সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দু:খিত। ব্লগের উন্নয়নের কাজ চলছে। অতিশীঘ্রই আমরা নতুনভাবে ব্লগকে উপস্থাপন করবো। ইনশাআল্লাহ।

আত্মশুদ্ধির দুটি কথা


১. অবাধ্য নফসকে সাজা দেয়ার উপায়:

একবার আমিরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মুসলিমীন হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি কোমরে পানির মশক বহন করে মুসলমানগণ উনাদেরকে পানি পান করাচ্ছিলেন। এক ব্যক্তি প্রশ্ন করলেন, এত লোক থাকতে আপনার এ কাজ করার কারণ কী? তখন তিনি বললেন, কয়েকজন লোক এসেছিলেন, তারা আমার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছিলেন। এতে আমার অন্তর খুশি হয়েছিল। তাই আমি এ কাজ করে আমার নফসকে শিক্ষা দিচ্ছি।

এক রিওয়াতে আছে, আমিরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মুসলিমীন হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি একটি জামা মুবারক পরলেন। জামা মুবারকটি খুবই সুন্দর ছিল। এতে উনার মন আকৃষ্ট হলো। তখন তিনি জামা মুবারক-এর দুটি আস্তিনের অংশবিশেষ কেটে ফেললেন, যাতে উহার সৌন্দর্য লোপ পায়। এতে নফসকে কাবু করাই উনার উদ্দেশ্য ছিল।

নছীহত: নফসের রোগ বড়ই জটিল। নফসকে দমাতে ব্যর্থ লোক কামালাতের মর্তবায় পৌঁছতে পারে না। তাই বুযুর্গরা সবসময় নফসের বিরুদ্ধে মুজাহাদা করেন।

এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, আমিরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মুসলিমীন হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব আলাইহিস সালাম ও আমিরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মুসলিমীন হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনারা আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক ছোহবত ধন্য ও নিসবত ধন্য হওয়ার কারণে নিখাঁদ ইছলাহপ্রাপ্ত। উনাদের নফস মিটে গিয়েছিল তবুও উনারা নফস দমনের মুজাহাদা করে সাধারণ উম্মতদেরকে তালিম দিয়েছেন। কেননা উনারা আকাশের তারকার ন্যায়; উনারা উম্মতের আদর্শ; উনারা উম্মতের পথপ্রদর্শক; উনারা উম্মতের অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব।

২. প্রকৃত আল্লাহওয়ালা উনার বৈশিষ্ট্য:

এক ধনী লোক সাইয়্যিদুল আউলিয়া’ গাউছুল আ’যম, দস্তগীর, বড়পীর হযরত আবদুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে একটি আয়না হাদিয়া দিলো। সেটি খুব মূল্যবান ছিল, যা চীন দেশের তৈরি। তিনি মাঝে মাঝে উক্ত আয়না মুবারকে নিজের চেহারা মুবারক দেখতেন; দেখে পরিপাটি হতেন সুন্নত মুবারক-এর খেয়ালে।

একবার উনার খাদিমের হাত থেকে আয়না মুবারকটি পড়ে ভেঙে গেল। খাদিম খুব পেরেশান হয়ে পড়লো- এখন কী জানি হয়। অনেক ভেবেচিন্তে খাদিম সে হযরত বড়পীর সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে গিয়ে মিনতি করে বললো, হুযূর! বেয়াদবি মাফ চাই, কাঁচের আয়না মুবারকটি ভেঙে গেছে। এ কথা শুনে হযরত বড়পীর সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অতীব শান্ত কণ্ঠে বললেন, ভালোই হয়েছে। চেহারা দেখে আত্মগরিমা করার হাতিয়ার ভেঙে গেছে।

নছীহত: প্রকৃত আল্লাহওয়ালাগণ উনাদের দুনিয়াবী ধন-সম্পদের প্রতি কোনো আকর্ষণ থাকে না। উনাদের কাছে ধন-সম্পদ বা মূল্যবান জিনিসপত্র এলে উনারা যেমন খুশি হন না, তেমনি তা চলে গেলেও ব্যথিত হন না। উনারা শুধু খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদতে খালিছভাবে নিমগ্ন থাকতেই পছন্দ করেন এবং উহাতেই প্রশান্তি লাভ করেন।

Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

১০টি মন্তব্য

  1. আবু হুরাইরা আবু হুরাইরা says:

    সুবহানাল্লাহ!
    Rose

  2. পরশ পরশ says:

    আমরা এই ধরনের আরও পোস্ট আশা করি। সুক্রিয়া

  3. dr.faisal says:

    খুব সুন্দর শিক্ষামুলক পোস্ট।

  4. অনেক সুন্দর ও নসীহত পূরণ পোস্ট। শুকরিয়া।

  5. chader alo says:

    অাসলেই এটা একজন হাকীকি আল্লাওয়ালা্ আল্লা্ওয়ালী হওয়ার ইচ্ছুক ব্যাক্তির জন্য অনেক গুরুত্বপুর্ণ নছিহত।

    • মহানন্দা মহানন্দা says:

      মামদূহ শায়েখ ক্বিবলাহ আলাইহিস সালাম তিনি দুনিয়াবী ধন-সম্পদের প্রতি আকর্ষণ দূর করে নফস মিটিয়ে আমাদেরকে আত্মশুদ্ধি দান করুন। হাকীকি আল্লাওয়ালা্ আল্লা্ওয়ালী হওয়ার তাওফীক দিন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে