আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার রোব মুবারক


ইসলামী সম্রাজ্যের দ্বিতীয় খলীফা, আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার এতো রোব মুবারক এবং প্রভাব ছিল যে- ভয়ে ভীত হয়ে ইবলিস শয়তানও উনার চলার পথ পরিহার করে চলত। আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে বলেছিলেন, “হে খাত্তাবের পুত্র! যাঁর হাত মুবারক-এ আমার প্রাণ মুবারক উনার শপথ, শয়তান আপনাকে এক রাস্তায় দেখলে সে অন্য রাস্তা দিয়ে পলায়ন করে।” সুবহানাল্লাহ! এতো বেমেছাল রোব মুবারক ছিল উনার। একটি বিষয় তুলে ধরলেই সহজে বুঝা যাবে ইনশাআল্লাহ।
একবার রোমান সম্রাট হিরক্লিয়াস ভেবেছিল, ‘তাদের যত পরাজয়ের মূলে মূলত এই আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি। এই প্রভাবশালী মহান খলীফা উনার জোরেই মুসলমান উনাদের এত শক্তি! তাই উনাকে শহীদ করলেই তো সব বিপদ চলে যাবে তাদের।’ নাউযুবিল্লাহ! এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার জন্য সে বহু টাকা দিয়ে এক আরবী যুবক ওয়াছেক-কে ঘাতক হিসেবে নিযুক্ত করলো সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করার জন্য। মুসলমান উনাদের সম্মানিত প্রাণকেন্দ্র পবিত্র মদীনা শরীফ এসে সে যুবক অবস্থান করতে লাগলো এবং সুমহান খলীফা উনাকে শহীদ করার সুযোগ খুঁজতে থাকে। নাউযুবিল্লাহ!
একদিন ওয়াছেক দেখলো- সুমহান আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি একা এক গাছতলায় ঘুমিয়ে আছেন, আশেপাশে কেউ নেই। ওয়াছেক মনে মনে খুশি হয়ে তলোয়ার হাতে সুমহান আমিরুল মু’মিনীন খলীফা উনার নিকটে যায়। কিন্তু সুমহান খলীফা উনার দিকে তাকাতেই উনার অনাড়ম্বর মহিমার মৌন প্রভাব তথা রোব মুবারক ওয়াছেককে এমন গভীরভাবে প্রভাবান্বিত ও সন্ত্রস্ত করে ফেলে যে, তার বুক দুরুদুরু করে কেঁপে উঠে এবং তার হাতের তলোয়ার নিচে পড়ে যায়।
শব্দ শুনে সুমহান খলীফা আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার ঘুম ভেঙ্গে যায়। তিনি চোখ খুলে তাকালেন এবং বললেন, কে তুমি? ওয়াছেক বসে পড়ে বললো, ‘আমিরুল মু’মিনীন! আমি দুশমন, আপনাকে শহীদ করতে এসেছিলাম। কিন্তু পারলাম না। আপনার মুবারক রোব আমাকে সন্ত্রস্ত করে তুলেছে। ফলে আপনাকে দেখে তলোয়ার হাতে রইলো না, খসে পড়লো। দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দেন। আর যে পবিত্র দ্বীন মানুষকে এত বড় মহৎ করে উহার আশ্রয়েই থাকতে চাই। আমাকে দয়া করে মুসলমান করুন।’
এই হচ্ছে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মহিমা। একদিকে রোবের দাপটে খানখান হয়ে যায় অন্যদিকে শান্তির নিমিত্তে ক্ষমার উজ্জল দৃষ্টান্ত পবিত্র ইসলাম ছাড়া কি কোথাও কেউ দেখাতে পারবে? একমাত্র সম্মানিত শান্তি এবং ন্যায়ের দ্বীন ইসলামেই সহজ এবং সম্ভব। অন্যসব কল্পনাপ্রসূত এবং ভুয়া।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে