আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার বেমেছাল দানশীলতা


আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি একদিন উনার সঙ্গীদের বললেন, আচ্ছা বলুন তো- আপনারা কে কি নেক আশা পোষণ করেন? একজন বললেন- আমার ইচ্ছা হয়, আমি যদি এই ঘর ভর্তি দিরহাম পেতাম, তাহলে সবই যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় খরচ করে দিতাম। আরেকজন বললেন- আমি যদি এই ঘর ভর্তি সোনাদানা পেতাম, তাহলে মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় বিলিয়ে দিতাম। এভাবে একেক জন একেক রকম সৎ ইচ্ছা বাসনা প্রকাশ করলেন আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নিকটে।
সবশেষে আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আমার বাসনা কি জানেন? আমি যদি এই ঘর ভর্তি পরিমাণ হযরত আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত মু’য়াজ ইবনে জাবাল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের মতো সুমহান ব্যক্তিত্ব পেতাম, তাহলে উনাদের সকলকে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার আনুগত্যের কাজে লাগাতে পারতাম।
তারপর তিনি বললেন, আমি এখনই পরীক্ষা করে উহার প্রমাণ দিচ্ছি। তিনি খাদিমকে ডেকে চারশত দীনার ভর্তি একটি থলি তার হাতে দিয়ে বললেন, এগুলি হযরত আবু উবাইদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে দিয়ে উনার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে খরচ করতে বলে এসো। হযরত আবু উবাইদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি থলিটি মুবারক হাতে নিয়ে সম্মানিত খলীফা উনার খাদিম স্থান ত্যাগের পূর্বেই দীনারগুলি বিভিন্ন থলিতে ভরলেন এবং অভাবীদের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন। সুবহানাল্লাহ!
অনুরূপভাবে আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি আর একটি দীনার ভর্তি থলি পাঠালেন হযরত মু’য়াজ ইবনে জাবাল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার কাছে। তিনিও তক্ষুণি দাসীকে ডেকে দীনারগুলি বিভিন্ন লোকের মধ্যে বণ্টন শুরু করলেন। থলিতে যখন মাত্র দুইটি দীনার অবশিষ্ট তখন উনার আহলিয়া তিনি খবর পেলেন এবং এসে বললেন- আমিও তো একজন মিসকীন, আমাকেও কিছু দিন। হযরত মু’য়াজ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি আহলিয়া উনার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে দীনার দুটিসহ থলিটি দিয়ে বললেন, এই নিন।
আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি খাদিমের মুখে উনাদের এই মুবারক আচরণের কথা শুনে দারুণ খুশি হন এবং বলেন, উনারা প্রত্যেকেই পরস্পরের সম্মানিত ভাই।
আর আজ আমরা সম্পদ পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার জন্য খরচ না করে নিজের স^ার্থের জন্য জমা করে রাখি। যে কারণে আজ মুসলিম জাতি কোণঠাসা, অবনমিত, অপদস্ত। কিন্তু হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহুম উনারা বেমেছাল দানশীলতা গুণের জন্য পৃথিবী শাসন করে ছিলেন ইনসাফপূর্ণভাবে।

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে