আমরা কি ধ্বংস থেকে রক্ষা পাবার চেষ্টা করবো না?


মুখলিছ তথা ইখলাছ অর্জনকারী কারা?
-যারা ইহসানের দুটি স্তরের মধ্যে অন্তত একটি স্তরে পৌঁছতে পেরেছেন।
ইহসানের দুটি স্তর সম্পর্কে কম বেশি সকলেরই ধারণা আছে।স্তর দুটি হচ্ছে
১) মহান আল্লাহ পাক উনাকে দেখে দেখে ইবাদত করা
২)মহান আল্লাহ পাক দেখছেন এ ধারণা বদ্ধমূল রেখে ইবাদত করা
এখন খুবই কম সংখ্যক ব্যক্তি আছেন যারা ইহসানের প্রথম স্তরে আছেন।আর প্রথম স্তরে না পৌঁছতে পারলেও অবশ্যই দ্বিতীয় স্তরে সবাইকেই পৌঁছতে হবে।নতুবা একটি ইবাদতও কবুলযোগ্য না হওয়ার কারণে হাদীস শরীফের ভাষ্য অনুযায়ী ধ্বংস হতে হবে।
আর এ বিষয়টিই মহান আল্লাহ পাক কালামুল্লাহ শরীফে “ফাওয়াইলুল্লিল মুসল্লিন” তথা মুসল্লীদের জন্য ওয়েল তথা জাহান্নাম ইরশাদ মুবারক করে জানিয়ে দিয়েছেন।যাদ্বারা তাফসীরের কিতাবে বর্ণিত আছে ,যারা লোক দেখানো নামায অথবা গাফেলতীর সাথে তথা ইখলাছের সাথে নামায পড়বে না তাদের জন্য জাহান্নামী হওয়ার কারণ হবে।
মূলত সকল ইবাদতের ক্ষেত্রেই একই ফায়সালা।
তাই নামায,রোযা,হজ্ব,যাকাত প্রতিটি ইবাদতই ইখলাছের সাথে করতে হবে ।অর্থাৎ সবাইকেই ইখলাছ অর্জন করতেই হবে। তা না হলে ইবাদতে জিন্দেগী কাটিয়ে দিলেও রেজাল্ট জিরো!
এতো গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় অথচ দেখা যায়,মানুষ ইবাদতের প্রতি গুরুত্ব দিলেও ইবাদত কবুল হওয়ার বিষয়ের দিকে মোটেও গুরুত্ব দেয় না,জানে না,কেউ জানায়ও না!
এটাও একটা ইবলিশী ওয়াসওয়াসা! ইবলিশ চায়ই যেভাবেই হোক, ধ্বংস।তাই ইবলিশ মানুষকে ইবাদতে মশগুল রাখাই বেশি পছন্দ করে।কিন্তু ইলিম অর্জন করা,ইখলাছ হাছিল করা,ফক্বীহ হওয়া এটা পছন্দ করে না।
আর ইবলিশ শপথ করেছে,যে, যারাই ইখলাছ অর্জন করবে তথা মুখলিছ হবে তাদেরকে ইবলিশ বিভ্রান্ত করতে পারবে না।

ﻗَﺎﻝَ ﻓَﺒِﻌِﺰَّﺗِﻚَ ﻟَﺄُﻏْﻮِﻳَﻨَّﻪُﻡْ ﺃَﺟْﻤَﻌِﻴﻦَ ﴿ ٨٢ ﴾ ﺇِﻟَّﺎ ﻋِﺒَﺎﺩَﻙَ ﻣِﻨْﻬُﻢُ ﺍﻟْﻤُﺨْﻠَﺼِﻴﻦَ
অর্থ:সে (শয়তান) বললো, আপনার ইজ্জতের কসম অবশ্যই আমি তাদের সকলকে বিভ্রান্ত করবো।তাদের মধ্য থেকে আপনার মুখলিছ বান্দাগন ব্যতীত।(সুরা-ছোয়াদ শরীফ-৮২,৮৩)
সুতরাং এটা স্পষ্ট যে,তারাই বিভ্রান্তির মধ্যে আছে যারা এখনো ইখলাছ অর্জন করতে পারলো না,চেষ্টাও করলো না।আর এজন্য তাদের ইবাদত বিভ্রান্ত হওয়ার কারণে কবুলযোগ্য না।সুতরাং এরাই জাহান্নামী!নাঊযুবিল্লাহ!
এখন তাহলে বুঝাই যাচ্ছে যে,যে করেই হোক ইখলাছ হাছিল করতে হবে। কীভাবে?যারা ইখলাছ হাছিল করতে পেরেছে তাদের সঙ্গে থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে,যেহেতু তারা বিভ্রান্ত না আর তাদের উপর শয়তানের ওয়াসওয়াসাও নাই।
এজন্য মুখলিছ ব্যক্তি চেনাও সহজ।যারাই কোনো প্রকার শয়তানী ক্রিয়াকলাপ বা শরীয়তের বিপরীত আমল করে না তারাই সেই মুখলিছ ব্যক্তি ।সুবহানাল্লাহ!
উল্লেখ্য কেউ শরীয়তের খিলাফ যদি একটা আমলও করে সে কিন্তু মুখলিছ হিসেবে সাব্যস্ত হবে না।
কাজেই মহান আল্লাহ পাক যেন আমাদের সকলকেই মুখলিছ ব্যক্তিগণ উনাদের সংস্পর্শে থেকে ইখলাছ অর্জন করে নিজেদেরও মুখলিছ হওয়ার তৌফিক দান করেন।
আমীন।12088412_918119514947637_9024808697968892908_n

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+