আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদ মুসলমানদের জন্য মুসলমানদের করণীয়


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘আমি প্রত্যেক হযরত নবী ও হযরত রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে ক্বওমের ভাষা দিয়ে প্রেরণ করেছি।’
প্রত্যেক হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে নিজ নিজ মাতৃভাষায় প্রেরণ করা হয়েছে। তাই মাতৃভাষাকে মুহব্বত করা পবিত্র সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। ভাষার জন্য যারা প্রাণ দিয়েছে তাদের জন্য শরয়ী তর্জ-তরীক্বা মুতাবিক যেমন- পবিত্র কুরআন শরীফ খতম, পবিত্র মীলাদ শরীফ, পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ পাঠ এবং তওবা-ইস্তিগফার করে দোয়া-মুনাজাতের মাধ্যমে তাদের রূহে ছওয়াব বখশিয়ে দেয়া সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য।
আর পবিত্র ইসলামী শরীয়ত উনার খিলাফ তর্জ-তরীক্বা যেমন- খালি পায়ে চলা, শহীদ মিনারে ফুল দেয়া, গান-বাজনা করা ও বেপর্দা-বেহায়াপনা ইত্যাদি কাজগুলো পবিত্র ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী সম্পূর্ণরূপে হারাম ও নাজায়িয। তাই মুসলমানদের জন্য এসব হারাম কাজ থেকে বিরত থাকা ফরয।
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন- “আমি প্রত্যক হযরত নবী ও হযরত রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে ক্বওমের ভাষা দিয়ে প্রেরণ করেছি। যাতে ক্বাওমকে স্পষ্ট করে বোঝানো যায়।” এ পবিত্র আয়াত শরীফ দ্বারা প্রতিভাত হয়, নিজ নিজ জাতির ভাষায় কথা বলাই হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের খাছ সুন্নত মুবারক।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “মাতৃভূমিকে মুহব্বত করা পবিত্র ঈমান উনার অঙ্গ।” এর ব্যাখ্যায় বলা হয়, ‘মাতৃভাষাকে মুহব্বত করাও পবিত্র ঈমান উনার অঙ্গ’। সুবহানাল্লাহ!

জামাতী দেওবন্দী ওহাবী খারিজী উলামায়ে ‘সূ’ গংয়ের প্ররোচনায় যালিম সম্প্রদায় এদেশের মুসলমানদেরকে সেই পবিত্র সুন্নত মুবারক পালন বন্ধ করে দিতে চেয়েছিলো। কাজেই যারা প্রকৃতপক্ষে মাতৃভাষার জন্য জীবন দিয়েছে তারা শহীদী দরজা অর্জন করেছে। সুবহানাল্লাহ!

এদেশবাসী মুসলমানের উচিত- ভাষার জন্য যারা প্রকৃতপক্ষে প্রাণ দিয়েছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা স¦ীকার করা, তাদের উপকার করার চেষ্টা করা।

মুসলমান হিসেবে আমাদের উচিত- ভাষার জন্য যারা প্রাণ দিয়েছে তাদের উপকারার্থে তাদের জন্য ইস্তিগফার পাঠ করে, মাগফিরাত কামনা করে, পবিত্র কুরআন শরীফ খতম করে তাদের জন্য পবিত্র মীলাদ শরীফ, পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ পাঠ করে দোয়া করা অর্থাৎ তাদের রূহে ছওয়াব বখশিয়ে দেয়া।

খালি পায়ে চলা, শহীদ মিনারে ফুল দেয়া, গান-বাজনা করা, বেপর্দা-বেহায়াপনাজনিত অনুষ্ঠান দ্বারা যারা জীবিত তারা কঠিন গুনাহে গুনাহগার হয় অর্থাৎ কবীরা ও কুফরী গুনাহে গুনাহগার হয়। আর যারা ভাষার জন্য প্রাণ দিয়ে কবরে আছে তাদের কোনোই উপকার হয় না। বরং তারা এসব কাজের জন্য ভীষণ লজ্জিত হয় ও কষ্ট পায়। কারণ, তারা সবই দেখতে পায়। কেবলমাত্র তারা নির্বাক বলেই কিছু বলতে পারে না।

মুসলমান হিসেবে এদেশবাসীর সবারই সেভাবে আমল করা উচিত, যেভাবে আমল করলে ভাষার জন্য যারা জীবন দিয়েছে তাদের উপকার হবে। অর্থাৎ ভাষার জন্য যারা প্রাণ দিয়েছে তাদের জন্য দোয়া-ইস্তিগফার, পবিত্র কুরআন শরীফ খতম ও পবিত্র মীলাদ শরীফ, পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ পাঠ করে তাদের রূহে ছওয়াব বখশিয়ে দেয়া। পাশাপাশি গান-বাজনাসহ সর্বপ্রকার হারাম, কুফরী ও সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার বিরোধী সর্বপ্রকার আমল ও সর্বপ্রথম বদ রসম থেকে বিরত থাকা সকলের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য অর্থাৎ ফরয।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে