আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মুসলিমীন ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছিলেন এক বেমেছাল উজ্জ্বল তারকা


সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমার হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা প্রত্যেকেই হলেন আকাশের তারকা সদৃশ। উনাদের যে কাউকে যেকোনো বিষয়ে যেকোনো ব্যক্তি অনুসরণ করবে সেই হিদায়েত প্রাপ্ত হয়ে যাবে।” সুবহানাল্লাহ!
উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার হাক্বীক্বী মিছাদক্ব হচ্ছেন- আসাদুল্লাহিল গালিব, শেরে খোদা ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের প্রতি সন্তুষ্ট। আর উনারাও মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি অর্জন করতে পেরেছেন। সুবহানাল্লাহ!
শুধু তাই নয়, এমনকি মহান আল্লাহ পাক তিনি অন্যত্র ইরশাদ মুবারক করেন, “যারা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে উত্তমভাবে অনুসরণ করবে, তাদের প্রতিও মহান আল্লাহ পাক তিনি সন্তুষ্ট এবং তাঁরাও মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারবেন।” সুবহানাল্লাহ! উপরোক্ত পবিত্র আয়াতে কারীমা উনার হাক্বীক্বী মিছদাক্ব হচ্ছেন- আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
সূক্ষ্মভাবে ফিকির করলে উনার মর্যাদা-মর্তবা মুবারক উনার অনেকগুলো স্তর বেরিয়ে আসে। যেমন প্রথমত, তিনি হলেন হযরত ছাহাবী। দ্বিতীয়ত, বালকদের মধ্যে তিনি প্রথম পবিত্র দ্বীন ইসলাম কবুল করেন। তৃতীয়ত, তিনি হচ্ছেন কুল-কায়িনাতের সৃষ্টির উসীলা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জামাতা বা দামাদ। চতুর্থত, তিনি হচ্ছেন সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আলামীন, উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার যাওজ। পঞ্চমত, তিনি হচ্ছেন সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ হযরত ইমামুছ ছানী আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনাদের সম্মানিত পিতা। ষষ্ঠত, তিনি হচ্ছেন পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার চতুর্থ খলীফা। সপ্তমত, উনার মুবারক ইমামতিতেই খায়বার দুর্গ বিজয় হয়েছিলো। সুবহানাল্লাহ!
এমনিভাবে ফিকির করলে উনার লক্ষ-কোটি মর্যাদা-মর্তবা মুবারক উনার দ্বার খুলে আসবে। বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ উনাদের মধ্যে বর্ণিত আছে, হযরত সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, একদা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে লক্ষ্য করে বলেন, হযরত মুসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার নিকট হযরত হারুন আলাইহিস সালাম উনার যে মর্যাদা ছিলো আপনিও আমার নিকট সেই পর্যায়ে রয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! তবে পার্থক্য হলো এই যে, আমার পরে কোনো হযরত নবী-রসূল আলাইহিস সালাম উনারা আসবেন না।
হযরত সাহল ইবনে সা’দ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র খায়বর জিহাদের সময় বললেন, আগামীকাল আমি এই ঝা-া এমন এক মহান ব্যক্তিত্ব উনার হাতে প্রদান করবো, যাঁর হাতে মহান আল্লাহ পাক তিনি খায়বার দুর্গ জয় করাবেন। যিনি মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে মুহব্বত করেন এবং মহান আল্লাহ পাক তিনিও উনাকে ও উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও উনাকে মুহব্বত করেন। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর ভোর হওয়ার সাথে সাথে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমতে এসে উপস্থিত হলেন। উনারা প্রত্যেকেই মনে মনে এই আশা পোষণ করছেন যে, ঝা-া হযরত ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকেই প্রদান করা হবে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত আলী ইবনে আবি ত্বালিব আলাইহিস সালাম তিনি কোথায়? হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! উনার চোখ মুবারক-এ অসুস্থতা দেখা দিয়েছে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, উনাকে ডেকে আনার জন্য কাউকে পাঠানো হোক। অতঃপর মুবারক নির্দেশ মুতাবিক সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহ ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে ডেকে আনা হলো। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার চোখ মুবারক-এ নূরুল বারাকাত মুবারক লাগিয়ে দিলেন। এতে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেলেন, যেন উনার চোখ মুবারক-এ কোনোরূপ রোগই ছিলো না। অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র জিহাদের ঝা-া ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাত মুবারকেই দিলেন। সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ)
হযরত যায়িদ ইবনে আরকাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, “আমি যাঁর অভিভাবক ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও তার অভিভাবক।” (তিরমিযী শরীফ)
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হিজরত করে পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মধ্যে তাশরীফ নেয়ার পর মুহাজির ও আনছার হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করেন। এই সময় হযরত ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অশ্রু সিক্ত নয়নে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহু ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি আপনার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের পরস্পরের মাঝে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন স্থাপন করে দিলেন। কিন্তু আমাকে কারো সাথে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করলেন না। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে বললেন, দুনিয়া-আখিরাতে উভয় স্থানে আপনি আমার ভাই। সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ)
হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, একদা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মুখে খাওয়ার জন্য একটি ভুনা পাখি রাখা ছিলো। যা জনৈক আনছারী মহিলা ছাহাবীয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি হাদিয়া করেছিলেন। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দোয়া করলেন, ইয়া আল্লাহ পাক! আপনি মাখলুকাতের মধ্যে আপনার নিকট যিনি সবচেয়ে প্রিয় উনাকে আপনি পাঠিয়ে দিন। যেন তিনি আমার সাথে এই পাখিটি খেতে পারেন। এর পরপরই হযরত ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আসলেন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সেই পাখিটির গোশত মুবারক খেলেন। সুবহানাল্লাহ!
উম্মুল মু’মিনীন আস সাদিসাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মে সালামা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হযরত ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কোনো মুনাফিক ব্যক্তি মুহব্বত করে না। আর কোনো মু’মিন ব্যক্তি সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজজাহূ আলাইহিস সালাম উনার প্রতি হিংসা রাখে না। সুবহানাল্লাহ! (আহমদ ও তিরমিযী শরীফ)
উম্মুল মু’মিনীন আস সাদিসাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মে সালামা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি হযরত ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গালি দিলো, সে যেন আমাকেই গালি দিলো।” নাঊযুবিল্লাহ! (আহমদ শরীফ)
উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা এটাই প্রতীয়মান হয় যে, আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, আসাদুল্লাহিল গালিব, শেরে খোদা, ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মাঝে বেমেছাল এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে উনার শান, মান, ফাযায়িল-ফযীলত জেনে উনাকে হাক্বীক্বীভাবে মুহব্বত করে উনার ইত্তিবা করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন।

Views All Time
1
Views Today
3
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে