আফদ্বালুল আউলিয়া, ইমামে রব্বানী, গাউছে সামদানী, নূরে মুকাররম হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রতি সুসংবাদ -মুহম্মদ নূরুয যামান (সাজিদ)।


১। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আফদ্বালুল আউলিয়া, ইমামে রব্বানী, গাউছে সামদানী হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে সুসংবাদ দিয়ে বলেন, “আপনি ইলমে কালাম উনার মুজতাহিদ।”
২। আফদ্বালুল আউলিয়া, ইমামে রব্বানী, গাউছে সামদানী, নূরে মুকাররম হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একদিন মুরাকাবার হালতে ছিলেন। সেই সময় উনার উপর ইলহাম হলো: “গাফারতুলাকা ওয়া মান তাওয়াসসালা বিকা বিওয়াসিতাতীন আও বি-গাইরে ওয়াসিতাতীন ইলা ইয়াওমিল ক্বিয়ামাহ।” অর্থ: “আপনাকে ক্ষমা করা হলো এবং আপনাকে যারা উছীলা হিসেবে গ্রহণ করবে সরাসরি অথবা মধ্যস্থতার মাধ্যমে কিয়ামত পর্যন্ত তাদের সবাইকে ক্ষমা করা হলো।” সুবহানাল্লাহ!
৩। আফদ্বালুল আউলিয়া, ইমামে রব্বানী, গাউছে সামদানী, নূরে মুকাররম হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন- “ক্বিয়ামত পর্যন্ত যত পুরুষ ও নারী আমার সিলসিলা কিংবা অন্য কোনো সিলসিলার মাধ্যমে আমার তরীক্বা উনার মধ্যে দাখিল হবে তাদের সকলকেই আমার সম্মুখে পেশ করে তাদের নাম, নসব, বংশ পরিচয়, জš§ভ‚মি এবং বাসস্থান সমস্ত কিছুই বলে দেয়া হয়েছে। আমি ইচ্ছা করলে সকলেরই নাম, ঠিকানা বলে দিতে পারি।” সুবহানাল্লাহ!
৪। আফদ্বালুল আউলিয়া, ইমামে রব্বানী, গাউছে সামদানী, নূরে মুকাররম হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে এ বিষয়েও সুসংবাদ দেয়া হয়েছিলো যে, তিনি যার জানাযার নামায পড়বেন, তার সমস্ত গুনাহখাতা মাফ করে দেয়া হবে। সুবহানাল্লাহ!
৫। সীমাহীন বিনয়-নম্রতার জন্য আফদ্বালুল আউলিয়া, ইমামে রব্বানী, গাউছে সামদানী, নূরে মুকাররম হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার একবার খেয়াল হলো যে, তিনি যা লিখেছেন তা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট মকবুল হয়েছে কিনা- এটা মকবুল হয় কিনা, তা উনার নিকট প্রতীয়মান হচ্ছে না। তৎক্ষণাৎ ইলহাম হলো- “আপনি যা কিছু লিখছেন, সেটা পুরোপুরি মকবুল।” আবার ইলহাম হলো- “যেটা লিখছেন কেবল সেটাই মকবুল নয়, বরং পরবর্তীতে যা কিছু আলোচনা ও কথপোকথনের মাধ্যমে প্রকাশ করবেন সেটাও মকবুল এবং তা আমারই বার্তা ও বর্ণনা।” সুবহানাল্লাহ!
৬। আফদ্বালুল আউলিয়া, ইমামে রব্বানী, গাউছে সামদানী হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজের মেহেরবানীতে জানিয়ে দিয়েছেন যে, আমার সবকিছু লিখিত বস্তু ও মকতুবাত শরীফ আখিরী যামানায় হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম উনার সম্মুখে পেশ করা হবে। তা উনার নিকট মকবুল বা গ্রহণযোগ্য হবে।” সুবহানাল্লাহ! (হালাতে মাশায়িখে নকশবন্দীয়া মুজাদ্দিদীয়া-২/৩৭)
৭। মহান আল্লাহ পাক তিনি আফযালুল আউলিয়া, ইমামে রব্বানী, গাউছে সামদানী, নূরে মুকাররম হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে এক নতুন তরীক্বা দান করেছিলেন। উনার পূর্ববর্তী হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের অনেকে মা’রিফতী সায়ির বা ভ্রমণ কেবলমাত্র বিলায়েতে ছুগরা বা ক্বলব লতীফার উপর পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল। কদাচিৎ দুই একজনের বিলায়েতে কুবরা পর্যন্ত সায়ির (ছফর বা ভ্রমণ) নসীব হতো। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বয়ং নিজের ফযল ও করম দ্বারা আফযালুল আউলিয়া, ইমামে রব্বানী, গাউছে সামদানী, নূরে আ’যীম হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বিলায়েতে কুবরা, বেলায়েতে মালায়েআলা, কামালতে নুবুওওয়াত ও কামালতে রিসালত, কামালতে উলুল আ’যম, হাক্বীক্বতে ইবরাহীমী, হাক্বীক্বতে মুসাবী, হাক্বীক্বতে মুহম্মদী, হাক্বীক্বতে আহমদী, হ‚ব্বে সরফা, ও লা-তাই’উন, হাক্বীক্বতে কা’বা, হাক্বীক্বতে কুরআন শরীফ, হাক্বীক্বতে ছলাত, ছাওম মা’বুদীয়তে ছরফা মাক্বামসমূহের দরজা খুলে দিয়েছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
আফদ্বালুল আউলিয়া, ইমামে রব্বানী, গাউছে সামদানী, নূরে আ’যীম হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ছাহেবযাদা হযরত খাজা মুহম্মদ সাঈদ রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত খাজা মুহম্মদ মা’সুম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদেরকে উপরোক্ত তামাম মাক্বাম, সায়ির করিয়েছিলেন। আর উনাদের মাধ্যমে উনাদের সাহেবযাদাগণ ও খলীফাগণ উনারা উক্ত মাক্বামসমূহ সায়ির করেছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক উনার অশেষ রহমতে এই তরীক্বার মধ্যে উক্ত মাক্বামসমূহের সায়ির বিদ্যমান রয়েছে। ইনশাআল্লাহ ক্বিয়ামত পর্যন্ত এটা জারি থাকবে। এটাকেই তরীক্বায়ে নকশবন্দীয়ায়ে মুজাদ্দিদীয়া বলা হয়।
৮। আফদ্বালুল আউলিয়া, ইমামে রব্বানী, গাউছে সামদানী, নূরে মুকাররম হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন, ‘হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম তিনি এই তরীক্বার নিসবত হাছিল করবেন এবং এই ত্বরীকার নিসবত উনার উপর সর্বাঙ্গীন সুন্দররূপে বিকশিত হবে।”
৯। আফদ্বালুল আউলিয়া, ইমামে রব্বানী, গাউছে সামদানী, নূরে আ’যীম হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আরো বলেছেন, “নুবুওওয়াত ব্যতীত মানুষের পক্ষে যত কামালত হাছিল করা সম্ভব, মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি আমাকে তা দান করেছেন।” সুবহানাল্লাহ!
এ কথা অনস্বীকার্য যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি আফযালুল আউলিয়া, ইমামে রব্বানী, গাউছে সামদানী, নূরে মুকাররম হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে যে নজীরবিহীন খুছুছিয়াত বৈশিষ্ট্য মুবারক দান করেছিলেন, তার সুনিপুণ বর্ণনা দেয়া সম্ভব নয়। (হালাতে মাশায়িখে নক্শবন্দীয়া মুজাদ্দিদীয়া-২/৩৮)
Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে