আজ যিক্রুল্লাহ, খইরু খলক্বিল্লাহ, আস সিরাজুল মুনীর, ইমামুল মুত্তাক্বীন, মালিকুল জান্নাহ, আবূ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার এবং সাইয়্যিদাতু উম্মাহাত, উম্মুল কায়িনাত, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, হাবীবাতুল্লাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম উনার সুমহান বরকতময় আযীমুশ শান নিকাহিল আযীম শরীফ দিবস। এবং উনাদের বরকতে পবিত্র পহেলা রজবুল হারাম শরীফ দিবস প্রসঙ্গ।


আজ সুমহান বরকতময় ১লা রজবুল হারাম শরীফ। ইহা সে-ই সুমহান তারিখ বা দিবস মুবারক; যে সুমহান তারিখের বরকতময় রাতে সুসম্পন্ন হয়-
যিক্রুল্লাহ, খইরু খলক্বিল্লাহ, আস সিরাজুল মুনীর, ইমামুল মুত্তাক্বীন, মালিকুল জান্নাহ, আবূ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার এবং
সাইয়্যিদাতু উম্মাহাত, উম্মুল কায়িনাত, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, হাবীবাতুল্লাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম উনাদের সুমহান বরকতময় আযীমুশ্ শান নিকাহিল আযীম শরীফ। সুবহানাল্লাহ!
অর্থাৎ ১লা রজবুল হারাম শরীফ হচ্ছে- যিক্রুল্লাহ, খইরু খলক্বিল্লাহ, আস সিরাজুল মুনীর, ইমামুল মুত্তাক্বীন, মালিকুল জান্নাহ, আবূ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার এবং সাইয়্যিদাতু উম্মাহাত, উম্মুল কায়িনাত, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, হাবীবাতুল্লাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম উনাদের সুমহান বরকতময় আযীমুশ শান নিকাহিল আযীম শরীফ দিবস। আর উনাদের স্পর্শ ধন্য, নিসবত ধন্য হওয়ার কারণেই ১লা রজব রাতটি নিশ্চিত দোয়া কবুলের পাঁচ মহান রাতের এক সুমহান রাত।
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “হে আমার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বান্দাদেরকে জিন-ইনসানকে, সারা কায়িনাতবাসীদেরকে জানিয়ে দিন যে, আমি তোমাদের নিকট কোনো বিনিময় চাচ্ছি না। আর চাওয়াটাও স্বাভাবিক নয়; তোমাদের পক্ষে দেয়াও কস্মিনকালে সম্ভাব নয়। তবে তোমরা যদি ইহকালে ও পরকালে হাক্বীক্বী কামিয়াবী হাছিল করতে চাও; তাহলে তোমাদের জন্য ফরয হচ্ছে- আমার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা, তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা, উনাদের খিদমত মুবারক উনার আঞ্জাম দেয়া।” সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা শূরা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২৩)
প্রসঙ্গত, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে প্রথম স্তরে হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ওয়ালিদাইন শরীফাইন আলাইহিমাস সালাম তথা উনার মহাসম্মানিত হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনারা। সুবহানাল্লাহ! কারণ উনাদের মাধ্যমে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দুনিয়ার যমীনে সম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ!
এ প্রসঙ্গে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, “মহান আল্লাহ পাক তিনি গোত্রকে আহাল বা পরিবারে বিভক্ত করে আমাকে সর্বোত্তম সম্মানিত আহাল বা পরিবার মুবারক-এ রেখেছেন। অর্থাৎ আমি সর্বোত্তম সম্মানিত আহাল বা পরিবার মুবারক-এ সম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছি।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ!
উল্লেখ্য, পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের পর যখন লক্ষ লক্ষ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বেমেছাল তা’যীম, তাকরীম করে দ-ায়মান; তখন উনার সম্মানিতা দুধমাতা সাইয়্যিদাতুনা হযরত হালিমা সাদীয়া আলাইহাস সালাম তিনি আগমন করলে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার চাদর মুবারক বিছিয়ে দিলেন উনাকে বসার জন্য। উনার প্রতি এ তা’যীম-তাকরীম দেখে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারা সবাই মহা আশ্চর্যান্বিত হলেন। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ!
সঙ্গতকারণেই উপলব্ধি করা উচিত যে, সম্মানিতা দুধমাতা সাইয়্যিদাতুনা হযরত হালিমা সাদীয়া আলাইহাস সালাম উনাকেই যদি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এতো সম্মান বণ্টন করেন, তাহলে উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান সাইয়্যিদাতুনা হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম উনাকে উনি কত সম্মান ও নিয়ামত এবং শান-মান, মর্যাদা-মর্তবা, ফযীলত বণ্টন করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “যদি আমার মহাসম্মানিত হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনারা দু’জন অথবা উনাদের দু’জনের একজন আমাকে সম্মানিত নামায (ফরয নামায) মুবারক আদায় করা অবস্থায় আহ্বান মুবারক করতেন, তাহলে আমি অবশ্য অবশ্যই ওই অবস্থায় থেকেও (নামায ছেড়ে দিয়ে) উনাদের সম্মানিত আহ্বান মুবারক-এ সাড়া দিতাম।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ!
স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এই সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মাধ্যমে কায়িনাতবাসীকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, উনার মহাসম্মানিত হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক এবং পবিত্রতা মুবারক কত বেমেছাল। তাই উনার আলোচনা মুবারক করলে উম্মাহর মাঝে তথা ৯৮ ভাগ অধিবাসী মুসলমানের মাঝে উনার অব্যক্ত, অনুপম মুবারক প্রভাব পড়তো। প্রতিফলন হতো। অব্যক্ত অশেষ রহমত মুবারক নাযিল হতো। তাতে করে এদেশবাসীর মাঝে দুর্নীতি থেকে সব সামাজিক ব্যাধি দূর হতো। ব্যক্তি, সমাজ ও সরকার কলুষমুক্ত হতো।
প্রসঙ্গত, আজ সুমহান বেমেছাল বরকতময় ১লা রজবুল হারাম শরীফ- যিক্রুল্লাহ, খইরু খলক্বিল্লাহ, আস সিরাজুল মুনীর, ইমামুল মুত্তাক্বীন, মালিকুল জান্নাহ, আবূ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার এবং সাইয়্যিদাতু উম্মাহাত, উম্মুল কায়িনাত, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, হাবীবাতুল্লাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম উনার সুমহান বরকতময় আযীমুশ শান নিকাহিল আযীম শরীফ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
মূলত, এ সুমহান দিনের সম্মানেই মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, “মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দশন মুবারক সম্বলিত দিবসগুলিকে স্মরণ করিয়ে দিন সমস্ত কায়িনাতকে। নিশ্চয়ই এর মধ্যে ধৈর্যশীল ও শোকরগোজার বান্দা-বান্দীদের জন্য ইবরত ও নছীহত রয়েছে।” (পবিত্র সূরা ইবরাহীম শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৫)
তাহলে সহজেই অনুমেয় যিক্রুল্লাহ, খইরু খলক্বিল্লাহ, আস সিরাজুল মুনীর, ইমামুল মুত্তাক্বীন, মালিকুল জান্নাহ, আবূ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার এবং সাইয়্যিদাতু উম্মাহাত, উম্মুল কায়িনাত, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, হাবীবাতুল্লাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম উনার সুমহান বরকতময় আযীমুশ শান নিকাহিল আযীম শরীফ তথা ১লা রজবুল হারাম শরীফ উনার ফাযায়িল-ফযীলত, সম্মান বুযুর্গী, মর্যাদা-মর্তবা মুবারক কতটুকু? প্রকৃতপক্ষে সেটা অনুধাবন করা, বর্ণনা করা চিন্তা-ফিকিরের সম্পূর্ণ ঊর্ধ্বে।
সঙ্গতকারণেই আজ ১লা রজব মহিমান্বিত নিকাহিল আযীম শরীফ স্মরণ, মূল্যায়ন, অত্যন্ত মুহব্বত, খুলুছিয়ত, জওক, শওক ও আদবের সাথে পালন করলে তা উম্মাহর জন্য কত ফযীলত, নাজাত, নিয়ামতের কারণ তা কল্পনা করা দুঃসাধ্য। বিপরীত দিকে যারা উনাদের সম্পর্কে অজ্ঞতা ও আদবহীনতার পরিচয় দিবে তারাও যে কত হালাক তা চিন্তা করাও দুঃসাধ্য। নাঊযুবিল্লাহ মিন যালিক!
মহান সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম এবং সম্মানিত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুবারক উসীলায় ও ফায়েজ বরকতে মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে মহিমান্বিত এ দিন যথাযথভাবে পালনের ও ফযীলত, মাগফিরাত ও নিয়ামত হাছিলের তাওফীক দেন। আমীন।
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে