আলু বোঝা নয়, সম্পদ


প্রতি বছরের ন্যায় এই বছরও আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে।
প্রতি বছরের ন্যায় এই বছরও আলু পানির মুল্যে বিক্রি হচ্ছে।
প্রতি বছরের ন্যায় এই বছরও আলু চাষীরা মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে এবং হিমাগারের মালিকরা স্টককৃত আলু নিয়ে ফ্যাসাদে পড়েছেন। (সুত্র: https://goo.gl/FdoLrW)

বিশ্বব্যাপী আলু যখন স্ট্যাপল ফুড অথবা প্রধান খাদ্যে পরিণত হচ্ছে তখন আমাদের দেশে আলুর বাম্পার ফলনকে অভিশাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পটেটো ফ্লেইক, ম্যাশড পটেটো ইত্যাদি আলুজাত পণ্য যখন উন্নত রাষ্ট্রের রপ্তানিযোগ্য পণ্যের তালিকায় ক্রমেই যোগ হচ্ছে, তখন আমাদের দেশের হিমাগারগুলো আলু স্টোরেজ করে বিপাকে পড়ছে।

আলুজাত খাদ্যে চাল অথবা আটাজাত খাদ্যের চেয়ে ক্যালরি বেশী, ভিটামিন বেশী, হৃদরোগ, ক্যান্সার ইত্যাদি রোগ প্রতিরোধকারী খাদ্যগুণ বেশী। স্বাদের ক্ষেত্রেও চাল অথবা আটাজাত খাবারের চেয়ে আলুজাত খাবার অনেক সমৃদ্ধ। (সুত্র: https://goo.gl/7tCK2t,

এবছর আলুর উৎপাদন কমবেশী ১ কোটি টন। দেশের মোট বাৎসরিক খাদ্য চাহিদা সর্বোচ্চ ৮ কোটি টন। আমাদের দেশে এবছর হাওড় এলাকায় বন্যা হওয়ায় চাল আমদানী করতে হয়েছে। যে মুহুর্তে বার্মার সাথে আমাদের রোহিঙ্গা পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক ছিলো সে অবস্থায় বার্মা থেকে চাল আমদানী করা হয়েছে।

আমাদের দেশে প্রবীণ বয়সী উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ হার্টের রোগে আক্রান্ত। এছাড়া ভাত খেয়ে মোটা হয়ে যাচ্ছেন, রুটি খেয়ে ক্ষিধা মেটে না এরকম মানুষের সংখ্যাও কম নয়। আবার যেখানে এককেজি চালের মূল্য ৫০ টাকা, সেখানে এক কেজি আলুর খুচরা মুল্য ১০-১৫ টাকা।

তাই দেশের স্বার্থে, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের স্বার্থে এবং আর্থিক সাচ্ছন্দ্যের জন্য আলুকে স্ট্যাপল ফুড হিসেবে খাওয়ার অভ্যাস করুন।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে