আমীরুল মু’মিনীন, কাতিবে ওহী, জামিউল কুরআন, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার বেমেছাল ফযীলত


মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَن حَضْرَتْ ثُمامة بن حَزْنٍ الْقشيرِي رحمة الله عليه قَالَ شَهِدْتُ الدَّارَ حِينَ أَشْرَفَ عَلَيْهِمْ حَضْرَتْ عُثْمَانُ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَقَالَ أنْشدكُمْ بِاللَّه وَالْإِسْلَامَ هَلْ تَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدِمَ الْمَدِينَةَ وَلَيْسَ بِهَا مَاءٌ يُسْتَعْذَبُ غَيْرُ بِئْرِ رُومَةَ فَقَالَ مَنْ يَشْتَرِي بِئْرَ رُومَةَ يَجْعَلُ دَلْوَهُ مَعَ دِلَاءِ الْمُسْلِمِينَ بِخَيْرٍ لَهُ مِنْهَا فِي الْجَنَّةِ فَاشْتَرَيْتُهَا مِنْ صُلْبِ مَالِي وَأَنْتُمُ الْيَوْمَ تَمْنَعُونَنِي أَنْ أَشْرَبَ مِنْهَا حَتَّى أَشْرَبَ مِنْ مَاءِ الْبَحْرِ قَالُوا اللَّهُمَّ نعم. فَقَالَ أنْشدكُمْ بِاللَّه وَالْإِسْلَامَ هَلْ تَعْلَمُونَ أَنَّ الْمَسْجِدَ ضَاقَ بِأَهْلِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ يَشْتَرِي بُقْعَةَ آلِ فُلَانٍ فَيَزِيدُهَا فِي الْمَسْجِد بِخَير مِنْهَا فِي الْجَنَّةِ . فَاشْتَرَيْتُهَا مِنْ صُلْبِ مَالِي فَأَنْتُمُ الْيَوْمَ تَمْنَعُونَنِي أَنْ أُصَلِّيَ فِيهَا رَكْعَتَيْنِ فَقَالُوا اللَّهُمَّ نعم. قَالَ أنْشدكُمْ بِاللَّه وَالْإِسْلَامَ هَلْ تَعْلَمُونَ أَنِّي جَهَّزْتُ جَيْشَ الْعُسْرَةِ مِنْ مَالِي قَالُوا اللَّهُمَّ نَعَمْ قَالَ أَنْشُدُكُمُ بِاللَّه وَالْإِسْلَامَ هَلْ تَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ عَلَى ثَبِيرِ مَكَّةَ وَمَعَهُ حَضْرَتْ أَبُو بَكْرٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَ حَضْرَتْ عُمَرُ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَأَنَا فَتَحَرَّكَ الْجَبَلُ حَتَّى تَسَاقَطَتْ حِجَارَتُهُ بِالْحَضِيضِ فَرَكَضَهُ بِرِجْلِهِ قَالَ اسْكُنْ ثَبِيرُ فَإِنَّمَا عَلَيْكَ نَبِيُّ وَصِدِّيقٌ وَشَهِيدَانِ قَالُوا اللَّهُمَّ نَعَمْ. قَالَ اللَّهُ أَكْبَرُ شَهِدُوا وَرَبِّ الْكَعْبَةِ أَنِّي شَهِيدٌ ثَلَاثًا.
অর্থ: হযরত সুমামা ইবনে হাযন কুশাইরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, (যখন বিদ্রোহীরা সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার গৃহ মুবারক অবরোধ করে রেখেছিল, এ সময়) আমি উনার গৃহের কাছে উপস্থিত ছিলাম। যখন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি গৃহের উপর হতে লোকদের দিকে তাকিয়ে বললেন, আমি তোমাদেরকে মহান আল্লাহ পাক এবং সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, তোমরা কি এই ব্যাপারে অবগত আছ যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হিজরত করে যখন সম্মানিত মদীনা শরীফ তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করলেন, তখন ‘রুমার কূপ’ ব্যতীত অন্য কোথাও মিষ্টি পানি পাওয়া যেত না? তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, “যে ব্যক্তি রুমার কূপটি খরিদ করে মুসলমানদের অবাধে ব্যবহারের জন্য ওয়াকফ করে দিবে, বিনিময়ে সে বেহেশতে তদপেক্ষা উত্তম কূপ লাভ করবে। সুবহানাল্লাহ! তখন আমি উক্ত কূপটি আমার একান্ত ব্যক্তিগত অর্থে খরিদ করে হাদিয়া করি। অথচ আজ তোমরা আমাকে উক্ত কূপের পানি পান করা হতে বাধা দিচ্ছ। এমনকি আমি সমুদ্রের লোনা পানি পান করছি। লোকেরা বললো, মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! হ্যাঁ, আমরা তা জানি। তারপর তিনি বললেন, আমি তোমাদেরকে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, তোমরা কি জান যে, যখন সম্মানিত মসজিদে নববী শরীফ উনার আয়োতন বৃদ্ধি করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি অমুকের বংশধর হতে এ যমীনটি খরিদ করে সম্মানিত মসজিদে নববী শরীফ বৃদ্ধি করে দিবে, তার বিনিময়ে মহান আল্লাহ পাক উনাকে তা থেকে উত্তম ঘর সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ দান করবেন। তখন আমিই তা আমার ব্যক্তিগত অর্থে খরিদ করে হাদিয়া করি। অথচ আজ তোমরা আমাকে সেই সম্মানিত মসজিদে দু’রাকায়াত নামায পড়তে বাধা দিচ্ছ। উত্তরে তারা বললো, মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! হ্যাঁ, আমরা তা জানি। অতঃপর তিনি বললেন, আমি তোমাদেরকে মহান আল্লাহ পাক উনার ও সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, তোমরা কি অবগত আছ যে, দারুণ কষ্টের অভিযানে (তাবুক জিহাদে) সৈন্যদিগকে আমি আমার নিজস্ব সম্পদ হতে জিহাদের সামান দিয়ে সাজিয়েছিলাম? লোকেরা বললো, মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! হ্যাঁ আমরা তা জানি। তারপর তিনি বললেন, আমি তোমাদেরকে মহান আল্লাহ পাক উনার ও সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, তোমরা একথাটি অবগত আছ কি, একদা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত মক্কা শরীফ উনার অনতিদূরে ‘সাবীর’ পাহাড়ের উপর দ-ায়মান ছিলেন, উনার সাথে সেখানে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি এবং আমিও উপস্থিত ছিলাম। হঠাৎ পাহাড়টি নড়াচড়া করতে লাগল। এমনকি তা হতে কিছু পাথর নিচের দিকে পড়তে লাগলো। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পাহাড়টিতে স্বীয় ক্বদম মুবারক ঠুকিয়ে বললেন, স্থির হয়ে যাও হে সাবীর! তোমার উপর একজন নবী, একজন ছিদ্দীক্ব ও দুইজন শহীদ রয়েছেন। উত্তরে লোকেরা বললো, মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! হ্যাঁ, আমরা তা জানি। অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি বলে উঠলেন, আল্লাহু আকবার, লোকেরা সত্য সাক্ষ্যই দিয়েছে। তারপর তিনি বললেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কা’বা শরীফ উনার রব মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! নিশ্চয়ই আমি একজন শহীদ ব্যক্তি। সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ, নাসায়ী শরীফ ও দারু কুতনী)

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে