আপনি জানেন কি “গাযওয়াতুল হিন্দ” কি? এর সম্পর্কে কে ভবিষ্যৎবানী করেছিলেন?


গাযওয়াতুল হিন্দ বা হিন্দুস্থানের যুদ্ধ
হাদীস শরিফে বর্নিত আছে উগ্রবাদী, মৌলবাদী, হিন্দুদের ধ্বংসকারী গাযওয়াতুল হিন্দ অত্যাসন্ন ও অবশ্বাম্ভাবী।
সারা পৃথিবীতে সবচে’ বড় জিহাদ যেটা হবে সেটা হবে হিন্দুস্তান তথা ভারতের মুশরিকদের সাথে। এই জিহাদে যাঁরা শরীক থাকবেন, উপস্থিত থাকবেন, অংশ গ্রহণ করবেন তাঁরা প্রত্যেকেই জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ করবে এবং জান্নাতী হবেন।
সুবহানাল্লাহ!

এই জিহাদের গুরুত্ব হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে,-
عَنْ حَضْرَتْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰی عَنْهُ قَالَ وَعَدَنَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَزْوَةَ الْهِنْدِ فَإِنِ اسْتُشْهِدْتُ كُنْتُ مِنْ خَيْرِ الشُّهَدَاءِ وَإِنْ رَجَعْتُ فَأَنَا حَضْرَتْ أَبُوْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰی عَنْهُ الْمُحَرَّرُ
অর্থ: “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদের থেকে হিন্দুস্তান তথা ভারতের জিহাদ সম্পর্কে ওয়াদা তথা প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেন। যদি আমি সেই সম্মানিত জিহাদে উপস্থিত হই এবং শাহাদাত গ্রহণ করি তাহলে আমি হবো সর্বশ্রেষ্ঠ শহীদ। আর আমি যদি সম্মানিত জিহাদ থেকে ফিরে আসি (বিজয়ী বেশে) তাহলে আমি হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্ত।” সুবহানাল্লাহ!

দলীল-
√ মুসনাদে আহমদ ২/২২৮, √ মুস্তাদরকে হাকিম ৩/৫১৪, √ হিলইয়াতুল আওলিয়া ৮/৩১৬

উপরোক্ত হাদীছ শরীফদ্বয় থেকে হিন্দুস্তান তথা ভারতের সম্মানিত জিহাদের গুরুত্ব, তাৎপর্য, ফাযায়িল, ফযীলত, বুযুর্গী-সম্মান স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। এই জিহাদের এতোই গুরুত্ব, তাৎপর্য, ফাযায়িল, ফযীলত যে, স্বয়ং হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম থেকে এই জিহাদের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

হিন্দুস্তান তথা ভারতের মুশরিকদের সাথে যেই জিহাদ হবে সেই সম্মানিত জিহাদ-এ যাঁরা শহীদ হবেন তাঁরা হবেন সর্বশ্রেষ্ঠ শহীদ। সুবহানাল্লাহ!

সুতরাং এই সম্মানিত জিহাদ-এ অবশ্যই মুসলমানগন মহাবিজয় অর্জন করবেন। সুবহানাল্লাহ!
আর যাঁরা বিজয়ী বেশে এই সম্মানিত জিহাদ থেকে প্রত্যাবর্তন করবেন তাদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্ত করবেন। অর্থাৎ তাহারা সুনিশ্চিত জান্নাতী হবেন। সুবহানাল্লাহ!
এই সম্মানিত জিহাদ-এ মুসলমানগন যে মহাবিজয় অর্জন করবেন সেটা হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণিত হাদীছ শরীফ থেকেই স্পষ্টভাবে প্রমাণিত।
সুবহানাল্লাহ!

অর্থাৎ আবার ইসলামী হুকুমত কায়েম হবে। মুসলমানগন আবার নিজেদের অধিকার ফিরে পাবে। বিধর্মীদের মূলৎপাটন হবে।
সুবহানাল্লাহ্!!!

শাহ নেয়ামাতুল্লাহ ওয়ালী রহমতুল্লাহি আললাইহি তিনিও বাংলাদেশ পরিস্থিতি এবং গাজওয়াতুল হিন্দ এর ভবিষৎবাণী দিয়েছিলেন!

আল্লাহ্ তা‘য়ালা প্রদত্ত ইলহাম এর জ্ঞান দ্বারা আজ থেকে প্রায় সাড়ে আটশত বছর পুর্বে
(হিজরী ৫৪৮ সাল মোতাবেক ১১৫২ সালে খ্রিস্টাব্দে) শাহ নেয়ামতুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিখ্যাত কাব্যগুলো রচনা করেন। ওলী-আউলিয়া, হক্কানী পীর-মাশায়েখগণ মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে ইলহাম পেয়ে থাকেন। এই উপমহাদেশের ইলমে লাদুন্নীর জনক শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি উনার ইলহামী ইলম দিয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ সাওয়াতিউল ইলহাম রচনা করেন, অনুরুপ হযরত শাহ্ নেয়ামতউল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহিও ছিলেন একজন বুযুর্গ ওলী আল্লাহ। উনি সেই ইলমে লাদুনীর (আল্লাহ্ তা‘য়ালা প্রদত্ত জ্ঞান) কিছু অংশ উনার ক্বাসিদা বা কবিতায় প্রকাশ করেছেন যা কবিতার শেষ পংক্তি থেকে বুঝা যাচ্ছে।

এটি লিখার পর থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত প্রতিটি ভবিষ্যদ্বানীই হুবহু মিলে গিয়েছে। ১ম বিশ্বযুদ্ধ, ২য় বিশ্বযুদ্দ সম্পর্কেও এই ক্বাসিদায় ভবিষ্যৎবানী ছিল, তা সত্য হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

বাংলাদেশ ভারতের দখলে যাবে, কোটি কোটি মুসলমান শহীদ হবে, ৭১ এর মত বা এর চেয়েও ভয়ানকভাবে আবারও মা-বোনের ইজ্জত লুন্ঠিত হবে। অনেক রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর কাশ্মীর ও সমগ্র ভারত মুসলমানের দখলে আসবে এই ভবিষ্যৎবানীও আছে এই ক্বাসীদা শরীফটিতে। যা এখন দেখার বাকি…

ব্রিটিশ বড় লাট লর্ড কার্জনের শাসনামলে (১৮৯৯-১৯০৫) এই ক্বাসীদা এর প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কবিতার ৩৭ নং প্যারা থেকে খেয়াল করলে বুঝা যায়। কারন এর পূর্বের লাইন গুলো অক্ষরে অক্ষরে মিলে যাওয়ায় শুধুমাত্র বর্তমান ও ভবিষতে কি ঘটতে পারে এটাই আমাদের দেখার বিষয়…

ক্বাসিদাটি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত “কাসিদায়ে সাওগাত” বইতে পাবেন। এই ছাড়াও মদিনা পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত ”মুসলিম পুনঃজাগরণ প্রসঙ্গ ইমাম মাহদি” বইতেও পাবেন। যারা উর্দু বুঝেন তারা এই নিয়ে ৮ পর্বের সিরিজ আলোচনা শুনতে পারেন, পাকিস্তানী বিশেষজ্ঞ জায়েদ হামিদ খুব সুন্দর করে ব্যাখ্যা সহ কারে উনার সকল ভবিষ্যৎ বাণী (ইলহাম) তুলে ধরেছেন।

বাংলা ভাষায় রুহুল আমীন খান অনূদিত শাহ নিয়ামতুল্লাহ রহঃ এর একটি কবিতা ১৯৭০/৭১ এর দিকে এদেশে প্রকাশিত হয়েছিল। কবিতাটিতে ৫৪টি প্যারা রয়েছে।

আমি আমার পরবর্তী পোষ্টে ৫৪ টি প্যারাই ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ ও আলোচনা করে যাব ইনশাআল্লাহ! তাই নিকট ভবিষ্যৎ এ বাংলাদেশের এই কঠিন পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে দয়া করে সাথেই থাকুন ও লিখাগুলো ছড়িয়ে দিয়ে মুসলমানদেরকে সকল প্রকার ইসলাম বিদ্বেষী ও ষড়যন্ত্রকারীদের ব্যাপারে সচেতন করুন।

জাজাকাল্লাহ খাইরান।

হক্ব প্রচার চলছে, চলবেই ইনশাআল্লাহ…

” শাহ্‌ সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল্লাহ (অপূর্ব) “

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে