আজ সুমহান বরকতময় ঐতিহাসিক পবিত্র ১৪ই রজবুল হারাম শরীফ। হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ষষ্ঠ ইমাম, সুলত্বানুল মাশায়িখ, ইমামুছ ছিদ্দীক্বীন, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু ওয়া সালাম তিনি এদিন উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ। উনার কিছু ফাযায়িল ফযিলত।


আজ সুমহান বরকতময় ঐতিহাসিক পবিত্র ১৪ই রজবুল হারাম শরীফ। হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ষষ্ঠ ইমাম, সুলত্বানুল মাশায়িখ, ইমামুছ ছিদ্দীক্বীন, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু ওয়া সালাম তিনি এদিন উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ। উনার কিছু ফাযায়িল ফযিলত।
********************************************************************
উনি ছিলেন মুসতাজাবুদ দাওয়াত। অর্থাৎ যখন যা বলতেন তাই হতো যখন যা চাইতেন তাই পেতেন। সুবহানাল্লাহ।
যেমন একবার এক লোক উনার কাছে আর্জু পেশ করলে সে যেন অনেকবার সম্মানিত হজ্ব মুবারক করতে পারেন। উনি তার জন্য দোয়া করলেন সে যেন ৫০ বার সম্মানিত হজ্ব মুবারক করতে পারেন। তাই হয়েছিল। সুবহানাল্লাহ।
এক মহিলার ইনকামের একমাত্র পথ ছিল তার একটি গাভী যার দুধ বিক্রি করে তার সংসার চালাত। গাভীটা হঠাৎ মারা গেল, মহিলা তখন গাভীটাকে নিয়ে কান্নাকাটি করতে লাগল। তখন ইমামুস ছাদিস মিন আহলি বাইতি রসুলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনি মহিলাকে বললেন তোমার গাভীটা জীবিত করে দিলে তুমি কি খুশী? মহিলা বলল আপনি আমার সাথে কি মশকরা করতেছেন ? নাউযুবিল্লাহ। উনি বললেন আমরা কারো সাথে মশকরা করিনা। তখন ইমামুস ছাদিস মিন আহলি বাইতি রসুলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনি যখন বললেন কুম বিইজনিল্লাহ। সাথে সাথে গাভীটা জীবিত হয়েগেল। সুবহানাল্লাহ। মহিলা উনাকে খুজার চেষ্টা করল কিন্তু হযরত ইমামুস ছাদিস মিন আহলি বাইতি রসুলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনি তখন অনেক লোকের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে গেলেন। সুবহানাল্লাহ। এমনি লক্ষ কোটি কারামত মুবারক আছে উনার যার আলোচনা করে কখনোই শেষ করা সম্ভব না। সুবহানাল্লাহ।
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ سَلَامٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالى عَنْهُ قَالَ مَا قُتِلَ نَبِىٌّ قَطُّ اِلَّا قُتِلَ بِهٖ سَبْعُوْنَ اَلْفًا مِنْ اُمَّتِهٖ وَلَا قُتِلَ خَلِيْفَةٌ قَطُّ اِلَّا قُتِلَ بِهٖ خَمْسَةٌ وَّثَلَاثُوْنَ اَلْفًا.
অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এমন কোনো নবী আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করা হয়নি যে, উনার কাফফারা বাবদ উনার উম্মতের সত্তর হাজার লোককে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয়নি। আর এমন কোনো খলীফা উনাকে শহীদ করা হয়নি যে, উনার কাফফারা বাবদ পঁয়ত্রিশ হাজার লোককে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয়নি।” (মুছান্নাফে আবী শায়বাহ ১৫/২২৩, মুছান্নাফে আব্দির রাজ্জাক্ব ১১/৪৪৫, আল মাত্বালিবুল আলিয়াহ ১৮/৫২, আছ ছওয়াইকুল মুহ্রিক্বহ ১/৩২৯, ত্ববাক্বতে ইবনে সা’দ ৩/৮৩, ইযালাতুল খফা’ ৬/৩১৯, তাফসীরে রূহুল বয়ান ৮/১৪৬, খাযিন ৩/৩০৩, বাগভী ৬/৫৯, আত তামহীদ ওয়াল বায়ান ১/১৮১, তারীখুল খুলাফা ১/১২৮, আর রিয়াদুন নাদ্বরাহ ফী মানাক্বিবে আশারাহ ১/২২৮, আখবারুল মদীনা ২/২২৫, আল মুহাদ্বারাত ওয়াল মুহাওয়ারাত ১/৭১, ইত্যাদি)
সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُمَا قَالَ اَوْحَى اللهُ تَعَالـٰى اِلـٰى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنِّـىْ قَتَلْتُ بِيَحْيَى بْنِ زَكَرِيَّا سَبْعِيْنَ اَلْفًا وَاِنِّـىْ قَاتِلٌ بِابْنِ ابْنَتِكَ سَبْعِيْنَ اَلْفًا وَسَبْعِيْنَ اَلْفًا.
অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট সম্মানিত ওহী মুবারক করেন যে, নিশ্চয়ই আমি হযরত ইয়াহইয়া ইবনে যাকারিয়া আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত শাহাদাত মুবারক উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সত্তর হাজার লোককে কাফফারা বাবদ নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছি, ধ্বংস করে দিয়েছি। সুবহানাল্লাহ! আর নিশ্চয়ই আমি আপনার লখতে জিগার, আওলাদ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার যিনি সম্মানিত আওলাদ ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত শাহাদাত মুবারক উনার সাথে সংশ্লিষ্ট যারা থাকবে, তাদের সত্তর হাজার এবং সত্তর হাজার তথা এক লক্ষ চল্লিশ হাজার লোককে কাফফারা বাবদ নিশ্চিহ্ন করে দিবো, ধ্বংস করে দিবো।” সুবহানাল্লাহ! (মুস্তাদরকে হাকিম শরীফ ৩/১৯৫, খছায়িছুল কুবরা শরীফ ২/২১৪, ইমতা‘উল আসমা’ ১২/২৩৭, শরহুয যারক্বানী ‘আলাল মাওয়াহিব ১০/১৫২ ইত্যাদি)
এই সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনার বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত ওহী মুবারক করে জানিয়ে দিয়েছেন যে,
اِنِّـىْ قَتَلْتُ بِيَحْيَى بْنِ زَكَرِيَّا سَبْعِيْنَ اَلْفًا وَاِنِّـىْ قَاتِلٌ بِابْنِ ابْنَتِكَ سَبْعِيْنَ اَلْفًا وَسَبْعِيْنَ اَلْفًا.
অর্থ: “নিশ্চয়ই আমি হযরত ইয়াহইয়া ইবনে যাকারিয়া আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত শাহাদাত মুবারক উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সত্তর হাজার লোককে কাফফারা বাবদ নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছি, ধ্বংস করে দিয়েছি। সুবহানাল্লাহ! আর নিশ্চয়ই আমি আপনার লখতে জিগার, আওলাদ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার যিনি সম্মানিত আওলাদ ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত শাহাদাত মুবারক উনার সাথে সংশ্লিষ্ট যারা থাকবে, সত্তর হাজার এবং সত্তর হাজার তথা এক লক্ষ চল্লিশ হাজার লোককে কাফফারা বাবদ নিশ্চিহ্ন করে দিবো, ধ্বংস করে দিবো।” সুবহানাল্লাহ!
আর এই সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ইমামুল মুহাদ্দিছীন মিনাল আউওয়ালিনা ইলাল আখিরীন, মুজাদ্দিদে আ’যম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মূলত, এক লক্ষ চল্লিশ হাজার কাফির-মুনাফিকদেরকে তো নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয়েছেই। শুধু তাই নয়, এইজন্য ক্বিয়ামত পর্যন্ত কোটি কোটি কাফির, মুনাফিক্ব ও উলামায়ে সূ’দেরকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হবে, ধ্বংস করে দেয়া হবে, তাদের অস্থিত্ব বিলীন করে দেয়া হবে।” সুবহানাল্লাহ!
এখন বলার বিষয় হচ্ছে, একজন খলীফা উনাকে শহীদ করার কারণে, কাফফারা বাবদ পঁয়ত্রিশ হাজার লোককে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয়। হযরত ইয়াহইয়া ইবনে যাকারিয়া আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন একজন বিশেষ নবী-রসূল। উনার সম্মানিত শাহাদাত মুবারক উনার সাথে জড়িত যারা ছিলো, কাফফারা বাবদ সত্তর হাজার লোককে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয়েছে; কিন্তু ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত শাহাদাত মুবারক উনার সাথে জড়িত, তাদের কমপক্ষে এক লক্ষ চল্লিশ হাজার লোককে কাফফার বাবদ নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয়েছে এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত কোটি কোটি কাফির, মুনাফিক্ব ও উলামায়ে সূ’দেরকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হবে, ধ্বংস করে দেয়া হবে, তাদের অস্তিত্ব বিলীন করে দেয়া হবে। সুবহানাল্লাহ!
 
যে ব্যক্তি সম্মানিত হযরত আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুহব্বত মুবারকে ইন্তেকাল করবেন, (১). তিনি শহীদী মৃত্যু পাবেন। (২). তিনি ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে ইন্তেকাল করবেন। (৩). তিনি তওবাকারী হিসেবে ইন্তেকাল করবেন। (৪). তিনি পরিপূর্ণ ঈমানদার মু’মিন হিসেবে ইন্তেকাল করবেন। (৫). উনাকে মালাকুল মউত আলাইহিস সালাম, হযরত মুনকার ও নকীর আলাইহিমাস সালাম উনারা সম্মানিত বেহেশত মুবারক উনার সুসংবাদ মুবারক দিবেন। (৬). উনাকে নববধূর ন্যায় সুসজ্জিত করে জান্নাতে নেয়া হবে (৭). উনার কবরে সম্মানিত জান্নাত উনার দিকে দুটি দরজা খুলে দেয়া হবে। (৮). মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার কবরকে সম্মানিত রহমতের ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের যিয়ারতের স্থান বানাবেন। (৯). তিনি সম্মানিত আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত উনার আক্বাইদের উপরই ইন্তেকাল করবেন।” সুবহানাল্লাহ!
Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে