‘আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্র’ উনার প্রচার-প্রসারে খালিছ নিয়তে এগিয়ে আসুন; খলীফাতু রসূলিল্লাহ মনোনীত হোন


মহান আল্লাহ পাক তিনি মানব জাতিকে আশরাফুল মাখলুকাত তথা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসাবে দুনিয়াতে প্রেরণ করেছেন। আর তাদের সার্বিক জীবন পরিচালনার জন্য মহাসম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনাকে একমাত্র পবিত্র দ্বীন হিসাবে মনোনীত করে উনার যাবতীয় বিধি-বিধান ওহী মুবারক দিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন এবং তা বাস্তবায়ন করার জন্য যুগে যুগে হযরত নবী-রাসূল আলাইহিমুস সালাম, মুজাদ্দিদ, গউছ, কুতূব, আফদ্বল, ওলীআল্লাহগণকে প্রেরণ করেছেন। আর উনারা প্রত্যেকেই দা’ওয়াতের মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক উনার যাবতীয় বিধানকে সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন,
مَا تَرَكْتُ شَيْئًا مِمَّا أَمَرَكُمُ اللهُ بِهِ إِلاَّ وَقَدْ أَمَرْتُكُمْ بِهِ وَلاَ تَرَكْتُ شَيْئًا مِمَّا نَهَاكُمُ اللهُ عَنْهُ إِلاَّ وَقَدْ نَهَيْتُكُمْ عَنْهُ
অর্থ: ‘আমি এমন কোন জিনিসই ছাড়িনি যার হুকুম মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন; কিন্তু আমি তার হুকুম তোমাদেরকে অবশ্যই দিয়েছি। আর আমি এমন কোন জিনিসই ছাড়িনি যা মহান আল্লাহ পাক তিনি নিষেধ করেছেন; কিন্তু আমি তোমাদেরকে তা অবশ্যই নিষেধ করেছি’। [সুনানু কুবরা লিল বাইহাকী : ১৩৮২৫]
বর্তমানে আমাদের মাঝে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সরাসরি নেই। তবে তিনি আমাদের সার্বিক জীবন পরিচালনার দিশারী হিসাবে পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফকে আমাদের মাঝে রেখে গেছেন। আর সেই পবিত্র সুন্নত মুবারকগুলি প্রচার প্রাসর করা উম্মতের জন্য নাজাত, কামিয়াবী ও রহমত মুবারক লাভের কারন। এমনকি প্রচারকারী ও তা’লীমদাতাকে খাছ খলীফা হিসেবে পবিত্র হাদীছ শরীফে ঘোষণা করেছেন।
মানুষ তার সার্বিক জীবনে দ্বীন ইসলামের বিধান পালনের ক্ষেত্রে একমাত্র নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দেখিয়ে দেওয়া পদ্ধতির অনুসরণ করবে। তিনি যে পদ্ধতিতে মানুষকে দা‘ওয়াত দিয়েছেন, মানুষ ঠিক সে পদ্ধতিতে দা‘ওয়াতী কার্যক্রম পরিচালনা করবে। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى دُنْيَا يُصِيْبُهَا أَوْ إِلَى امْرَأَةٍ يَنْكِحُهَا فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ
অর্থ: ‘নিশ্চয়ই প্রত্যেক কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল। আর মানুষ তার নিয়ত অনুযায়ী প্রতিফল পাবে। তাই যার হিজরত হবে ইহকাল লাভের অথবা কোন মহিলাকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে, তার হিজরত সেদিকেই গণ্য হবে, যে জন্য সে হিজরত করেছে’। [বুখারী শরীফ : ০১]
অতএব একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে মানুষকে ‘আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্র’ উনার প্রচার প্রসারে সমস্ত মাখলুকাতকে খালিছ নিয়তে দা‘ওয়াত দিতে হবে। দুনিয়াবী কোন উদ্দেশ্যে নয়। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
مَنْ عَمِلَ مِنْهُمْ عَمَلَ الآخِرَةِ لِلدُّنْيَا لَمْ يَكُنْ لَهُ فِيْ الآخِرَةِ مِنْ نَصِيْبٌ
অর্থ: ‘যে ব্যক্তি পরকালীন কোন আমল দুনিয়াবী উদ্দেশ্যে পালন করবে, পরকালে তার জন্য নেকীর কোন অংশ থাকবে না। [আহমাদ শরীফ : ২১২৬০]

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে