আটকে পড়া জাহাজ


জনৈক বক্তা তার বক্তব্যে বলেছে যে, ‘না’রায়ে রিসালাত-ইয়া রসূলাল্লাহ’ বলা কুফরী। তার কথায় এলাকাবাসী দ্বিধাদ্বন্ধে পড়েছে। ‘না’রায়ে রিসালাত-ইয়া রসূলাল্লাহ’ বলে ধ্বনি দেয়ার ব্যাপারে শরীয়তের কি হুকুম ?
মূলতঃ ‘না’রায়ে রিসালাত , ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ বলে ধ্বনি দেয়ার উদ্দেশ্য হলো, কুল-কায়িনাতের যিনি নবী ও রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মত হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করার কারণে খুশি প্রকাশ করা, আনন্দিত হওয়া।

কোন একসময় এক দ্বীনদার ব্যক্তিকে এক কাফির বাদাশাহ বন্দী করেছিল। তিনি বলেন, বাদশাহের একটি বড় জাহাজ নদীতে আটকে গিয়েছিল। অনেক চেষ্টা করেও সেটাকে নদী থেকে বের করতে পারলো না। জেলখানা থেকে সমস্ত কয়েদীকে ডেকে আনলো, যেন সবাই মিলে জাহাজটি বের করার চেষ্টা করে। চার হাজারের মত কয়েদী আপ্রাণ চেষ্টা করেও জাহাজকে সরাতে পারলো না। তখন তারা বাদশাহের কাছে গিয়ে বললো, জেলখানায় যে সব মুসলমান কয়েদী আছে, তাদেরকে বলতে পারেন, হয়তো তারা জাহাজ সরাতে পারবে। তবে শর্ত হচ্ছে, তারা যে শ্লোগান দেবে, সেটা থেকে বাঁধা দেয়া যাবে না।

বাদশাহ এ শর্ত মেনে নিয়ে সব মুসলমান কয়েদীকে ছেড়ে দিয়ে বললো, তোমরা তোমাদের খুশি মত যে শ্লোগান দিতে চাও, সেটা দিয়ে জাহাজটা বের করে আনো। সেই দ্বীনদার ব্যক্তিটি বলেন, আমরা সবাই মিলে চার শতের মত ছিলাম। আমারা এক সাথে নারায়ে রেসালাতের শ্লোগান দিলাম এবং এক আওয়াজে ইয়া রসূলাল্লাহ বলে যখন জাহাজকে ধাক্কা দিলাম, তখন জাহাজ নড়ে উঠলো। এ শ্লোগান দিয়ে জাহাজকে আর থামতে দেই নি। একেবারে নদী থেকে বের করে দিয়েছি।

‘না’রায়ে তাকবীর- আল্লাহু আকবার’ বলে যেমন আল্লাহপাক উনার বড়ত্ব, মহত্ব বর্ণনা করা হয়, রুবুবিয়াত ও তাওহীদের স্বীকারোক্তি প্রকাশ করা হয় তদ্রুপ ‘না’রায়ে রিসালাত- ইয়া রসূলাল্লাহ’ বলে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মর্যাদা-মর্তবা, শান-শুয়ূনাত, ছানা-ছিফত বর্ণনা করা হয় এবং উনার নুবুওওয়াত ও রিসালাতের স্বীকারোক্তি প্রকাশ করা হয়।

(সুবহানাল্লাহ)

‘না’রায়ে রিসালাত-ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ’ বলা আদৌ কুফরী নয়, বরং যারা বিরোধীতা করবে তারা কুফরী করবে।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে