আল আমিন, কারিহুল কুফর, আস সাবিক, ছাহিবুত তাক্বওয়া, আল হাদি, খাইরু উম্মাতিন, আর রাশিদ, ছাহিবুল হুসনা, লিসানুল্লাহ, আছ ছাবির, উলিল আমর, উলুল আলবাব, গলাকুল ফিতনা, ছাহিবুর রিদ্বওয়ান, ওয়ারিছুন নাবিইয়্যি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত খলীফা মনোনীত হওয়ার সঠিক ইতিহাস


আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি যে দ্বিতীয় খলীফা তা সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যেই সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা রয়েছে। যেমন সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে এসেছে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
اِنَّ حَضْرَتْ اَبَا بَكْرٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ يَـــلِـىْ مِنۢ بَعْدِىْ ثُـمَّ حَضْرَتْ عُمَرُ عَلَيْهِ السَّلَامُ مِنۢ بَعْدِهٖ ثُـمَّ حَضْرَتْ عُثْمَانُ عَلَيْهِ السَّلَامُ مِنۢ بَعْدِهٖ ثُـمَّ حَضْرَتْ عَلِـــىٌّ عَلَيْهِ السَّلَامُ مِنۢ بَعْدِهٖ.
অর্থঃ “আমার মহাসম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর প্রথমে খলীফা হবেন সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি, অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি, তারপর সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি, অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি।” সুবহানাল্লাহ! (গুনিয়াতুত ত্বলিবীন ১/১৫৯, মাকতুবাত শরীফ)
তাই খলীফাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি যখন খুব অসুস্থ তখন তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যূন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে ডেকে বললেন, আপনি লিখুন আমার পরে আমি খলীফা মনোনীত করলাম…..। এই কথা বলে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি বেহুঁশ হয়ে পড়লেন। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত যূন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি নিজেই সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত নাম মুবারক সংযোগ করে বাক্যটি পূর্ণ করলেন। যেহেতু সম্মাানিত হাদীছ শরীফ-এ সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর উনার পর সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার খলীফা হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। তাই সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাঈন আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত নাম মুবারক লিখেছেন। সুবহানাল্লাহ!
অতঃপর যখন সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার হুঁশ ফিরলো, তখন তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যূন নূরাঈন আলাইহিস সালাম উনাকে বললেন, আপনি কি লিখেছেন, তা আমাকে পাঠ করে শুনান। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাঈন আলাইহসি সালাম তিনি পাঠ করে শুনালেন, “আমি সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর সাইয়্যিদুনা হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব ইবনে কুহাফা আলাইহিস সালাম আমার পরে সম্মানিত খলীফা মনোনীত করলাম ফারূক্বে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহি সালাম উনাকে।” সুবহানাল্লাহ!
তা শুনে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি খুব খুশি হলেন এবং বললেন, হে সাইয়্যিদুনা হযরত যূন নূরাঈন আলাইহিস সালাম! আপনি আমার মনের কথাটাই লিখেছেন। অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি দু’হাত মুবারক তুলে মুনাজাত করেন, “আয় বারে ইলাহী মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন! আমি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে সম্মানিত মুসলমান উনাদের সম্মানিত খলীফা মনোনীত করে গেলাম। আমি এক্ষেত্রে সম্মানিত মুসলমান উনােেদর কল্যাণ ও উন্নয়ন ছাড়া অন্য কোনো ইচ্ছা পোষণ করিনি। আপনিই এই বিষয়ে সর্বাধিক জ্ঞাত রয়েছেন যে, আমি সবচেয়ে উত্তম ব্যক্তিকে সম্মানিত মুসলমান উনােেদর সম্মানিত খলীফা মনোনীত করে গেলাম। আমি আমার সাধ্যমত পরিপূর্ণ কোশেশ করে গেলাম। তা সত্ত্বেও আমি সম্মানিত মুসলমান উনােেদর সমস্ত কিছু আপনার সম্মানিত হাত মুবারক-এ সোপর্দ করে গেলাম। হে আমার রব মহান অল্লাহ পাক! আপনি গায়বী ব্যাপারে সর্বজ্ঞ। আমি এই মুহূর্তে ইহজগত থেকে পরজগতে পাড়ি জমাচ্ছি। তাই সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার কোনো সাহায্যে থাকতে পারলাম না। আয় বারে ইলাহী! সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি আপনারই আখাচ্ছুল খাছ মাহবূব বান্দা; আপনিই উনার হাকীম এবং অভিভাবকও আপনি। আপনি উনার অসীম যোগ্যতার বহিঃপ্রকাশ ঘটান, উনি যে সম্মানিত খুলাফায়ে রাশিদীন আল মাহদিয়্যিন উনাদের অন্যতম সেই বিষয়টিরও বহিঃপ্রকাশ ঘটান। উনি যেন নূরে মুজাসসম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার পরবর্তী নেককার উম্মতগণ উনাদের পদাঙ্ক মুবারক অনুসরণ করে চলেন।
আয় বারে ইলাহী! আপনি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার অধীনস্থদের পরিচালনার কাজকে সঠিক ও নির্ভুল করুন এবং উনার পরিণতি শুভ ও সুখময় করুন।” সুবহানাল্লাহ! (ইযালাতুল খফা)
সম্মানিত মুনাজাত শরীফ শেষে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি উনার ওসিয়তনামাকে মোহরাঙ্কিত করেন এবং তার অনুলিপি বিভিন্ন এলাকায় প্রধান দায়িত্বপ্রাপ্তগণ উনাদের নিকট পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। অতঃপর তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহসি সালাম উনাকে ডাকালেন এবং উনাকে অবহিত করলেন যে, তিনি উনাকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের উপর এবং সম্মানিত মুসলমান উনাদের উপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খলীফা মনোনীত করে গেলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি আরয করলেন, হে খলীফাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি আমাকে এ দায়িত্ব দিবেন না। কারণ খিলাফত মুবারক উনার আমার কোনোই প্রয়োজন নেই। সাইয়িদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি জবাবে বললেন, কিন্তু আপনাকে সম্মানিত খিলাফত মুবারক উনার প্রয়োজন রয়েছে। সুবহানাল্লাহ! (ইযালাতুল খফা)
এখান থেকে এই বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনারা কেউই সম্মানিত খিলাফত মুবারক প্রত্যাশী ছিলেন না; বরং সম্মানিত খিলাফত মুবারক উনার উনাদের প্রয়োজন ছিলো এবং মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সম্মাতিন নির্দেশ মুবারক ছিলো যেন উনারা খলীফা হন, তাই উনারা খলীফা হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! তাহলে কি করে বলা যেতে পারে যে, সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা গণতন্ত্র করেছেন, ভোট-নির্বাচন করেছেন এবং ভোট-নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিকভাবে খলীফা নির্বাচিত হয়েছেন। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! মূলত এই সমস্ত বক্তব্য পেশ করা কাট্টা কুফরী ও চিরজাহান্নামী হওয়ার কারণ। কেননা একমাত্র কাফিররাই উনাদের প্রতি মিথ্যা তোহমত দিয়ে থাকে, উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে থাকে। যেমন, এই প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
لِيَغِيْظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ
অর্থঃ “একমাত্র কাফিররাই উনাদের (হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের) প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে থাকে।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (সম্মানিত সূরা ফাতহ শরীফ : সম্মানিত আয়াত শরীফ ২৯)
সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
حُبُّ حَضْرَتْ أَبِىْ بَكْرٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَحَضْرَتْ عُمَرَ عَلَيْهِ السَّلَامُ إِيمَانٌ وَبُغْضُهُمَا كُفْرٌ
অর্থঃ “সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহসি সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের প্রতি মুহব্বত হচ্ছে সম্মানিত ঈমান আর উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা হচ্ছে কুফরী।” (ফাদ্বায়িলুছ ছাহাবা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম লিআহমদ ইবনে হাম্বল)
তারীখুল খুলাফাতে এসেছে, সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাঈন আলাইহিস সালাম উনাকে ডেকে বলেছেন, লিখুন, “বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম। এ ওসীয়তনামা সাইয়্যিদুনা হযরত আবূ বকর ইবনে আবূ কুহাফা আলাইহিস সালাম তিনি দুনিয়ার অন্তিম মুহূর্তে এবং পরপারে যাওয়ার প্রাক্কালে লিপিবদ্ধ করেছেন, যখন কাফিরেরা ঈমানদার, দুশ্চরিত্রতা চরিত্রবান এবং মিথ্যাবাদীরা সত্যবাদী হয়। হে লোক সকল! নিশ্চয়ই আমি আমার পর ফারূক্বে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনাকে আপনাদের জন্য সম্মানিত খলীফা মনোনীত করলাম। আপনারা উনার কথা শুনবেন এবং উনার ইতায়াত তথা অনুসরণ-অনুকরণ করবেন। আর আমি মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের এবং সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক করতে নিজের ও আপনাদের ব্যাপারে ত্রুটি করেনি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি অবশ্যই সম্মানিত ইনসাফ মুবারক করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (তারীখুল খুলাফা ৬৩ নং পৃষ্ঠা)
হযরত শায়েখ সাইয়্যিদ মুহীউদ্দীন আব্দুল ক্বাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব “গুণিয়াতুত্ব ত্বালিবীন”-এ উল্লেখ করেন, স্বয়ং সম্মানিত প্রথম খলীফা সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে সম্মানিত খলীফা মনোনীত করেন। অতঃপর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার হাত মুবারকে সম্মানিত খিলাফত মুবারক উনার বাইয়াত গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে উনাকে ‘আমীরুল মু’মিনীন’ সম্মানিত লক্বব মুবারক-এ সম্বোধন করেন। সুবহানাল্লাহ!
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকব আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে সম্মানিত খলীফা মনোনীত করার পর কেহ কেহ সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে বললেন, হে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দক্বে আকবর আলাইহিস সালাম! আপনি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার জালালী তবিয়ত মুবারক উনার কথা জানা সত্ত্বেও যে উনাকে সম্মানিত খলীফা মনোনীত করলেন, কাল ক্বিয়ামতে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট কি জবাব দিবেন? তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আমি জবাব দিবো যে, আয় বারে ইলাহী! আমি আপনার মাহবুব বান্দা উনাদের মধ্যে দুনিয়ার যমীনে যিনি সর্বোত্তম ছিলেন উনাকে সম্মানিত খলীফা মনোনীত করেছিলাম।” সুবহানাল্লাহ! (গুনিয়াতুত ত্বালিবীন ১ম খ- ১৬০ পৃষ্ঠা)

Views All Time
1
Views Today
3
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে