আপনার স্ত্রীকে সাধ্যানুযায়ী হাতখরচ দিন…


#আমারই একফ্রেন্ড,সংসার ভালোই চলছে,একটা মেয়ে নিয়ে ছোট্ট সংসার তার-এখনকার সুখী পরিবার।দেখুন, সুখ বিষয়টা কেনা যায় না!এক মেয়ে থাকলেই সুখ হয় ,দশ ছেলেমেয়েতে সুখ হয় না বিষয়টা তা না।সুখ সৃষ্টি করে নিতে হয় এবং সৃষ্টি হয় নিজের কর্মের মাধ্যমেই।পরিবার যতজন নিয়েই হোক না কেনো কাউকে কষ্ট দিয়ে সুখ সুখ ভাব হয়তো কোনোভাবে তৈরি করে রাখা যায়,কিন্তু তাকে কিন্তু প্রকৃত অর্থে সুখ বলা যায় না!বাহিরটা দেখতে যেমন ভেতরটা কিন্তু তেমন নয়!

অনেক স্ত্রীই রয়েছে যারা সারাজীবনই তার আহালকে (স্বামীকে) নিয়ে একটা সুখী ভাব করে যায়,অথচ আসলে তারা সুখী নয়।আহাল যারা রয়েছে তারা স্ত্রীর এই বিষয়গুলো খেয়াল করে না।

যেটা বলতে চাচ্ছিলাম,আমার সেই ফ্রেন্ড একদিন কথায় কথায় সে যে কষ্ট পেয়েছিলো ,সে বিষয়টা শেয়ার করলো…তার যখন বেবী হয় তখন সে বেবীকে নিয়ে তার বাবার বাড়িতে আসে।তার আহাল মেয়ের জন্য জামা কাপড় নিয়ে আসে,শ্বশুর বাড়িতে মিষ্টি নিয়ে আসে কিন্তু তার স্ত্রীর জন্য বিশেষভাবে কিছু আনেনি।

ওকে মানলাম,এটা তার বুঝার ভুল বা মেয়েটার এটা বাড়তি চাওয়া ছিলো!কিন্তু লোকটা যাওয়ার সময় তার স্ত্রীর হাতে কিছুটা খরচের টাকা দিয়ে যেতে পারতো।তার স্ত্রী তার কাছে টাকা চায় নি,কিন্তু সে কষ্ট পেয়েছিলো।কেননা তার বক্তব্য ছিল,ওর নিজস্ব কিছু খরচও থাকতে পারে,আলাদা ভাবে কিছু কিনে খেতে ইচ্ছে করতে পারে।কিছুটা টাকা তার হাতখরচ হিসেবে দিয়ে যাওয়া উচিত ছিল!বিবাহিত হয়ে ভাই/বাবার কাছে চাইতে ইচ্ছা করে না।

আমি জানি না,এই যে মেয়েটা ,তার চাওয়ায় কোনো ভুল ছিলো কিনা!তার এই বিষয়টা তার স্বামীর এখনো অজানা!

আমার শুধু এ বিষয়টা এখানে উপস্থাপন করার উদ্দেশ্যই হচ্ছে এটা জানানো যে,মেয়েরা কখনোই কারো সামনেই তার হাজবেন্ডকে ছোট করতে চায় না।বরং চেষ্টা করে তার হাজবেন্ডের সম্মান বজায় রাখতে!একজন স্ত্রী যদি তার স্বামীর সম্মান বজায় রাখতে সচেষ্ট থাকে তবে একজন পুরুষ কেনো তার স্ত্রীর সম্মান দেখবে না!?!

তাই স্বামীদের উচিত,প্রতিমাসেই তার আয় থেকে একটা ন্যূনতম অংশ অবশ্যই তার স্ত্রীর হাতে দেয়ার সাধ্যানুযায়ী চেষ্টা করা। স্ত্রী যদি মোটামুটি পরহেজগার হয় ,সে সেই টাকা দিয়ে দান সদকাও করতে পারে বা তার যেকোনো প্রয়োজনে খরচও করতে পারে। অবশ্যই হারাম কাজে খরচ করা উচিত হবে না।

আর স্বামীরা যদি এরূপ করে তাহলে তাদের একটি সুন্নতের আমল হবে কেননা হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি প্রতিমাসেই হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে উনাদের জন্য নির্দিষ্ট ভাতা দিতেন।

স্মর্তব্য,একটি সুন্নতের আমল করলে এ উম্মত বদর এবং ওহুদের জিহাদে অংশগ্রহণকারী ১০০ শহীদের মর্যাদা হাছিল করতে পারবে।সুবহানাল্লাহ্‌!

কাজেই ক্ষতি হচ্ছে না কোনোদিক থেকেই,একদিকে সুন্নতের আমল করার কারণে হাবীব পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তষ্টিও হাছিল করা যাবে অপরদিকে স্ত্রীও সন্তুষ্ট থাকবে আবার স্বামীর সম্মান রক্ষার্থে স্ত্রীদেরকে বিশেষ চিন্তিতও হতে হবে না।

আর অবশ্যই স্ত্রীদেরও উচিত স্বামীর আর্থিক অবস্থা বুঝে খরচ করা এবং অনর্থক খরচ না করা!কেননা বলা-ই হয়েছে যে,একজন নেককার স্ত্রী তার স্বামীকে বাদশাহ বানিয়ে রাখে যদিও সে গরীব হোক না কেনো। সুবহানাল্লাহ্‌।

মহান আল্লাহ্‌ পাক যেন আমাদের সকলকেই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুসরণ করার তৌফিক দান করেন।।আমীন।।fsfs

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে