আল ফাদ্গম, আল র্ফাদ, আল কামিল, আল মু’মিন, আল মা’ছূম, আল মু‘য়াল্লিম সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পূত-পবিত্র জবান মুবারক-এ সম্মানিত না’ত শরীফ পাঠ


সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি স্বয়ং নিজে উনার, উনার সম্মানিত পিতাজান সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম উনার, উনার সম্মানিত দাদাজান সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম আলাইহিস সালাম উনার এবং উনার সমস্ত পূর্বপুরুষ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সকলের শান মুবারক-এ প্রশংসামূলক একখানা সম্মানিত বিশেষ ‘না’ত শরীফ পাঠ’ করেছেন। উক্ত সম্মানিত না’ত শরীফখানা হচ্ছেন, لَقَدْ حَكَمَ السَّارُّوْنَ فِىْ كُلِّ بَلْدَةٍ …بِأَنَّ لَنَا فَضْلًا عَلَى سَادَةِ الْأَرْضِ وَإِنَّ أَبِىْ ذُو الْمَجْدِ وَالسُّؤْدَدِ الَّذِىْ …يُشَارُ بِهِ مَا بَيْنَ نَشْزٍ إِلَى خَفْضِ وَجَدِّىْ وَآبَاءٌ لَهُ أَثَّلُوا الْعُلَا …قَدِيـْمًا بِطِيْبِ الْعِرْقِ وَالْحَسَبِ الْمَحْضِ অর্থ: “অবশ্য অবশ্যই আমরা বেমেছাল প্রফুল্লতার সাথে, অত্যন্ত খুশির সাথে, সীমাহীন সম্মানিত শান-শওক্বত ইতমিনান মুবারক উনার সাথে প্রতিটি শহর, নগর, গ্রাম, স্থান, জনপদে শাসনকার্য পরিচালনা করেছি। কেননা আমাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক হচ্ছে সারা পৃথিবীর, সারা কায়িনাতের সকল সর্দার, নেতৃত্বশীল ও নেতা, আমীর-উমারা, রাজা-বাদশাহ, সুলতান সকলের উপরে আর বাতিনীভাবে ওলী, কুতুব, গাউস, নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সকলের উপরে। সুবহানাল্লাহ! আর নিশ্চয়ই আমার সম্মানিত পিতা সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন সীমাহীন মর্যাদা-মর্তবা, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক ও সম্মানিত কর্তৃত্ব মুবারক উনার অধিকারী। উনার সম্মানিত ইশারা-ইঙ্গিত মুবারক-এ, নির্দেশ মুবারক-এ পরিচালিত হয় উঁচু থেকে নিচু (সম্মানিত আরশে আযীম থেকে তাহ্তাছছারা পর্যন্ত) এতোদুভয়ের মাঝে (সারা কায়িনাতে) যা কিছু রয়েছে সমস্ত কিছু। সুবহানাল্লাহ! আর আমার সম্মানিত দাদা সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম আলাইহিস সালাম তিনি এবং উনার পূর্বপুরুষগণ (হযরত আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পর্যন্ত) যাঁরা অতীত হয়েছেন উনারা প্রত্যেকেই ছিলেন (যাহিরী-বাত্বিনী সর্বদিক থেকে) সর্বশ্রেষ্ঠ ধনী। উনারা প্রত্যেকেই ছিলেন বংশীয় শ্রেষ্ঠত্ব ও বংশীয় পবিত্রতার দিক থেকে অবিনশ্বর। অর্থাৎ উনারা প্রত্যেকেই ছিলেন এতো সর্বশ্রেষ্ঠ ও পূত-পবিত্র বংশ মুবারক উনার অধিকারী এবং পূত-পবিত্র চরিত্র মুবারক উনাদের অধিকারী যে, উনাদের কারো মধ্যে কোনো প্রকার অপবিত্রার স্পর্শ পর্যন্ত লাগেনি। সুবহানাল্লাহ! (কেননা উনাদের মাঝে সরাসরি নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তথা মূল অজুদ মুবারক তিনি অবস্থান মুবারক করেছিলেন।)” সুবহানাল্লাহ! (‘আল হাওই শরীফ ২/২২১, মাসালিকুল হুনাফা ২৫ পৃষ্ঠা, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১/২৪৭, সুমতুন নুজূম ১/২৯৮) এই সম্মানিত না’ত শরীফ উনার মাধ্যমে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি স্বয়ং নিজে উনার, উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম উনার, উনার সম্মানিত দাদাজান সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম আলাইহিস সালাম উনার এবং উনার সমস্ত পূর্বপুরুষ আলাইহিমুস সালাম উনাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনার বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন যে, “আমাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক হচ্ছে সারা পৃথিবীর, সারা কায়িনাতের সকল সর্দার, নেতৃত্বশীল ও নেতা, আমীর-উমারা, রাজা-বাদশাহ, সুলতান সকলের উপরে আর বাতিনীভাবে ওলী, কুতুব, গাউস, নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সকলের উপরে।” সুবহানাল্লাহ! সেটাই সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, عَنْ حَضْرَتْ عَلِـىٍّ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَـحْنُ اَهْلُ بَيْتٍ شَجَرَةُ النُّبُوَّةِ وَمَعْدِنُ الرِّسَالَـةِ لَيْسَ اَحَدٌ مِّنَ الْـخَلَائِقِ يَفْضُلُ اَهْلَ بَيْـتِـىْ غَيْرِىْ. অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমরা মহাসম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক উনার সম্মানিত বৃক্ষ মুবারক অর্থাৎ মূল এবং সম্মানিত রিসালাত মুবারক উনার সম্মানিত খনি মুবারক অর্থাৎ মুল। সমগ্র সৃষ্টি জগতে আমি ব্যতীত আর কেউ আমার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব মুবারক উনার অধিকারী নেই। অর্থাৎ সমগ্র সৃষ্টি জগতের মাঝে আমার পর পরই আমার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের শ্রেষ্ঠত্ব মুবারক, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক।” সুবহানাল্লাহ! (তারতীবুল আমালী ১/২০২, আল ঈমা ইলা যাওয়ায়িদিল আমালী ৫/১৭৯) অর্থাৎ মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা সম্মানিত নুবুওয়াত মুবারক ও সম্মানিত রিসালাত মুবারকসহ সমস্ত কিছু থেকে পবিত্র, ছমাদ তথা বেনিয়ায। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! উনাদের কারণেই সম্মানিত নুবুওয়াত মুবারক, সম্মানিত রিসালাত মুবারক, সমস্ত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা, সম্মানিত রহমত মুবারক এবং সম্মানিত ইলম মুবারকসহ সমস্ত কিছুই ফযীলতপ্রাপ্ত হয়েছেন, সম্মানিত হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! এই কারণেই সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, عَنْ حَضْرَتْ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَـحْنُ اَهْلُ بَيْتٍ لَّا يُقَاسُ بِنَا اَحَدٌ. অর্থ: “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমরা মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। আমাদের সাথে অন্য কারো তুলনা করা যাবে না।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! (দায়লামী ৪/২৮৩, জামি‘উল আহাদীছ ২২/২১৯, কানজুল ‘উম্মাল ১২/১০৪, জাম‘উল জাওয়ামি’ ১/২৪৯৫০, যাখায়েরুল ‘উক্ববাহ ফী মানাক্বিবে যাওইল কুরবা লিমুহিব্বে ত্ববারী ১/১৭, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/৭ ইত্যাদি)

 

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে