সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দু:খিত। ব্লগের উন্নয়নের কাজ চলছে। অতিশীঘ্রই আমরা নতুনভাবে ব্লগকে উপস্থাপন করবো। ইনশাআল্লাহ।

আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর ফারূক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক-২


হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর অন্তরে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও আহলে বাইত-এর মুহব্বত :

আখিরী রসুল, সায়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন: ‘‘যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা তোমাদের মাতা-পিতা, স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি এমনকি নিজের জীবনের চেয়েও আমাকে বেশী মুহব্বত না করবে, ততক্ষণ তোমাদের কেউ হাক্বীক্বী মু’মিন হতে পারবে না’’। এ কথা শুনে হযরত উমর ফারূক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, ইয়া রসুলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমি আমার পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, ধন-সমপত্তি সব কিছু থেকে আপনাকে বেশী মুহব্বত করে থাকি, কিন’ এখনো আমার জানের চেয়ে বেশী মুহব্বত করতে পারি নি। এ কথা শুনে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘‘না, আপনিও হাক্বীক্বী মু’মিন হতে পারেন নি’’। এ কথা শুনে হযরত উমর ফারূক্ব্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বাচ্চা শিশুর মত কাঁদতে লাগলেন। আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত উমর ফারূক্ব্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে নিকটে ডেকে উনার সিনায় হাত মুবারক রেখে ফয়েজে ইত্তেহাদী দিলেন। অত:পর হযরত উমর ফারূক্ব্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন: এখন আমার মত হাজার হাজার নয়, বরং কোটি কোটি উমর আপনার জন্যে জীবন কুরবান করতে প্রস্তুত আছি । (সুবহানাল্লাহ)

একবার হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার পিতা ও তৎকালীন খলীফা হযরত উমর ফারূক্ব রদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট জানালেন যে, হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তাঁকে ‘‘গোলামের ছেলে গোলাম’’ বলেছেন । হযরত উমর ফারূক্ব রদ্বিয়াল্লাহু আনহু ইহা শুনে বললেন, ঠিক আছে এটার ফায়ছালা হবে। তিনি নির্ধারিত সময়ে হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও অন্যান্য মান্যগণ্য লোকদেরকে উনার নিকট উপসি’ত হওয়ার জন্য খবর দিলেন। সকলে খলীফার দরবারে উপসি’ত হলেন। সকলের উপসি’তিতে তিনি হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে জিজ্ঞাসা করলেন: আপনি কি আমার ছেলে, আবদুল্লাহকে ‘‘গোলামের ছেলে গোলাম’’ বলেছেন হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন : হাঁ, বলেছি। হযরত উমর ফারূক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন: আপনি কি এ কথা কাগজে লিখে দিতে পারেন ? তিনি উক্তর দিলেন : হাঁ, লিখে দিব। এই বলে তিনি এক টুকরা কাগজে লিখে দিলেন: আবদুল্লাহ ইবনে উমর গোলামের ছেলে গোলাম। হযরত উমর ফারূক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উক্ত কাগজ খানা হাতে নিয়ে চুমা দিলেন এবং সবাইকে নির্দ্দেশ দিলেন: তোমরা আমার মৃত্যুর পরে কাফনের সঙ্গে এ কাগজখানা রেখে দিবে। আমি যে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার গোলাম এটাই উনার প্রমাণ। এ অবস্থা দেখে সবাই আশ্চর্য্যান্বিত হলেন। এ থেকে বুঝা যায় তিনি আহলে বাইতের প্রতি কতটা মুহব্বত, শ্রদ্ধা ও ভক্তি রাখতেন। (সওয়ানেহে হযরত উমর ফারূক্ব রদ্বিয়াল্লাহু আনহু, সওয়ানেহে হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু আনহু)

শাহাদতবরণ:

হিজরী ২৩ সালের ২৪শে জিলহজ্জ ইয়াওমুল আরবিয়ায়ি (বুধবার) দিন মসজিদে নববী শরীফে ফজরের নামাযে ইমামতী করার জন্য দাঁড়ালে হযরত মুগিরা ইবনে শু‘বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর দাস আবূ লূলূ বিষাক্ত তরবারি দ্বারা তাঁকে মারাত্মকভাবে আঘাত করে। আহত অবস্থায় তিন দিন অতিবাহিত হওয়ার পর ২৭শে জিলহজ্জ ইয়াওমুস্‌ সাবতি (শনিবার) তিনি শাহাদত বরণ করেন ।

দাফন ও নামাযে জানাযা:

হযরত ছুহাইব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার জানাযার নামায পড়ান। রওযায়ে নববী শরীফ-এর মধ্যে হযরত ছিদ্দীকে আকবর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর বাম পাশে তাঁকে দাফন করা হয়। শাহাদতকালে উনার বয়স হয়েছিল ৬৩ বৎসর

ফযীলত ও মর্যাদা :

ফারূক্বে আ‘যম হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর ফযীলত ও মর্যাদা সমপর্কে কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফে এত বেশী ইঙ্গিত ও প্রকাশ্য বাণী রয়েছে যে, সংক্ষিপ্ত কোন প্রবন্ধে তা প্রকাশ করা যাবে না। আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার নিকট উনার স্থান অতি উর্ধ্বে। এজন্য বলা হয়েছে, হযরত উমর ফারূক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর মতের সমর্থনে কুরআন শরীফে ২২টিরও বেশী আয়াত শরীফ নাযিল হয়েছে ।

হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন: ‘‘হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, তারপর হযরত উমর ফারূক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু’’।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, হযরত উমর ফারূক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু -এর ইসলাম গ্রহণ ইসলামের বিজয়। উনার হিজরত আল্লাহ পাক-উনার সাহায্য এবং উনার খিলাফত আল্লাহ পাক-উনার রহমত।

হযরত উমর ফারূক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর যাবতীয় গুণাবলী লক্ষ্য করেই রসূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ‘‘আমার পরে কেউ নবী হলে হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুই হতেন’’। কারণ উনার মধ্যে ছিল নবীদের স্বভাব-বৈশিষ্ট্য।

হযরত উমর ফারূক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ইসলামের দ্বিতীয় খলীফা। তবে তাঁকে সর্বপ্রথম ‘আমীরুল মু’মিনীন’ বলা হতো। কেননা, হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে ‘খলীফাত রসূলিল্লাহ’ বলা হতো।

তিনিই সর্ব প্রথম হিজরী সন প্রবর্তন করেন, তারাবীহ্‌র নামায জামায়াতে পড়ার ব্যবস্থা করেন, মেয়েদের জামায়াত নিষিদ্ধ করেন, জন শাসনের জন্য দুর্‌রা বা চাবুক ব্যবহার করেন, মদপানে আশিটি বেত্রাঘাত নির্ধারণ করেন, বহু রাজ্য জয় করেন, নগর পত্তন করেন, সেনাবাহিনীর স্তরভেদ ও বিভিন্ন ব্যাটালিয়ান নির্দিষ্ট করেন, জাতীয় রেজিষ্টার বা নাগরিক তালিকা তৈরী করেন, কাযী নিয়োগ করেন এবং খিলাফত অধীনস্থ এলাকাকে বিভিন্ন প্রদেশে বিভক্ত করেন ।

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

  1. আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর ফারূক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক- দেয়ার কারনে আপনাকে জানাই আন্তরিক ভাবে মুবারক বাদ Rose Island Dead Rose

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে