আলহামদুলিল্লাহ! ৪৫ হাজার কোটি টাকার তেল মিলল কৈলাশটিলা ও হরিপুরে


সিলেটের হরিপুর ও কৈলাশটিলায় দু’টি তেল ক্ষেত্রের সন্ধান মিলেছে। এ দু’টি ক্ষেত্রে ১৩ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল তেলের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে উত্তোলনযোগ্য মজুত রয়েছে ৫ কোটি ৫০ লাখ- যা দিয়ে দেশে প্রায় দেড় বছর তেলের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। গতকাল বিকালে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ড. হোসেন মনসুর এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দিয়েছেন। ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপের মাধ্যমে ক্ষেত্র দু’টি চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. বদরুল ইমাম, সিলেট গ্যাস ফিল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তোফাজ্জল হোসেনসহ পেট্রোবাংলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ড. হোসেন মনসুর তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, এ দু’টি তেলক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়ার ফলে তেলের আমদানির ওপর খুব একটা প্রভাব পড়বে তা ঠিক নয়। কৈশালপুর ও হরিপুরের তেলক্ষেত্র থেকে যে পরিমাণ তেল উত্তোলন করা যাবে তা দিয়ে প্রায় দেড় বছর দেশীয় তেলের চাহিদা মেটানো সম্ভব। এখন সেখান থেকে কিভাবে তেল উত্তোলন করা যায়, সেজন্য একটি মহাপরিকল্পনা প্রস্তুত করে পেট্রোবাংলা প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। তিনি জানান, ১২টি প্রধান স্তরে বিভক্ত কৈলাশটিলা তেলক্ষেত্রে ১০৯ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের সম্ভাব্য মজুত রয়েছে। যেখান থেকে ৪৪ মিলিয়ন তেল উত্তোলন করা সম্ভব। এর জন্য ৪টি কূপ খননের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই তেলক্ষেত্রটিতে ১৭৮৪ বিসিএফ গ্যাসের মজুত রয়েছে। এদিকে, ৬টি প্রধান স্তরে বিস্তৃত হরিপুর গ্যাস ও তেলক্ষেত্রে সম্ভাব্য ২৮ মিলিয়ন ব্যারেল মজুত রয়েছে। এখান থেকে মোট ২৮ লাখ ব্যারেল উৎপাদনযোগ্য বলে মনে করেন ড. হোসেন মনসুর। উল্লেখ্য, গত বুধবার জরিপের চূড়ান্ত তথ্যসংবলিত প্রতিবেদন পেট্রোবাংলার কাছে উপস্থাপন করা হয়। পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের সূত্র জানায়, কৈলাশটিলা ও হরিপুরে (সিলেট গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত) বিদ্যমান ক্ষেত্র দু’টির গ্যাস স্তরের নিচে এই তেলক্ষেত্রের অবস্থান। কৈলাশটিলায় ভূপৃষ্ঠের ৩২০০ মিটার থেকে ৪০০০ মিটার গভীরতার মধ্যে পাঁচটি স্তরে মোট ১০ কোটি ৯০ লাখ ব্যারেল তেল রয়েছে বলে জরিপে ধারণা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে চার কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল উত্তোলনযোগ্য। হরিপুরে ভূপৃষ্ঠের ২৬০০ মিটার নিচে তেলের স্তরের অবস্থান। সেখানে মজুতের পরিমাণ দুই কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল বলে ধারণা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে এক কোটি ১০ লাখ ব্যারেল উত্তোলনযোগ্য। ক্ষেত্র দু’টি থেকে উত্তোলনযোগ্য মোট সাড়ে পাঁচ কোটি ব্যারেল তেলের দাম বর্তমান বাজারদরে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া ক্ষেত্র দু’টির সন্নিহিত এলাকায় আরও আনুমানিক এক কোটি ৬০ লাখ ব্যারেল তেল এবং ২২৩ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) গ্যাসের দু’টি আধার চিহ্নিত করা হয়েছে। বাপেক্সের ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ দলটি রাষ্ট্রীয় কোম্পানির পরিচালিত পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্রে কাজ শুরু করেছিল গত বছর। তাদের জন্য নির্ধারিত সময় ছিল ৪৯৮ দিন। কিন্তু তারা ৩১৬ দিনে ছয়টি ক্ষেত্রে তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ করেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ড. হোসেন মনসুর বলেন, বিনিয়োগের টাকার জন্য বিদেশীদের কাছে যাওয়া হবে না। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীকে বলা হয়েছে, যেন বিদেশীদের অর্থে শর্তসাপেক্ষে এ দেশের তেল উত্তোলন করা না হয়।

 

সূত্র : মানবজমিন

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে