আমদানিকৃত ফলসহ অন্যান্য খাদ্যদ্রব্যের ক্ষেত্রে সারাবছরই অভিযান চালানো হয় না কেন?


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা যালিমও হইও না আর মজলুমও হইও না।”

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে “তোমরা সকলেই রক্ষক, প্রত্যেকেই তার রক্ষিত বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।”

ফরমালিন বিরোধী অভিযানের নামে বিগত ২ বছরে দেশের সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার আমবাণিজ্য ধ্বংস হয়েছে। দেশীয় আম বাজারে আসার আগে ফরমালিন যুক্ত ভারতীয় আমে বাজার সয়লাব থাকলেও তখন চালানো হয়নি কোনো অভিযান। আর শুধুমাত্র আম বা দেশীয় ফলের মৌসুমে ফরমালিন অভিযান চালানো হয় কেন? আমদানিকৃত ফলসহ অন্যান্য খাদ্যদ্রব্যের ক্ষেত্রে সারাবছরই অভিযান চালানো হয় না কেন? দেশীয় আমের মৌসুমে নয়, বরং সারা বছরব্যাপী ফরমালিন বিরোধী অভিযান চালাতে হবে এবং ফরমালিন মুক্ত আম বাজারজাতকরণে ও সংরক্ষণে এবং আম চাষীদের স্বার্থ রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা সরকারকেই করতে হবে। সব ধরনের ষড়যন্ত্র ও আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে আমচাষী ও আম শিল্পকে রক্ষা করতে হবে।

যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইউস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যূল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদে রসূল, মাওলানা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, দেশীয় আম বাজারে আসার আগে যখন ফরমালিন যুক্ত ভারতীয় আমে বাজার সয়লাব হয়, ফরমালিনের নামে তখন কোনো অভিযান চালানো হয় না। এছাড়া সারাবছর ধরে খাদ্যদ্রব্যে ফরমালিন ব্যবহৃত হলেও তখন ফরমালিন বিরোধী উল্লেখযোগ্য কোনো অভিযান চালানো হয় না। অথচ দেশীয় আমের মৌসুম যখন নিকটবর্তী তখন ঘোষণা করা হচ্ছে ফরমালিন বিরোধী অভিযান। মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আমের মৌসুমে দেশীয় আম বাজারে আসার অন্তত ১৫ দিন আগেই রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে উঠে বিভিন্ন জাতের ভারতীয় আম। রফতানীর উদ্দেশ্যে এসব আম দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য তারা ফরমালিন মিশ্রিত করে। ত্রুটিযুক্ত হওয়ায় ২০১৪ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারতীয় আম আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। কিন্তু বাংলাদেশে ক্যামিক্যালযুক্ত নিম্নমানের আম ঠিকই বাজারজাত করা হয়। তখন প্রশাসন ফরমালিন যুক্ত ভারতীয় আম আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযান না চালিয়ে নিষ্ক্রিয় থাকে। মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সারা বছর যেসব খাদ্যে মাত্রাতিরিক্ত ফরমালিন ব্যবহার করা হয় বাঙালির প্রতিদিনের খাদ্য মাছ তার মধ্যে অন্যতম। তাছাড়া শুঁটকি, তরকারী, কাঁচা গোশত, দুধ ইত্যাদির মধ্যেও সারাবছর ধরেই ফরমালিন ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এসবের বিরুদ্ধে সারা বছর উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না। অথচ বিগত ২ বছর আমের মৌসুমে ফরমালিন বিরোধী অভিযানের নামে দেশের সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার আম বাজারে ধস নামানো হয়। মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, তাছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত আম ব্যবসায়ীরা ফরমালিন পরিমাপক যন্ত্র সঠিক নয়, তা বারবার বললেও প্রশাসন আম ধ্বংস অব্যাহত রাখে। বাধ্য হয়ে ব্যবসায়ীরা উচ্চ আদালতে রিট করলে আদালতের নির্দেশনায় যন্ত্রটি পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ বিসিএসআইআর এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই) প্রতিবেদনে “ফরমালিন পরীক্ষার যন্ত্র ত্রুটিপূর্ণ” বলে উল্লেখ করে। ততোদিনে কমপক্ষে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার আমবাণিজ্য ধ্বংস হয়। ভুক্তভোগীরা পায়নি কোনো ক্ষতিপূরণ। সারাদেশের লাখ লাখ লোক পথে বসে। পুঁজি খুইয়ে হা-হুঁতাশ করে। এবারো আমের মৌসুম যখন নিকটবর্তী, তখন ফরমালিন বিরোধী অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ নির্বিকার। মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সম্প্রতি রাজধানীর রমনা, লালবাগ, মিরপুর, তেজগাঁও, মতিঝিল, ওয়ারী, গুলশান ও উত্তরা এলাকার বাজার ও দোকান থেকে এসব ফল সংগ্রহ করে দেখা যায়, মাল্টায় ২ দশমিক ৭০ থেকে ৮ দশমিক শূন্য ৮ পিপিএম, আপেলে ৯ দশমিক শূন্য ২, আঙ্গুরে ১ দশমিক ২৬ থেকে ৭ দশমিক ২০, চেরি ফলে ৫২ পিপিএম মাত্রায় ফরমালিন রয়েছে। অথচ এসব বিষাক্ত ফল আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, দেশে নিরাপদ খাদ্য আইন রয়েছে। ২০১৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ‘নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩’ দেশব্যাপী কার্যকর হয়েছে। তাছাড়া বর্তমান আইনের অধীনে ‘বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত’ এবং ‘মোবাইল কোর্ট’ও রয়েছে। এসব আইনের অধীনে সারা বছরব্যাপী নিয়মিত ফরমালিন বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা যায়। অথচ তা না করে আমের মৌসুমের আগে দেশীয় আমবাজার ধ্বংস এবং ভারতীয় আমের বাজার তৈরি করতে এধরনের অভিযান চালানো হচ্ছে কিনা- তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, শুধুমাত্র আম বা দেশীয় ফলের মৌসুমে ফরমালিন অভিযান চালানো হয় কেন? ভারতীয় আম বাজারে আসার সাথে সাথে অভিযান চালানো হয় না কেন? তাছাড়া ফরমালিন বিরোধী অভিযান পরিচালনাকারীরা আমদানিকৃত ফলসহ অন্যান্য খাদ্যদ্রব্যের ক্ষেত্রে সারাবছরই অভিযান চালায় না কেন? সুতরাং দেশীয় আমের মৌসুমে নয়, বরং সারা বছরব্যাপী ফরমালিন বিরোধী অভিযান চালাতে হবে। পাশাপাশি ফরমালিন মুক্ত আম বাজারজাতকরণে ও সংরক্ষণে এবং আম চাষীদের স্বার্থ রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা সরকারকেই করতে হবে। সব ধরনের ষড়যন্ত্র ও আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে আমচাষী ও আম শিল্পকে রক্ষা করতে হবে। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে “তোমরা সকলেই রক্ষক, প্রত্যেকেই তার রক্ষিত বিষয় সর্ম্পকে জিজ্ঞাসিত হবে।” মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসম্মত আম ভোগ করা জনগণের অধিকার। পাশাপাশি আম চাষীদের স্বার্থ রক্ষা করা এবং ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ষড়যন্ত্র থেকে দেশীয় আমশিল্পকে রক্ষা করা সরকারের কর্তব্য। এসব কর্তব্য আদায়ে সরকারকে সচেষ্ট হতে হবে। অন্যথায় মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে সংশ্লিষ্ট মহলকে কঠোর জবাবদিহি করতে হবে।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে