সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দু:খিত। ব্লগের উন্নয়নের কাজ চলছে। অতিশীঘ্রই আমরা নতুনভাবে ব্লগকে উপস্থাপন করবো। ইনশাআল্লাহ।

আল আতকা, আল মুত্তাক্বী মাহবূবু রসূলিল্লাহ, মাহবুবুল্লাহ হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণ


আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার খালা সা’দাহ নাম্মী এক মহিলা তিনি হঠাৎ একদিন উনার বাড়িতে এসে উনাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম! আপনি জেনে রাখুন, আমাদের মাঝে যে নবী ও রসূল উনার প্রকাশ পেয়েছে তিনি হলেন সব নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাইয়্যিদ। মহান প্রতিপালক আল্লাহ পাক তিনিই উনাকে আমাদের মাঝে প্রেরণ করেছেন। সাথে করে নিয়ে এসেছেন পবিত্র কুরআন শরীফ। আপনি যথেষ্ট বুদ্ধিমান ও জ্ঞানী যুবক। আপনার উচিত- সেই নবী উনার প্রতি ঈমান এনে উনার অনুসরণ করা। প্রচলিত প্রতিমা পূজার মোহমুক্ত হয়ে সত্য ও সঠিক পথের আশ্রয় নেয়া।
আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি নিজেই বলেন, আমি আমার খালাআম্মা উনার কথাগুলোর কোনো তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পারলাম না। তাই উনাকে বললাম, দয়া করে আপনার কথাগুলোর মর্ম খুলে বলুন। তখন তিনি পুনরায় বললেন- শুনুন, বনী হাশিম গোত্রের হযরত মুহম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার প্রেরিত রসূল। তিনি মানুষের মুক্তির জন্য ধরায় এসেছেন। সাথে করে নিয়ে এসেছেন পবিত্র গ্রন্থ কুরআন শরীফ। যার মাধ্যমে তিনি মানব সমাজকে সত্য পথের দিকে আহ্বান জানাচ্ছেন। আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি উনার খালাআম্মা উনার কথাগুলো ভালোভাবে চিন্তা করতে লাগলেন।
আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার পরম বিশ্বস্ত বন্ধু ছিলেন আমীরুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম। তিনি উনার বাড়িতে প্রায়শঃ যাতায়াত করতেন। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উনার সাথে আলোচনা করতেন এবং কোনো ব্যাপারে জটিল সমস্যা দেখা দিলে তা সমাধানের জন্য উনার কাছ থেকে পরামর্শ নিতেন।
এবারও তিনি উনার খালাআম্মা উনার কথাগুলো শোনার পর তা নিয়ে আলোচনা করার জন্য উনার কাছে গিয়ে উপস্থিত হলেন। উনার চেহারা মুবারকে ছিলো অত্যধিক উদ্বিগ্নতার ছাপ। আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন তৎকালীন পবিত্র মক্কা শরীফ উনার এক বিশেষ মনস্তত্ত্ব বিশারদ ব্যক্তিত্ব। সুতরাং আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি উনার কাছে কিছু বলার পূর্বেই তিনি উনাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম! আপনাকে তো আমি একজন বিশেষ সুবিবেচক এবং জ্ঞানসম্পন্ন যুবক বলেই মনে করি। অথচ আশ্চর্য হচ্ছি এ অবস্থা দেখে যে, আপনি এখনো হক্ব ও নাহক্বের পার্থক্যটা বিচার করতে পারলেন না। দেখুন, আমাদের সমাজ নিজেদের হাতে পাথরের মূর্তি তৈরি করে তারই পূজা করে চলছে। আপনিই বলুন না, এগুলোর কি কোনো শক্তি-সামর্থ্য, অনুভূতি, শ্রুতিশক্তি বা দৃষ্টিশক্তি আছে? এগুলোর কি কারো উপকার কিংবা অপকার করার সামর্থ্য আছে?
আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার সহজ সরল কথাগুলো আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার অন্তরে গিয়ে পৌঁছছিলো। উনার থেকে ধ্বনিত হলো যেন না, সত্যিই তো এগুলো প্রস্তর মূর্তি। এগুলোকে পূজা করা নিতান্ত নির্বোধ এবং মূর্খদেরই কাজ। অতএব, উনার জবান থেকে বের হলো, ভাই আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম! আপনার কথা সম্পূর্ণই সঠিক। আমরা যা করে চলেছি তা নিছক ভ্রান্তিরই নামান্তর। উনার কথা শুনে আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, যদি তাই মনে করেন, তাহলে এক্ষুনি চলুন, আমরা আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট গমন করি। অতঃপর উনারা দু’জন আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দরবার শরীফ গিয়ে উপস্থিত হলেন। অন্য এক বর্ণনায় আছে, যখন উনারা দু’জন বিষয়টি আলোচনা করছিলেন সেই মুহূর্তে স্বয়ং আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এসে উনাদের সামনে হাজির হলেন। তিনি আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম! মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাকে অনন্ত জীবনের ভালাই এবং সুখ সমৃদ্ধির পথে দাওয়াত জানাচ্ছেন আপনি সে দাওয়াত কবুল করুন, আর মনে প্রাণে বিশ্বাস করুন- আমি মহান প্রতিপালক আল্লাহ পাক উনার প্রেরিত রসূল। আপনাদের প্রতি ও জগতের মানব সমাজের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে এই দাওয়াত নিয়ে এসেছি।
আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি নিজেই বলেন, আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এই কথা মুবারক আমার অন্তরে এমন দাগ কেটেছিলো যে, মুহূর্তেই আমার মনের সব দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও কালিমা দূর হয়ে গেলো এবং সত্যের নির্মল আলো যেন আমার আঁধার হৃদয় এক পলকেই এক অপূর্ব আলোক রশ্মি দ্বারা উদ্ভাসিত হয়ে উঠলো। সাথে সাথে আমি উচ্চ শব্দে ঘোষণা করলাম, “আশহাদু আল লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহূ ওয়া রসূলুহূ।” অর্থাৎ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত কোনো মা’বুদ নেই। তিনি এক, একক এবং অংশবিহীন। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার প্রেরিত রসূল।
মোটকথা, তিনি পবিত্র ঈমান উনার কালিমা শরীফ পড়ে মুসলমান হয়ে গেলেন এবং সম্মানিত ছাহাবী হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করলেন। সুবহানাল্লাহ!

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে