আজ ৬ই রজব- কুতুবুল মাশায়িখ, সুলত্বানুল হিন্দ, খাজায়ে খাজেগাঁ, গরীবে নেওয়াজ হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন হাসান চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সুমহান বিছাল শরীফ।


আজ ৬ই রজব। কুতুবুল মাশায়িখ, সুলত্বানুল হিন্দ, খাজায়ে খাজেগাঁ, গরীবে নেওয়াজ হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন হাসান চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সুমহান বিছাল শরীফ।
যেসব সম্মানিত ওলীআল্লাহগণ উনাদের পদস্পর্শে, পাক-ভারত উপমহাদেশ পবিত্র হয়েছিল- কুতুবুল মাশায়িখ, সুলত্বানুল হিন্দ, খাজায়ে খাজেগাঁ, গরীবে নেওয়াজ হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন হাসান চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের অন্যতম পথিকৃত। উনার অমিতধর রূহানী শক্তির জোয়ারে ভেসে গিয়েছিল প্রতাপশালী পৃথ্বিরাজের অস্তিত্ব, নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল যাদু সম্রাট রামদেও, অজয় পালের বিবিধ বান, তন্ত্র-মন্ত্র এমনকি তাদের কুফরী অস্তিত্বও। অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত বিলীন হয় তাদের বিরোধিতা; নছীব হয় ঈমান।
বর্ণিত আছে যে, হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন হাসান চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার উসীলায় এক কোটিরও বেশি বিধর্মীর ঈমান নছীব হয়।
কাজেই আজকে যারা তাছাউফ বিদ্বেষী বা অবহেলাকারী, তাদের স্মরণ রাখা দরকার, ওলীআল্লাহগণ উনাদের কারণেই তাদের ঈমান নছীব হয়েছে এবং ইসলামের কাজ করতে হলে ওলীআল্লাহগণ উনাদের মদদপুষ্ট হওয়া পূর্ব শর্ত। আর ক্বিয়ামতের ময়দানেও ওলীআল্লাহগণ উনাদের থেকেই সবাই ফায়দা হাছিল করবে, যা হযরত খাজা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উল্লেখ করেছেন। পুনঃউল্লেখ নিষ্প্রয়োজন তিনি কত উঁচু স্তরের ওলীআল্লাহ ছিলেন। উনার বিছাল শরীফ-এর সময় উনার কপাল মুবারক-এ স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়েছিল, “হাজা হাবীবুল্লাহ মাতা ফি হুব্বিল্লাহ”। অর্থাৎ তিনি আল্লাহ পাক উনার হাবীব এবং তিনি আল্লাহ পাক উনার মুহব্বতে বিছাল শরীফ লাভ করেন । সুবহানাল্লাহ! এবং এই পবিত্র রজব মাসেই আজ হযরত খাজা সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিছাল শরীফ শরীফ লাভ করেন।
উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশের অনেক স্থানে অনেকে শামছুল আরিফীন, রৌশন জামীর, পীরে পীরান হযরত খাজা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নামে উরশের আয়োজন করে এবং সেখানে নেশা সেবন, গান-বাজনা, বেপর্দা-বেশরা বিবিধ হারাম কাজের সমাহার ঘটায়। নাঊযুবিল্লাহ।
অথচ কুতুবুল মাশায়িখ, সুলত্বানুল হিন্দ হযরত খাজা সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যা জীবনে কখনও করেননি এবং যা বিলকুল হারাম। কিন্তু তা সত্ত্বেও গুমরাহরা তাতেই মেতে আছে এবং তাদের অনুসারীরা তাই হক্ব মনে করছে। আবার কেবল এটাই নয়, অন্যক্ষেত্রেও অনেক নামধারী নাহক্ব হাদী, পীর, শায়খুল হাদীছ, মুফাসসির, মুফতী রয়েছে, যাদেরকে তাদের অজ্ঞ অনুসারীরা হক্ব বলে মনে করে, বড় বলে জানে। সত্যিকার অর্থে হক্ব বলে মানা বা জানাই কাম্য ছিল; যদি তারা হক্ব পথে কায়িম থাকতো। কিন্তু তারাই যখন ছবি তোলা, বেপর্দা হওয়া, ইসলামের গণতন্ত্র করাসহ বিবিধ হারাম কাজ করে, তখন তাদেরকে কি বলে হক্ব মনে করা যায়, সেটা কি তাদের অন্ধ অনুসারীদের ভেবে দেখা উচিত নয়?
ঐতিহ্যমণ্ডিত ফযীলতপূর্ণ ৬ই রজব পালনের ধারা বর্তমানেও বিরাজমান। এটি আশাপ্রদ হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের অজ্ঞতা, বেশরা-বিদয়াত কার্যকলাপ ও মুনাফিকী আশাহতের বিষয়।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+