আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার তাক্বওয়া মুবারক


একদা আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি শহরের অবস্থা দেখার জন্য বের হন। তিনি জনগণের অবস্থা স^চক্ষে দেখার জন্য মূলত প্রায় দিনই বের হতেন। জনৈক লোকের বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি শুনতে পান লোকটি পবিত্র সূরা তূর শরীফ পাঠ করছেন। পবিত্র সূরা তূর শরীফ উনার ৭-৮ নম্বর পবিত্র আয়াত শরীফ: “কা’বা শরীফ উনার প্রতিপালক উনার শপথ! এ কথা সত্য। আপনার প্রতিপালক উনার শাস্তি অবশ্যম্ভাবী। এর নিবারণকারী কেউ নেই।”
লোকটি যখন পাঠ করলেন তখন আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি সাওয়ারীর উপর থেকে নেমে পড়েন এবং দেয়ালে হেলান দিয়ে বসে পড়েন। মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত কালাম শরীফ উনার এ ভীতিপূর্ণ আয়াত শরীফ উনার মর্ম উনার অন্তরে এমন প্রভাব ফেলেছিল যে- উনার চলাফেরার শক্তি নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল।
পরে তিনি কিছুটা শক্তি ফিরে পাওয়ার পর বাড়িতে চলে যান এবং দীর্ঘ এক মাস তিনি অসুস্থ ছিলেন। জনগণ উনাকে দেখতে আসত কিন্তু তিনি কি রোগে ভুগছেন তা তারা জানতে পারত না। মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত কালামুল্লাহ শরীফ উনার পবিত্র আয়াত শরীফ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদের হৃদয়ে এরকমই প্রভাব ফেলতেন।
আজ আমরা হরদম পবিত্র আয়াত শরীফ তিলাওয়াত করলেও কিন্তু মনের কোণে ন্যূনতম প্রভাব পড়ে না। সত্যি! নিজেকে প্রশ্ন করে নিজের ঈমান বিষয়ে নিশ্চিত হওয়াটা অত্যন্ত জরুরী। মূলত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারা মেছাল স্থাপন করে গেছেন যে- মুসলমান হলে এমনই হতে হবে। নামধারী হলে চলবে না। নামধারী মুসলমানদের স্থান মহান আল্লাহ পাক উনার এবং আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের নিকটে নেই। তাই খালিছ তওবা ইস্তিগফার করে প্রকৃত মুসলমান হতে হবে আমাদেরকে। কেননা নামকাওয়াস্তে যারা মুসলমান তাদের জন্য রয়েছে অপমান। যা জাতি আজ পাচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ!

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে