সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দু:খিত। ব্লগের উন্নয়নের কাজ চলছে। অতিশীঘ্রই আমরা নতুনভাবে ব্লগকে উপস্থাপন করবো। ইনশাআল্লাহ।

আমল করেই জান্নাতে যেতে চান? তাহলে আপনার জন্য রয়েছে দুঃসংবাদ !


এক ব্যক্তি ২০ বছর একস্থানে নামায পড়ে কিছুদিন আগে জানতে পারলো তার বাসায় ক্বিবলা নির্ধারণ ভুল ।এক্ষেত্রে তার ২০ বছরের আমলের বদলা কি হবে ? এক্ষেত্রে তার কি-বা উপায় থাকতে পারে আল্লাহর রহমতের উপর নির্ভর ব্যতিত? অথচ মানুষ আমল করেই জান্নাতে চলে যেতে চায়।

আমল কখনো জান্নাতে পৌছাতে পারবে না, রিয়াদুস সালেহীন কিতাবের এ ঘটনাটি বুঝার জন্য যথেষ্ট,

হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে এসে একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন। 
এক ব্যক্তি পাহাড়ের উচ্চ চূড়ায় পাঁচশ বছর ধরে আল্লাহপাকের ইবাদতে মশগুল ছিল। ঐ পাহাড়ের চারদিক লবণাক্ত পানি দ্বারা বেষ্টিত। আল্লাহপাক তার জন্য পাহাড়ের অভ্যন্তরে সুপেয় পানির ঝর্ণা এবং একটি আনার গাছের সৃষ্টি করেন।
প্রতিদিন সেই ব্যক্তি আনার ফল খেত এবং পানি পান করত। আর পানি দিয়ে অযূ করত। সে ব্যক্তি আল্লাহ্‌পাকের কাছে এই দু’আ করল যে, ‘ হে আল্লাহ্‌পাক! আমার দেহ থেকে রূহ যেন সেজদারত অবস্থায় কবয করার ব্যবস্থা করা হয়। আল্লাহ্পাক তার এই দুয়া কবুল করেন।
হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম বলেন, আমি আসমানে আসা যাওয়ার সময় তাকে সেজদারত অবস্থায় দেখতাম। কিয়ামতের দিন আল্লাহ্‌পাক তার সম্পর্কে বলবেনঃ আমার এই বান্দাকে আমার রহমতে জান্নাতে প্রবেশ করাও।
ঐ ব্যক্তি বলবে না, বরং আমার আমলের বরকতে জান্নাতে প্রবেশ করানো হোক।
তখন নির্দেশ আসবে- আমার নিয়ামতের বিপরীতে তার কৃতারমল পরিমাপ কর।
পরিমাপ করে দেখা যাবে, পাঁচশ বছরের ইবাদাত শেষ হয়ে গেছে একটি চোখের নিয়ামতের বিনিময়ে।
তখন আল্লাহ্‌পাক নির্দেশ দিবেনঃ আমার বান্দাকে জাহান্নামে নিয়ে যাও।
ফেরেশতারা তখন তাকে নিয়ে রওয়ানা হবে। কিছুদূর যাওয়ার পর ঐ ব্যক্তি আরয করবে,‘ হে আল্লাহ্‌পাক! আমাকে আপনার রহমতে জান্নাতে প্রবেশ করান । নির্দেশ আসবে তাকে ফিরত নিয়ে আসো। আল্লাহ্‌ পাকের নিকট ফিরিয়ে আনার পর তাকে নিচের প্রশ্নগুলো করা হবে আর সে বলবেঃ-
– তোমাকে কে সৃষ্টি করেছেন?
– হে আল্লাহপাক, আপনি !
– এই কাজটা তোমার আমল না আমার রহমতের বরকতে হয়েছে?
– আপনার রহমতে।
– তোমাকে পাঁচশ বছর ইবাদাত করার শক্তি ও তাওফীক কে দিয়েছেন?
– হে আল্লাহ্‌পাক! আপনি।
– সমুদ্রের মাঝে পাহাড়ের উপর তোমাকে কে পৌঁছিয়েছেন? লবণাক্ত পানির মাঝে সুপেয় পানির ব্যবস্থা কে করেছেন? আনার গাছ কে সৃষ্টি করেছেন? তোমার দরখাস্ত মতাবেক সেজদার মাঝে কে তোমার রূহ কবয করার ব্যবস্থা করেছেন?
-হে পরওয়ারদিগার! আপনি!
তখন ইরশাদ হবে, এই সব কিছু আমার রহমতে হয়েছে এবং আমার রহমতেই তোমাকে জান্নাতে দাখিল করছি।
(সুবহানাল্লাহ)
আক্বীদার বিশুদ্ধতা ও আল্লাহপাকের রহমত ব্যতিত জান্নাতে প্রবেশ অসম্ভব ।
তাছাড়া আমল দ্বারা মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে তবে সে আমল যে আমল আল্লাহপাক নিকট কবুল হয়েছে, বেশিভাগ মানুষের খাদ্য হালাল-হারামের, কাপড় পাক-নাপাকের, ওজু শুদ্ধতা-অশুদ্ধতার খেয়াল নেই।অথচ তারা জানে এগুলো ব্যতিত নামায কবুল হয় না। আল-বাইয়্যিনাত শরীফ নামক মাসিক কিতাবে দেখি, কখনোই আয়াত শরীফ, হাদীস শরীফের আরবী উচ্চারণ বাংলায় লেখা হয় না। কারণ জিজ্ঞেসা করে জানলাম, আয়াত শরীফের উচ্চারণ বাংলায় করা হলে উচ্চারণের অশুদ্ধতার কারণে অর্থ পালটিয়ে যায়। ফলে কুফরী হয় এবং ঈমান হারানোর কারণ হয়।আজকাল মানুষের উচ্চারণের শুদ্ধতার সর্তকতা নেই অথচ মানুষ বই দেখে দেখে আমল করেই জান্নাতে চলে যেতে চায়।
আল্লাহপাক সবাইকে দ্বীনের সহীহ সমঝ দান করুন।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে