আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সংক্ষিপ্ত পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক


নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার মুহব্বত ঈমান এবং উনার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা কুফরী।”
সঙ্গতকারণেই উনার শান মুবারক সম্পর্কে অবগত হওয়া সকলের জন্য ফরয। নিম্নে উনার সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহে উমরী মুবারক আলোচনা করা হলো।

মুবারক নসব নামা:
আমিরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে নসবগতভাবে সম্পৃক্ত। উনার পিতা খত্তাব ইবনে নুফাইল ইবনে আব্দুল উজ্জা ইবনে রিয়াহ আব্দুল্লাহ ইবনে কুরত ইবনে রজ্জাহ ইবনে আদী ইবনে কা’ব আলাইহিমুস সালাম। এ অনুযায়ী উনার নবম পুরুষ হাবীবী নসব মুবারক উনার সাথে মিশে গেছে। উনার মাতা হানতামা বিনতে হিশাম বা হাশিম ইবনে মুগীরা ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর ইবনে মাখযুম ইবনে ইয়াক্বযাহ ইবনে মুররা আলাইহিমুস সালাম। এ অনুযায়ী উনার অষ্টম পুরুষ হাবীবী নসব মুবারক উনার সাথে মিশে গেছে।

পবিত্র বিলাদত শরীফ:
সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ও প্রণিধানযোগ্য মতে, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তাশরীফ মুবারক গ্রহণের পৌনে ১৩ বছর পর শামসী পূর্ব ৫০ সনে এবং হিজরী পূর্ব ৪০ কুরাইশ বংশের আদী গোত্রে পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। (তারীখুল খুলাফা)

নাম মুবারক:
সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার মূল নাম হযরত ‘উমর’ আলাইহিস সালাম। উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত হাফসা আলাইহাস সালাম উনার নাম মুবারক অনুযায়ী তিনি আবু হাফস মুবারক কুনিয়াতে অভিহিত। সর্বপোরি তিনি “ফারূক্বে আ’যম” লক্বব মুবারকে বিশ্বব্যাপী খ্যাত। তাছাড়া আশাদ্দু ফি আমরিল্লাহ ও আশিদ্দাউ আলাল কুফফার প্রভৃতি লক্বব মুবারকে তিনি সমধিক পরিচিত।

হুলিয়া মুবারক:
কিতাবে উল্লেখ করা হয়, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি সাধারণ মানুষদের তুলনায় এক হাত বেশি লম্বা ছিলেন। তিনি সুঠাম দেহের অধিকারী ছিলেন। তিনি দুই হাত দ্বারা সমানভাবেই কাজ করতে পারতেন। সঙ্গতকারণেই তিনি পালোয়ানদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে কুরাইশদের গর্বের পাত্র হিসেবে গ্রহণীয় হন।

ইসলামপূর্ব জীবন:
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “জাহিলিয়াতের সময় যে সমস্ত ব্যক্তিত্ব উত্তম ছিলেন, উনারা ইসলামী যুগেও উত্তম ও শ্রেষ্ঠ।”
সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার পরিপূর্ণ মিছদাক্ব। জাহিলিয়াতের কোনো কুসংস্কার উনার চরিত্র মুবারকে আঘাত হানতে পারেনি।
সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি শৈশবকালে আনুষ্ঠানিকভাবে আক্ষরিক জ্ঞান অর্জন করেন। আরবের শিক্ষিত লোকদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। তাছাড়া বাল্য বয়সেই তিনি যুদ্ধবিদ্যা রপ্ত করেন। পরিণত বয়সে তিনি ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ব্যবসাকে কর্ম হিসেবে তিনি গ্রহণ করেন। কয়েকবার ব্যবসায়ীদের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি সিরিয়া সফর করেন। এছাড়া ধাবমান ঘোড়ায় চড়া আর কুস্তি প্রতিযোগিতা ছিল উনার জন্য নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার।

আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম প্রকাশ:
আনুষ্ঠানিক নবুওয়ত প্রকাশের পঞ্চম বছর। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোনো এক রাত্রে দোয়া মুবারক করলেন-
اللهم اعز الاسلام باحب هذين الرجلين اليك بعمربن الخطاب عليه السلام اوبابى جهل بن هشام.
আয় মহান আল্লাহ পাক! সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম ও আবু জেহেল এই দু’জনের মধ্যে আপনি যাকে মুহব্বত করেন, উনার মাধ্যমে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার খিদমত গ্রহণ করুন। (তিরমিযী শরীফ)
অতঃপর সকালে দোয়া মুবারক করলেন,
اللهم اعز الاسلام بعمر بن الخطاب عليه السلام خاصة.
আয় মাহন আল্লাহ পাক! সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার খিদমতে বিশেষভাবে মনোনীত করেন। (তিরমিযী শরীফ)
আর এই মুবারক দোয়ার বদৌলতে সেই দিন দ্বিপ্রহরের পূর্বেই বিভিন্ন ঘটনার অবসান ঘটিয়ে ৩২ বছর মুবারক বয়সে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। তিনি হলেন চল্লিশতম মুসলমান।
সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করা সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رض الله عنهما قَالَ : لَمَّا أَسْلَمَ عُمَرُ عليه السلام ، نَزَلَ حضرت جِبْرِيلُ عليه السلام , فَقَالَ : يَا مُحَمَّدُ صلى الله عليه و سلم ، لَقَدِ اسْتَبْشَرَ أَهْلُ السَّمَاءِ بِإِسْلاَمِ عُمَرَ عليه السلام.
হযরত ইবনে আব্বাস রদি¦য়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন, তখন হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি এসে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনাকে গ্রহণের কারণে আসমানবাসী খুশি প্রকাশ করছেন। (ইবনে মাযাহ শরীফ)

খোদায়ী ঘোষণা মুবারক:
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عن حضرت ابن عباس رضي الله عنهما قال : لما أسلم عمر عليه السلام قال المشركون : قد انتصف القوم اليوم منا و أنزل الله ) يا أيها النبي حسبك الله ومن اتبعك من المؤمنين (
অর্থ: “হযরত ইবনু আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করলেন, তখন মুশরিকরা বললো যে, আজ অর্ধেক কওম আমাদের মধ্য থেকে চলে গেলো। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল করলেন যে, “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার জন্য এবং যে সকল মু’মিন আপনার অনুসরণ মুবারক করেন উনাদের জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনিই যথেষ্ট।” (মুসনাদুল বাযযার)
সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণের দরুন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সমস্বরে তাকবীর বলেন।

প্রকাশ্যে পবিত্র নামায আদায় এবং প্রতিশোধ গ্রহণ:
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنِ حضرت عَبْد اللَّه رضى الله تعالى عنه قال “إِنَّ إِسْلامَ عُمَرَ عليه السلام كَانَ فَتْحًا، وَإِنَّ هِجْرَتَهُ كَانَتْ نَصْرًا، وَإِنَ إِمَارَتَهُ كَانَتْ رَحْمَةً، وَاللَّهِ مَا اسْتَطَعْنَا أَنْ نُصَلِّيَ عِنْدَ الْكَعْبَةِ ظَاهِرِينَ حَتَّى أَسْلَمَ عُمَرُ عليه السلام”.
অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণ ছিল বিজয়স্বরূপ। উনার হিজরত মুবারক সাহায্যস্বরূপ। উনার নেতৃত্ব মুবারক রহমতস্বরূপ। মহান আল্লাহ পাক উনার শপথ! সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণের পূর্বে (কাফিরদের বাঁধার কারণে) আমরা প্রকাশ্যে পবিত্র কা’বা শরীফ উনার মধ্যে নামায আদায় করতে পারিনি। (ইবনু সা’দ)
অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عن حضرت صهيب قال رضى الله تعالى عنه : لما أسلم عمر عليه السلام أظهر الإسلام و دعا إليه علانية و جلسنا حول البيت حلقا و طفنا بالبيت و انتصفنا ممن غلظ علينا و رددنا عليه بعض ما يأتي به
অর্থ: হযরত ছুহাইব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাকে গ্রহণ করলেন, তখন পবিত্র দ্বীন ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ পেল এবং প্রকাশ্যে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দিকে দাওয়াত দেয়া হলো। আমরা পবিত্র বাইতুল্লাহ শরীফ উনার পাশে গোল হয়ে বসতাম এবং পবিত্র বাইতুল্লাহ শরীফ উনার তাওয়াফ করতাম। আমরা মাঝখানে চলে আসলাম। সুতরাং যে কেউ আমাদের সাথে রুক্ষ আচরণ করতো আমরা তার ঐ আচরণের কিছু দ্বারা উহা ফিরিয়ে দিতাম (অর্থাৎ আমরাও প্রতিশোধ গ্রহণ করতাম)। (তারীখুল খুলাফা)

সম্মানিত ইসলাম উনার জন্য ত্যাগ:
পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার প্রাথমিক অবস্থায় মুসলমান উনাদেরকে অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার জন্য বেহিসাব ত্যাগ স্বীকার করেছেন। পরিবারের নির্যাতন, গোত্রের নিন্দা আর মাল-সম্পদের ক্ষতিসাধন ছিল সে সময়ে নিত্য-নৈমিত্তিক বিষয়। তিনি শিআবে আবু তালিবে অবস্থান করেছিলেন।

পবিত্র হিজরত মুবারক:
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হিজরত মুবারক করার কিছুদিন পূর্বে মুবারক ইযাযতক্রমে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি ঘোষণা দিয়ে মদীনা শরীফে হিজরত করেন। উনার ঘোষণা সত্ত্বেও উনার রোবের দরুন কুরাইশরা উনার পিছু নেয়ার সাহস পায়নি। তিনি নির্বিঘেœ বীরদর্পে মদীনা শরীফে তাশরীফ মুবারক রাখেন।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عن حضرت علي عليه السلام قال : ما علمت أحدا هاجر إلا مختفيا إلا عمر بن الخطاب عليه السلام فإنه لما هم بالهجرة تقلد سيفه و تنكب قوسه و انتضى في يده أسهما و أتى الكعبة و أشراف قريش بفنائها فطاف سبعا ثم صلى ركعتين عند المقام ثم أتى حلقهم واحدة واحدة فقال : شاهت الوجوه من أراد أن تثكله أمه و ييتم و لده و ترمل زوجته فليلقني وراء هذا الوادي فما تبعه منهم أحد
অর্থ: সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি ব্যতীত সকলেই গোপনে হিজরত করেছেন। তিনি যখন হিজরতের ইচ্ছা মুবারক করলেন, তখন তিনি তরবারী, তীর-ধনুক এবং বর্ষা নিয়ে যুদ্ধ সাজে সজ্জিত হলেন। তারপর পবিত্র কা’বা শরীফ উনার নিকট উপস্থিত হলেন। সেখানে কুরাইশ নেতৃস্থানীয়রা উপস্থিত ছিলো। তিনি প্রথমেই পবিত্র কা’বা শরীফ উনাকে সাতবার তাওয়াফ করলেন। তারপর মাক্বামে ইবরাহীম আলাইহিস সালামে দু’রাকায়াত নামায আদায় করলেন। অতঃপর কুরাইশ নেতা প্রত্যেককে সম্বোধন করে বললেন, আমি হিজরতের ইচ্ছা পোষণ করেছি। তাই যে ব্যক্তি তার মাকে সন্তানহারা, সন্তানকে ইয়াতীম এবং স্ত্রীকে বিধবা করতে চায়। সে যেন এই উপত্যকার পিছনে আমার সাথে দেখা করে। (অতঃপর তিনি হিজরতের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন) কুরাইশের কেউই উনাকে অনুসরণ করা বা বাধা দেয়ার সাহস পায়নি। (ইবনু আসাকির)

পবিত্র হুজরা শরীফ উনার খিদমত মুবারক:
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হুজরা শরীফ উনার আভ্যন্তরীণ খিদমতের আঞ্জাম দেয়ার লক্ষ্যে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম সদা সচেষ্ট ছিলেন। আর তারই ধারাবাহিকতার তৃতীয় হিজরীতে তিনি উনার আওলাদ উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত হাফসা আলাইহাস সালাম উনাকে মুবারক খিদমতে নিসবতে আযীম মুবারক দেন। যা উনার অনন্য ব্যক্তিত্বের বহিঃপ্রকাশ।

পবিত্র জিহাদে অংশ গ্রহণ:
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
وأنا مدينة الشجاعة وعمر عليه السلام بابها
অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমি বীরত্বের শহর হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি উহার দরজা মুবারক। (নুজহাতুল মাজালিছ)
সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি প্রতিটি জিহাদেই শরীক হয়েছেন। পবিত্র মদীনা শরীফ হতে বের হয়ে কুরাইশদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়ার স্বপক্ষে বদরী ছাহাবী উনাদের মধ্যে তিনি সর্ব অগ্রগামী। তাছাড়া পবিত্র বদর জিহাদে বেশি কাফিরকে হত্যাকারী উনাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। উহুদ যুদ্ধের অস্বাভাবিক সময়ে বীরত্ব প্রকাশকারী উনাদের মধ্যে তিনি ছিলেন উল্লেখযোগ্য।
সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বদর-উহুদ যুদ্ধের ন্যায় খন্দক, বাইয়াতে রিদ্বওয়ান, খাইবার, পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়, হুনাইনসহ প্রতিটি অভিযানে যে বীরত্ব প্রকাশ করেছেন, তা আজো ইতিহাসে সোনালী অক্ষরে লিপিবদ্ধ রয়েছে। এমনকি তাবুক জিহাদের জন্য তিনি উনার সমস্ত সম্পদের অর্ধেক ব্যয় করেন। যা উনার ফানা-বাক্বার সুমহান নজির।

মুবারক বিদায়ের কঠিন সময়ে:
পবিত্র বিদায় হজ্জ হতে ফিরে এসে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মারীদ্বী শান মুবারক যাহির করেন। আর এভাবে পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ পর্যন্ত চলতে থাকে। এই পুরো সময়ে তিনি বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ উনার খুশিতে তিনি বেহিসাব ব্যয় করেন। যা বলার অপেক্ষাই রাখে না।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার কারণে মুসলমানগণ যে শোকাহত হন তাতে যে অবস্থা সৃষ্টি হয়, সে অবস্থার নিয়ন্ত্রণে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার ভূমিকা ছিল অপরিসীম। তাছাড়া মুবারক কাফন, মুবারক রওযা শরীফ স্থাপন প্রতিটি ক্ষেত্রেই উনার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল।

সম্মানিত প্রথম খলীফা উনার সময়ে:
বলার অপেক্ষা রাখে না যে, সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার মুবারক খিলাফতের ব্যাপারে ইজমা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার ভূমিকা ছিলো মুখ্য। প্রথম খলীফা উনার সময়কালে তিনি প্রধান কাতিব এবং প্রধান পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব মুবারক পালন করেন। উনারই মুবারক পরামর্শে মুরতাদ, ভ- নবী এবং যাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এছাড়া পবিত্র কুরআন শরীফ সংকলন ও সংরক্ষণের বিষয়টি উনার মুবারক পরামর্শেরই ফলাফল। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত খলীফা হিসাবে মুবারক দায়িত্ব গ্রহণ:
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عن ام المؤمنين حضرت عائشة عليها السلام قالت دخل ناس على ابى فقالوا يسعك تولى علينا عمر عليه السلام وانت ذاهب الى ربك فماذا تقول فقال اجلسونى اجلسونى اقول وليت عليهم خيرهم.
অর্থ: উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা উনার নিকট লোকেরা এসে বললো, আপনি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে আপনার স্থলাভিষিক্ত করেছেন। আপনি মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হলে কি জবাব দিবেন? তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, তোমরা আমাকে বসাও। আমি তখন মহান আল্লাহ পাক উনাকে বলবো, আমি উম্মাহর জন্য তাদের সর্বত্তোম ব্যক্তি উনাকে খিলাফত মুবারক দিয়ে এসেছি। (তারীখু দিমাশক্ব)
সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি ১৩ হিজরী সনের ২২শে জুমাদাল উখরা শরীফে ইয়াওমুছ ছুলাছা পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক গ্রহণের পূর্বে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে খলীফা হিসেবে ঘোষণা করেন। যা তিনি স্বয়ং নিজেই সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম কর্তৃক ওয়াসীয়তনামা হিসেবে লিপিবদ্ধ করিয়ে যান। বলা হয় যে, সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার খিলাফতকালের সর্বোত্তম কাজ হলো সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে খলীফা হিসেবে ঘোষণা করা। আর এভাবেই সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি ১৩ হিজরী সনের ২২শে জুমাদাল উখরা শরীফে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত খিলাফতের দায়িত্ব মুবারক গ্রহণ করে প্রথম খুতবা মুবারক প্রদান করেন।
মুবারক খিলাফত পরিচালনা:
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
خَطَبَ حضرت عَبْدُ اللهِ بْنُ مَسْعُودٍ رضى الله تعالى عنه فَقَالَ : إِنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ عليه السلام كَانَتْ خِلافَتُهُ فَتْحًا ، وَإِمَارَتُهُ رَحْمَةً
অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি খুতবা মুবারক দিচ্ছিলেন। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার খিলাফত মুবারক বিজয়স্বরূপ। উনার ইমামত মুবারক রহমতস্বরূপ। (মুসনাদে আহমদ)
সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি সুদীর্ঘ ১০ বছর ৬ মাসেরও অধিককাল যাবৎ মুবারক খিলাফত পরিচালনা করেন। এই সুদীর্ঘ সময়ে বাইতুল মাল, সেনাবাহিনী, মজলিসে শুরা, ডাক বিভাগ, বিচার বিভাগ, ফতওযা বিভাগ, জরিপ বিভাগ, কৃষি বিভাগ, সেচ বিভাগ, শিক্ষা বিভাগ প্রভৃতি প্রতিষ্ঠা করেন। এ সময়ে নতুন শহর আবাদ, রাস্তা-ঘাট নির্মাণ, খাল খনন, বৃক্ষ রোপনসহ জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পাদন করেন। যা দ্বারা অদ্যাবধি মানুষ ফায়দা লাভ করছে। তন্মধ্যে নীলনদের পানি প্রবাহিত হওয়ার বিষয়টি অন্যতম।

সম্মানিত ইসলামী পতাকার সম্প্রসারণ:
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عن حضرت حذيفة رضى الله تعالى عنه قال : كان الإسلام في زمان عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ عليه السلام كالرجل المقبل لا يزداد إلا قربا
অর্থ: “হযরত হুযায়ফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার খিলাফতকালে পবিত্র দ্বীন ইসলাম ঐ অগ্রগামী ব্যক্তির ন্যায় ছিল, যে কেবল নৈকট্য বৃদ্ধি করে। অর্থাৎ সে সময়ে পবিত্র দ্বীন ইসলাম অত্যন্ত দ্রুত গতিতে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। (ইবনু সা’দ)
অনুসরণীয় সকল ঐতিহাসিকগণের ঐকমত্যে, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সময়কালে ইসলাম সর্বাধিক প্রসারিত হয়েছে। কতেক ঐতিহাসিকের মতে, উনার খিলাফতকালে ১০৩৬টি রাজ্যে ইসলামী খিলাফত বিস্তৃতি লাভ করে। যা প্রায় ২২ লক্ষ্য বর্গমাইল। ১৪ হিজরী সনে তিনি দামেশক, হিমস, বসরা এবং এগুলোর আশপাশের এলাকাসমূহ বিজয় করেন। ১৫ হিজরী সনে ইয়ারমুক ও কাদেসিয়ার যুদ্ধের মাধ্যমে রোম ও পারস্য সাম্রাজ্যের ধ্বংস সাধন করেন। ১৬ হিজরী সনে আইওয়াজ, মাদায়েন, ইরাক পদানত হয়। এ বছরেই জালুলার যুদ্ধের মাধ্যমে রোম সম্রাট ইয়াজদিগিরদকে হত্যা করা হয়। আর এভাবে বিজয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে অন্যান্য বছরগুলোতেও অনেক রাজ্য পদানত করা হয়। তন্মধ্যে খোরাসান, সিজিস্তান, তসতর, হামদান, তাহারিস্তান, ফারগানা, বলখ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। উনার মুবারক খিলাফতকালে রোম-পারস্য তথা অগ্নিপূজক ও নাছারাদের মূলোৎপাটন করা হয়। এর পরে মজুসীরা অদ্যাবধি স্বকীয় কোনো রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি।
মুসলমান উনাদের প্রথম ক্বিবলা বাইতুল মুক্বাদ্দাস শরীফ উদ্ধার সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার বিজয় অভিযানসমূহে অন্যতম। ঐতিহাসিক বহু ঘটনার অবতারণা করে তিনি স্বয়ং স্বশরীর মুবারকে মদীনা শরীফ হতে বাইতুল মুক্বাদ্দাস শরীফ গিয়ে মসজিদে আক্বসা শরীফ উনার চাবি মুবারক ইহুদীদের কাছ থেকে গ্রহণ করেন। যা অদ্যাবধি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত।

বিশেষ বিশেষ কার্যক্রম:
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عن حضرت عرزب الكندي رضى الله تعالى عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال إنه سيحدث بعدي أشياء ، فأحبها إلي أن تلزموا ما أحدث عمر عليه السلام
অর্থ: “হযরত আরযাব আল কিন্দি রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার সম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর অনেক নতুন বিষয় আসবে। আর সেই নতুন বিষয়সমূহের মধ্যে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি যা নতুনভাবে করবেন, সেগুলো অতি উত্তম। তোমরা উনার সে বিষয়গুলোকে নিজেদের উপর আবশ্যক করে নিবে। (কানযুল উম্মাল)
অর্থাৎ সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার প্রতিটি বিষয়ই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পূর্ব হতেই সত্যায়ন করে দিয়েছেন। আর সত্যি অনেক নতুন নতুন বিষয় সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার মুবারক উসীলায় প্রচলিত হয়েছে।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حضرت عَامِرٍ رضى الله تعالى عنه قَالَ : أَوَّلُ مَنْ جَعَلَ الْعُشُورَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ عليه السلام
অর্থ: “হযরত আমির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, পবিত্র দ্বীন ইসলামে প্রথম ব্যাপকভাবে উশর চালু করেন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি। (মুছান্নাফে আবী শাইবা)
সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বিশ্বের ইতিহাসে সর্বপ্রথম আদমশুমারী করেন। তিনিই সর্বপ্রথম ইসলামী মুদ্রার প্রচলন করেন। উনার মুবারক তত্ত্বাবধানে হিজরী সাল ও তারাবীহর জামাতের প্রচলন হয়। তাছাড়া ইসলামী হুকুমত সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক ইযাযতক্রমে মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামাতে নামায পড়ার রীতি বিলুপ্ত করেন। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عن حضرت إسماعيل بن زياد رضى الله تعالى عنه قال : مر علي بن أبي طالب عليه السلام على المساجد في رمضان و فيها القناديل فقال : نور الله على عمر عليه السلام في قبره كما نور علينا في مساجدنا
অর্থ: “হযরত ইসমাইল ইবনে যিয়াদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসে মসজিদসমূহ পরিদর্শনে বের হলেন এবং মসজিদসমূহে (তারাবীহর জামায়াত চলার কারণে) বাতি জ্বালানো দেখতে পেলেন। তখন তিনি বললেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার রওযা শরীফ উনাকে আলোকিত করুন, যেভাবে তিনি আমাদের মসজিদসমূহকে আলোকিত করেছেন। (ইবনু আসাকির)
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার যথাযথ অনুশীলনের লক্ষ্যে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি শরাব পানের হদ পূর্ণাঙ্গরূপে বাস্তবায়িত করেন। তিনি মুতা বিবাহের নিষেধাজ্ঞাও বাস্তবায়ন করেন। উনার মুবারক খিলাফতকালে চার তাকবীরের সহিত জানাযা নামাযের বিধানের ব্যাপারে ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়। ফারায়িয তথা সম্পদ বণ্টন সম্পর্কিত বিধানে তিনি পূর্ণাঙ্গতা প্রকাশ করেন। (আসকারী)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عن حضرت جابر رضى الله تعالى عنه عن عمر بن الخطاب عليه السلام أن رسول الله صلى الله عليه و سلم قال لئن عشت إن شاء الله لأخرجن اليهود والنصارى من جزيرة العرب
অর্থ: “হযরত যাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যমীনবাসী হতে আমার পর্দা করার বিষয়টি যদি বিলম্বিত হতো, তাহলে আমি এই জাযিরাতুল আরব তথা আরব উপদ্বীপ হতে ইহুদী-নাছারাদেরকে বহিষ্কার করতাম। (বুখারী শরীফ)
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সেই ইচ্ছা মুবারক বাস্তবায়নে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন বদ্ধপরিকর। সে অনুযায়ী তিনি ইহুদীদেরকে হিজায হতে সিরিয়ায় নির্বাসিত করেন। আর নাছারাদেরকে নির্বাসিত করেন কুফায়।
অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عن حضرت ابن سيرين رضى الله تعالى عنه قال اول من حصب المساجد عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ عليه السلام كان المسجد سبخة
অর্থ: “হযরত ইবনে সিরীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মসজিদসমূহে সর্বপ্রথম পাথর বিছিয়েছেন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি। আগে পানিমগ্ন ভূমির ন্যায় ছিল। (মুসনাদে আহমদ)
মুসলমান উনাদের আধিক্যের ফলে পবিত্র মদীনা শরীফে জন সমাগম অত্যধিক বৃদ্ধি পায়। সঙ্গতকারণেই সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি মসজিদে নববী শরীফ উনার জন্য নতুন জমি ক্রয় করতঃ উনার পরিধি বৃদ্ধি করেন। (ইবনু সা’দ)
তাছাড়া নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক ইচ্ছা অনুযায়ী হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি মাক্বামে হযরত ইবরাহীম শরীফ স্থানান্তরিত করেন।

পবিত্র আহলু বাইতি নূর মুবারক গ্রহণ:
বলার অপেক্ষা রাখে না যে, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি হযরত আহলু বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সাথে বিশেষ তাওয়াল্লুক-নিসবত স্থাপনের জন্য দায়িমীভাবে তৎপর ছিলেন। আর এজন্যই সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা, ত্বাহিরা, ত্বইয়িবা, সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত আন নূরুর রবি’য়াহ যাহরা আলাইহাস সালাম উনার লখতে যিগার সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সিবতু রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত উম্মু কুলছুম আলাইহাস সালাম উনার সাথে নিসবতে আযীম মুবারক সম্পন্ন করেন। সম্মানিত হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
قال حضرت ابو جعفرمحمد بن على رحمة الله عليه ان على بن ابى طالب عليه السلام زوج ابنته حضرت ام كلثوم عليها السلام بنت حضرت فاطمة عليها السلام من حضرت عمر بن الخطاب عليه السلام
অর্থ: হযরত আবু জা’ফর মুহম্মদ ইবনে আলী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার কন্যা সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত উম্মু কুলছুম আলাইহাস সালাম উনাকে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নিসবতে আযীম মুবারক স্থাপন করেছেন। (দারু কুতনী)
অপরদিকে হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে গোলাম তথা চরম পর্যায়ের নৈকট্যপ্রাপ্ত হিসেবে ঘোষণা মুবারক দিয়ে উনাকে লিখিত সনদ মুবারক প্রদান করেছেন। সুদীর্ঘ এ ঘটনাখানা মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ গবেষণা কেন্দ্র হতে প্রকাশিত ‘কারবালার হৃদয় বিদারক ইতিহাস’ নামক কিতাব মুবারকে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

মুবারক শাহাদাত:
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حضرت زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ عَنْ عُمَرَ عليه السلام قَالَ اللَّهُمَّ ارْزُقْنِي شَهَادَةً فِي سَبِيلِكَ وَاجْعَلْ مَوْتِي فِي بَلَدِ رَسُولِكَ صلى الله عليه وسلم.
অর্থ: “হযরত যায়েদ ইবনে আসলাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হতে বর্ণিত। তিনি উনার পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি দোয়া মুবারক করেন,আয় বারে ইলাহী! আমাকে আপনার রাস্তায় শাহাদাত নসীব করুন। এবং আপনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পূত-পবিত্র শহর মুবারকে আমাকে বিছাল শরীফ প্রদান করুন। (বুখারী শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
البس جديدا و عش حميدا و مت شهيدا
অর্থ: নূরে মুজাসসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে লক্ষ্য করে বলেন, আপনি নতুন পোশাক পরিধান করুন, প্রশংসিত অবস্থায় যমীনে অবস্থান করুন এবং শহীদ অবস্থায় বিছাল শরীফ গ্রহণ করুন। (নাসায়ী শরীফ)
মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার দুআ ও ইচ্ছা মুবারক ক্ববুল করেছেন। বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত মুগীরা ইবনে শু’বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার চুক্তিবদ্ধ দাস আবু লুলু। সে ছিল মজুসী মুশরিক। জাযিরাতুল আরব হতে যদিও মুশরিকদেরকে বের করে দেয়া হয়েছিল। তথাপি তরবারী বানানোর জন্য যাদেরকে পবিত্র মদীনা শরীফে থাকার অনুমতি প্রদান করা হয়, তাদের মধ্যে আবু লুলু একজন। খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নিকট বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত মুগীরা ইবনে শু’বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সম্পর্কে আবু লুলু নালিশ দেয়। সে বলে, খলীফাতুল মুসলিমীন! আমার মালিক আমার উপর অবিচার করছেন। তিনি দৈনিক দুই দিরহাম আমার খারায নির্ধারণ করেছেন। খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, হযরত মুগীরা ইবনে শু’বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বিশিষ্ট ছাহাবী। তিনি তো ইনসাফের খিলাফ কাজ করতে পারেন না। অতঃপর তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি কাজ করো? সে বললো, আমি কামারের কাজ করি। তিনি বললেন, তুমি দৈনিক অনেক আয় করো। সে হিসেবে তোমার জন্য নির্ধারিত খারায যথাযথ হয়েছে। অর্থাৎ হযরত মুগীরা ইবনে শু’বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার কর্তৃক তোমার জন্য নির্ধারিত খারায ইনসাফপূর্ণই হয়েছে। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার এই মুবারক ফায়ছালা মজুসী লুলুর মনঃপুত হয়নি। সে বললো, ঠিক আছে আমি দেখবো। তাই সে প্রতিশোধ গ্রহণের লক্ষ্যে মুনাফিক ইবনে সাবা গোষ্ঠীর প্ররোচনায় বিষ মিশ্রিত দুই দিকে ধার বিশিষ্ট ছুরি নিয়ে ফজরের নামাযের সময় মসজিদে নববী শরীফে লুকিয়ে রইলো। সে ছুরি দ্বারা উনাকে নামাযরত অবস্থায় আঘাত করে। ছুরির আঘাতে উনার পাকস্থলি পর্যন্ত কেটে যায়। উনাকে বিছানা মুবারকে শুইয়ে দেয়া হলো। উনাকে দুধ-মধু যেটাই খাওয়ানো হলো, সেটাই বেরিয়ে আসলো। যার কারণে ২৩ হিজরী সনের ২৭শে যিলহজ্জ শরীফ ইয়াওমুস সাবত তিনি সম্মানিত শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। মুশরিকরা যে মহান আল্লাহ পাক কর্তৃক ঘোষিত সবচেয়ে বড় শত্রু, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার শাহাদাত মুবারক তার সুস্পষ্ট উদাহরণ।
আবু লুলুকে গ্রেফতারের চেষ্টা করা হলে সে আত্মহত্যা করে। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি যখন শুনতে পেলেন যে, একজন মজুসী মুশরিক উনাকে আঘাত করেছে তখন তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার শুকরিয়া আদায় করেছেন। কেননা কোনো মুসলমান উনাকে আঘাত করেনি।
সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার ওসীয়ত মুবারক অনুযায়ী উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক ইযাযতক্রমে হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার কাঁধ মুবারক বরাবর উনার রওযা শরীফ স্থাপন করা হয়।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
يموت حضرت عيسى بن مريم عليه السلام بمدينتى فيدفن الى جانب قبرحضرت عمر عليه السلام فطوبى لابى بكر و عمر عليهما السلام فانهما يحشران بين نبيين.
অর্থ: হযরত ঈসা রুহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি আমার পবিত্র মদীনা শরীফে পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করবেন। উনাকে হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার পাশে দাফন মুবারক করা হবে। সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাদের জন্য সুসংবাদ। দু’জন নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের মাঝে উনাদের রওযা শরীফ স্থাপিত হবে। (নুযহাতুল মাজালিস)
মূলত, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার আলোচনা মুবারক সীমাহীন। যার শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عن حضرت عمار بن ياسر رضى الله تعالى عنه قال قال النبى صلى الله عليه وسلم با عمار رضى الله تعالى عنه اتانى حضرت جبريل عليه السلام انفا فقلت يا حضرت جبريل عليه السلام حدثنى بفضائل حضرت عمر عليه السلام فى السماء فقال يا محمد صلى الله عليه وسلم لو حدثتك بفضائل حضرت عمر عليه السلام فى السماء ما لبث حضرت نوح عليه السلام فى قومه الف سنة الا خمسين عاما ما نفدت فضائل حضرت عمر عليه السلام.
অর্থ: হযরত আম্মার ইবনু ইয়াসার রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হে আম্মার রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! এইমাত্র হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি আসলেন। আমি বললাম, হে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম! আসমানে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার ফযীলত সম্পর্কে আমাকে বলুন। তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আসমানে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার যে ফযীলত তা যদি হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার ক্বওমের মাঝে অবস্থানের সময়কাল ৯৫০ বছর যাবৎ বর্ণনা করি, তবুও তা শেষ হবে না। সুবহানাল্লাহ! (আবূ ইয়ালা)
মহান আল্লাহ পাক উম্মাহকে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার মুবারক শানে সর্বোচ্চ হুযনে যন পোষণ করত উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক হতে ইবরত নসীহত হাছিল করে তা আসলে বাস্তবায়ন করায় তাওফীক দান করুন। আমীন!

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে