হবেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম ও সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাদের ক্বায়িম-মাক্বাম । সুবহানাল্লাহ! বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, সাইয়্যিদাতুনা হযরত নানী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি একদম শুরুর পর্যায়ে সাইয়্যিদুনা হযরত নানা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার জবান মুবারকে হযরত সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সম্পর্কে শুনেই উনার বুযুর্গী মুবারক সম্পর্কে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার পরে মহিলাদের মধ্যে জাহিরীভাবে উনিই হযরত সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার বুযুর্গী অনুধাবনে অগ্রণী ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! প্রসঙ্গত আরো উল্লেখ্য, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার আখাছছুল খাছ ওলী উনাদের প্রতি মুহব্বতের প্রাবল্যে উনাদের পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর বিশেষভাবে ইলহাম করেন- আপনি কি আমল নিয়ে এসেছেন? সেক্ষেত্রে সাইয়্যিদাতুনা হযরত নানী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার জবাব হবে বিশেষ বেমেছাল এবং অভূতপূর্ব মকবুল ও আলীশান। উনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে বলতে পারবেন- আয় বারে ইলাহী! আমি আপনার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মুজাদ্দিদ উনার মহাসম্মানিতা যাওজুম মুকাররামাহ, ক্বায়িম-মাক্বামে উম্মাহাতুল মু’মিনীন, উম্মুল উমাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিতা মাতা। উনার উসীলায় আপনার লক্ষ-কোটি বান্দা-বান্দী এবং আপনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার লক্ষ-কোটি উম্মত উনারা আপনাদের মত মুবারক ও পথ মুবারক চলেছে। আপনাদের অসন্তুষ্টিমূলক স্থান জাহান্নামের আগুন থেকে আজকে নাজাত পেয়েছে এবং অনেকেই বিরাট ওলীআল্লাহ হয়ে আজকে আপনাদের খাছ দীদারে মশগুল হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! সঙ্গতকারণেই আজ উম্মাহর জন্য ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে- সাইয়্যিদাতুন নিসা, উম্মু উম্মিল উমাম, মাহজুবা, ত্বাহিরা, ত্বইয়িবা, তাওশিয়া, তাজিমা, তাকরিমা, শাফিয়াহ, মুশাফ্ফায়াহ, হাবীবাতুল্লাহ, জামিয়াতুল আলক্বাব সাইয়্যিদাতুনা হযরত নানী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার মহিমান্বিত বিছাল শান মুবারক প্রকাশের সুমহান দিনটি যথাযথ তা’যীম-তাকরীমের সাথে পালন করা, উনার শান-মান আলোচনা করা, উনার সম্মানার্থে নেক কাজ করা এবং সমূহ হক্ব আদায় করা। মহান মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি ও সম্মানিত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের উসীলায় মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা করার তাওফীক দান করুন, কবুল করুন ও কামিয়াবী দান করুন এবং গায়েবী মদদ করুন। (আমীন)
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে