আজ সুমহান বরকতময় ঐতিহাসিক পবিত্র ২৮শে ছফর শরীফ। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!


নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘আমার সম্মানিত হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে যারা মুহব্বত করবে আমার শাফায়াত মুবারক তাদের জন্য ওয়াজিব হবে।’
আজ সুমহান বরকতময় ঐতিহাসিক পবিত্র ২৮শে ছফর শরীফ। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ! পাশাপাশি মহান আল্লাহ পাক উনার খালিছ ওলী, আফযালুল আউলিয়া, হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
তাই প্রত্যেক মুসলমান উনাদের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- উনাদেরকে মুহব্বত করা, তা’যীম-তাকরীম করা ও অনুসরণ করা এবং উনাদের পবিত্র জীবনী মুবারক জানা ও বেশি বেশি আলোচনা করা। আর প্রত্যেক মুসলিম-অমুসলিম সরকারের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- উনাদের সম্মানিত জীবনী মুবারক প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করা এবং উনাদের পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস উপলক্ষে মাহফিলের আঞ্জাম দেয়া।

হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের দ্বিতীয় ইমাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কুরাইশ বংশের হাশেমী শাখায় হিজরী ৩য় সনে পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার ১৫ তারিখ ইয়াওমুল আরবিয়া বা বুধবার বাদ-আছর পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!

হিজরী ৪০ সনের পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার মধ্যে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত খলীফা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। চল্লিশ হাজার লোক উনার হাত মুবারক-এ বাইয়াত হন। তিনি সম্মানিত খিলাফত মুবারক উনার দায়িত্ব ৬ মাস পর্যন্ত পালন করেন। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শত্রুরা উনাকে শহীদ করার উদ্দেশ্যে একে একে পাঁচবার বিষ পান করায়। নাউযুবিল্লাহ! প্রতিবারই তিনি মারিদ্বী শান মুবারকসহ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র রওযা শরীফ জিয়ারত মুবারক করে দোয়া করেন, আর সাথে সাথেই ছিহহাতী শান মুবারক জাহির হন। কিন্তু শেষবার অর্থাৎ ষষ্ঠবার যে বিষ পান করানো হয় তা ছিলো অত্যন্ত মারাত্মক বিষ, অর্থাৎ হিরকচূর্ণ। ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদত ছিলো এই যে, তিনি প্রতিদিন তাহাজ্জুদ নামাযের সময় পানি মুবারক পান করতেন। উনি যে কলসি মুবারক থেকে পানি মুবারক পান করতেন সে কলসি মুবারক উনার মুখ একটি কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতেন যেন কেউ কিছু ফেলতে বা বিষ মিশ্রিত করতে না পারে। কিন্তু শত্রুরা হিরকচূর্ণ কলসি মুবারক উনার মুখে বেঁধে রাখা কাপড়ে মিশিয়ে দেয়। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রতিদিনের ন্যায় পানি মুবারক পান করার জন্য কলসি মুবারক থেকে পাত্রে পানি মুবারক ঢাললেন- তখন হিরকচূর্ণ বিষসহ পানি পাত্রে পড়লো। তিনি তা পান করার সাথে সাথে মারাত্মক বিষক্রিয়া শুরু হলো এবং উনার মারাত্মক মারিদ্বী শান মুবারক প্রকাশ পায়।

এবার আর উনার পক্ষে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র রওযা শরীফ জিয়ারত মুবারক করা সম্ভব হলো না। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বুঝতে পারলেন যে, উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার সময় নিকটবর্তী। তাই তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সংবাদ দিলেন। তিনি আসলে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, হে ভাই! আমাদের সম্মানিত পিতা তিনি শহীদ হয়েছেন। আমিও শহীদ হচ্ছি। আপনি সম্মানিত খিলাফত থেকে দূরে থাকবেন। সম্মানিত খিলাফত ফিরিয়ে দেয়ার শর্ত বাতিল করে দেয়া হলো। এ কারণেই আমীরুল মু’মিনীন হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খিলাফত ফিরিয়ে নেননি।

মারাত্মক বিষক্রিয়ার কারণে ৪৯ হিজরী সনের পবিত্র ২৮শে ছফর শরীফ প্রায় ৪৬ বছর অর্থাৎ ৪৫ বৎসর ৬ মাস ১৩ দিন বয়স মুবারক-এ তিনি পবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন বা পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র রওযা শরীফ পবিত্র জান্নাতুল বাক্বী শরীফ উনার মধ্যে অবস্থিত। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার সংস্কারের জন্যে বাদশাহ আকবর কর্তৃক সৃষ্ট ফিতনার চরমকালে ৯৭১ হিজরী সনের ১৪ই শাওয়াল শরীফ (ঈসায়ী ১৫৬৩ সাল) ইমামে রব্বানী আফযালুল আউলিয়া হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন ভারতবর্ষের পাঞ্জাব প্রদেশের পাতিয়ালার সিরহিন্দ শরীফ-এ। মাত্র ছয় (৬) বছর বয়স মুবারক-এ তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ হিফয করেছিলেন। অতঃপর কানপুরস্থ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে জগৎবরেণ্য আলিম-উলামাগণের নিকট তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র তাফসীর শরীফ, পবিত্র ফিক্বাহ শরীফ, সাহিত্য, কাব্য, ইতিহাস, ভূগোল, দর্শন, বিজ্ঞানসহ ইসলামী ইলম উনার সমস্ত শাখায় ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। কামালত উনার পরিপূর্ণ ধাপে উত্তরণের জন্য তিনি ওলীকুল শিরোমণি হযরত খাজা বাক্বী বিল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে বাইয়াত গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ!

প্রতিপত্তি, খ্যাতি ও অর্থ লালসায় তদানীন্তন কুখ্যাত উলামায়ে ‘সূ’ মোল্লা মুবারক নাগোরী, আবুল ফজল, ফৈজী- এরা সম্রাট আকবর ও জাহাঙ্গীরের তাঁবেদারী ও তোষণ নীতিতে লিপ্ত থাকে। নাউযুবিল্লাহ! তারা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের বিকৃত ব্যাখ্যা প্রদান করে। নাউযুবিল্লাহ! সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার পরিবর্তে তারা ‘দ্বীনে ইলাহী’ নামে একটি নতুন মতবাদ প্রবর্তন করে। নাউযুবিল্লাহ! পবিত্র সুন্নত মুবারক ও পবিত্র আহকাম মুবারক উনার অবলুপ্তি ঘটায়। নাউযুবিল্লাহ! রাজ দরবারে “তা’যীমী সিজদার” প্রচলন করে। নাউযুবিল্লাহ! সম্মানিত তাওহীদ ও সম্মানিত রিসালতে বিশ্বাসী মানুষের অন্তরে বিদয়াত, শিরক ও কুফরীর বুনিয়াদ রচনা করে। নাউযুবিল্লাহ! আফযালুল আউলিয়া হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার সুমহান তাজদীদ মুবারক উনার মাধ্যমে মানুষের সঠিক সমঝের উন্মেষ ঘটান এবং পবিত্র ঈমান ও আমল উনার নবায়ন করেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি নিজ জীবনে পবিত্র সুন্নত মুবারক উনার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন ঘটিয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করেন। মানুষের মাঝে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র সুন্নত মুবারক অনুসরণের স্পৃহা জাগিয়ে তুলে তিনি অবলুপ্ত প্রায় সকল সুন্নত মুবারক জিন্দা করেন। এজন্য উনাকে বলা হয়- “মুহ্ইউস সুন্নাহ”। সুবহানাল্লাহ!

মহান আল্লাহ পাক উনার যমীনে পবিত্র সুন্নত মুবারক জিন্দাকারী হাজার বছরের মহান মুজাদ্দিদ হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি তিনি ১০৩৪ হিজরী সনের ২৮শে ছফর (ঈসায়ী ১৬২৪ সাল) প্রায় ৬৩ বছর বয়স মুবারকে পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!

মূলকথা হলো- আজ সুমহান বরকতময় ঐতিহাসিক পবিত্র ২৮শে ছফর শরীফ। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ! পাশাপাশি মহান আল্লাহ পাক উনার খালিছ ওলী আফযালুল আউলিয়া হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ! তাই প্রত্যেক মুসলমান উনাদের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- উনাদেরকে মুহব্বত করা, তা’যীম-তাকরীম করা ও অনুসরণ করা এবং উনাদের পবিত্র জীবনী মুবারক জানা ও বেশি বেশি আলোচনা করা। আর প্রত্যেক মুসলিম অমুসলিম সরকারের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- উনাদের সম্মানিত জীবনী মুবারক প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করা এবং উনাদের পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস উপলক্ষে মাহফিলের আঞ্জাম দেয়া।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে