আপনী জানেন কি, আপনী একটি অঘোষিত মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের শিকার? 


ফিলিস্তিনের অধিবাসীরা জানে, তারা যুদ্ধের শিকার। কারণ তাদের কান সবসময় বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পায়। তাদের নাকের সামনে অক্সিজেনও গোলা বারুদের গন্ধ নীয়ে আসে। ইয়েমেনের বাসিন্দারাও জানে তারা যুদ্ধবন্ধি নাগরিক। যেকোন সময় বোমার আঘাতে তাদের প্রাণ চলে যেতে পারে। কিন্তু আপনী বাংলাদেশে থেকে যে, এক ভয়াবহ অদৃশ্য যুদ্ধের ‘শিকার’ হয়ে জীবন যাপন করছেন তা কি আপনী জানেন? এ যুদ্ধ গোলা বারুদের নয়, এ যুদ্ধের নাম ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’। যেসব দেশে সন্ত্রাস দমনের নামে কিংবা শান্তিরক্ষার নামে সরাসরি বোমা হামলা করার মতো ক্ষেত্র এখনো তৈরী হয়নী, সেসব দেশে এই ‘ক্ষেত্র’ তৈরীর প্রকৃয়াই হচ্ছে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। এ যুদ্ধের দ্বারা খুব সফলতার সাথে সম্রাজ্যবাদীরা একের পর এক দেশ দখল করে যাচ্ছে। কিন্তু কিভাবে পরিচালিত হয় এই মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ?
চতুর্থ ধাপটি হলো, নরমালাইজেশন বা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার নাম দিয়ে অথবা সন্ত্রাস দমনের নামে হামলা চালানো এক পর্যায়ে দেশ কর্তৃত্ব ও নেতৃত্বে হস্তক্ষেপ করে দেশকে নীজেদের নীয়ন্ত্রণে নেয়া অর্থাৎ দেশ দখল করা।
এভাবেই মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের প্রতিটি ধাপ বাস্তবায়িত হচ্ছে বাংলাদেশে। আর আপনী, আমি, আমরা বাঙালি জাতি ইতোমধ্যে ডিমোরালাইজড জাতিতে পরিণত হয়েছি; তাই আমাদের সমাজে নৈতিক অবক্ষয়ের মতো বহু ঘটনা প্রতিনীয়ত ঘটছে। মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের শিকার হয়ে আমাদের দেশটি নানা কারণে ডি-স্টেবিলাইজড (অস্থিতিশীল) হয়ে পড়েছে। ফলস্বরূপ দেশে বিভিন্ন সেক্টরে দেখা যাচ্ছে ‘ক্রাইসিস’। আর সমস্যা সমাধানের নামে নীরবে চলছে নরমালাইজেশনের নামে দেশ দখলের পাঁয়তারা। সবই ঘটে যাচ্ছে আপনার মাথার উপর দিয়ে যা আপনী দেখছেন, হয়তো সমালোচনাও করছেন কিন্তু উপলব্ধি করতে পারছেন না যে- দেশে কি ঘটতে যাচ্ছে আগামী দিনগুলোতে। যাচাই করার জন্য খুব দূরে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। আপনার ঘরে কোনো স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থী থাকলে তার যে কোনো একটি পাঠ্যবই (এনসিটিবি কর্তৃক প্রণীত) পড়ে দেখেন, আপনার ঘরের সন্তানকে কি শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। বোধ করি এমন কিছু উপলব্ধি করেই দৈনীক ইনকিলাবে একটি কলাম ছাপা হয়েছিলো এই শিরোনামে- “আমাদের সন্তানেরা মুসলমান থাকবেতো?’

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে