সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দু:খিত। ব্লগের উন্নয়নের কাজ চলছে। অতিশীঘ্রই আমরা নতুনভাবে ব্লগকে উপস্থাপন করবো। ইনশাআল্লাহ।

আল হাজরে আসওয়াদ (আট)


হাজরে আসাওয়াদ নিয়ে মুশরিকদের ছড়ানো বিভ্রান্তিঃ

কিছুদিন আগে কিছু সংক্ষক নাস্তকি (মুলত তারা মুশরিক, নাস্তিকরা ছদ্বাবরনে মুসলমানদের বিরুদ্বাচারণ করা তাদের প্রধান কাজ) তারা দাবী করে মুসলমানরা হাযরে আসওয়াদ কে যে চুম্বন করে এটি একটি দেবতা বলে মুসলমান গন মানে এবং এটি দ্বারা আদম সন্তানের পাপ মোচন হয় এটি ও তারা মূর্তি পুজাবলে চিহৃত করে। তারা এ কথা ও বলতে দ্বিধা করনো এই পাথররে আকৃতি নাকি মহিলাদের গোপন আঙ্গের সাদৃস(নাউজুবিল্লাহ্)। আমি ব্যক্তিগত ভাবে এই বিষয় গুলোকে তিনটি শ্রণীতে ভাগ করেছি।

১. ইসলামের উপর তাদের জ্ঞন না থাকার কারন।

২. সে জেই নিয়ম শিক্ষাগ্রহন করেছে তা থেকে না বের হতে পারা।

৩. সব জেনেও ইসলামী কোন বিষয় কে খাট করে দেখানো।

৪. এসব বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে ইসলাম থেকে মানুষকে দুরে রাখা।

 

ইসলামের উপর তাদের জ্ঞন না থাকার কারনঃ

আমি র্পূবে হাযরে আসওয়াদ সর্ম্পকে হাদীস শরীফ পশে করেছি তা হচ্ছে –  “হযরত আবেস বনি রাবেয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি বলনে, আমি হযরত ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু কে ‘হাজরে আসওয়াদ’ চুম্বন করতে দেখেছি। তিনি বলেছিলেন, নশ্চিয়ই আমি জানি তুমি একখানি পাথরমাত্র, কোন উপকার বা অপকার করার ক্ষমতা তোমরা নেই। যদি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে তোমায় চুম্বন করতে না দেখতাম, তবে কখনোই আমি তোমায় চুম্বন করতাম না। একথা বলে হযরত ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু চুম্বন করতে থাকেন। তখন হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! হাজরে আসওয়াদ উপকার বা অপকার উভয়ই করতে পারে। হযরত ওমর রাদ্বয়াল্লাহু তায়ালা আনহু জিজ্ঞেস করলেন, তা কিরূপে? হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, আল্লাহ্ পাক আলমে আরওয়াহ্ যখন সমস্ত বনী আদমের অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন, তখন তাঁর একটি র্পূণ তালিকা তৈরী করা হয়েছিল। সেই র্পূণ তালিকাটি হাজরে আসওয়াদ গ্রাস করেছিল। ওটা এখন ঈমানদারগণের অঙ্গীকার পূরণ করার পক্ষে এবং কাফেরদের অঙ্গীকার পূরণ না করার পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করবে।” (ইহ্ইয়াউল উলুমুদ্দিন)এখানে যে বিষয়টি ফুটে উঠেছে এ পাথরকে আল্লাহ্ পাক ক্ষমতা দান করেছেন আল্লাহ্ পাক বান্দার গুনাহ্ মাফ করানোর। এ পাথর আল্লাহ্ পাকের হুকুমের গোলাম মাত্র। আর এ পাথরের কাছে যাবার আগে তাকে ইসলামী আক্বীদায় বিশ্বাস স্হাপন করতে হবে। এ পাথর হেদায়েত দিতে পারেনা। কিন্তু হেদায়েত প্রাপ্ত বান্দার গুনাহ খাতা শুষে নেতে পারে।
সে যেই নিয়মে শিক্ষাগ্রহন করেছে তা থেকে না বের হতে পারাঃ

এইবিষয়টি উপরের আলোচনার সাথে সামনঞর্পূন। অনেকে বলে আল্লাহ্ , ভগবান, গড একই। কিন্তু ইসলামে দাখিল হতে হলে একথা তার মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে। কারণ আল্লাহ পাক এর হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন – “অতি শীঘ্রই আমার উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে, একটি দল ব্যতীত বাহত্তরটি দলই জাহান্নামে যাবে। তখন ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহমগন বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ্ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যে একটি দল নাযাত প্রাপ্ত, সে দলটি কোন দল? হুযূর পাক ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমি এবং আমার ছাহাবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের মত ও পথের উপর যারা কায়েম থাকবে, (তারাই নাযাত প্রাপ্ত দল)” – তিরমিযী শরীফ।

 

সব জেনেও ইসলামী কোন বিষয় কে খাট করে দেখানোঃ

আপনারা জানেন এই পবিত্র হজ্জ পালন করতে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ থেকে মুসলমান গন ছুটে আসেন আল্লাহ্ পাকের মনোনীত পবিত্র ক্কাবা শরীফে। অতঃপর তার সমস্ত গুনাহ খাতা মাফ হয়ে (সর্ম্পূন মা’ছুম সদ্য নবজাতক সন্তান দের মত) নিষ্পাপ হয়ে যায়। আর তারা শত চেষ্টা করেও (যেমন র্পূবে হজ্জ কাফেলায় খ্রিস্টান ইহুদী রা ডাকাত সেজে আক্রমন করত। হজ্জ যাত্রীদের সব মালামাল লুটকরে নিয়ে যেত ও তাদের হত্যা করত।) হজ্জ পালনে বিরত না রাখতে পেরে তারা একে মহিলাদের গোপন অঙ্গের সাথে তুলনা করেছে। ব্যক্তি গত ভাবে আমার কখনো একথা মনের কোনে ও আশ্রয় নেয়নি।

 

এসব বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে ইসলাম থেকে মানুষকে দুরে রাখাঃ

কিছু কিছু না অধিকাংশ মানুষ এর সভাব হল কোন কথা রটে গেলে এর আগ পাছ বাছবিচার নাকের এর প্রতি সন্দেহের তীর ছুড়ে দেয়া। আর এই বাস্তবতাকে পুজি করে নানা প্রকার বিভ্রান্তির মধ্যে মানুষকে ফেলে মুলত ইসলাম থেকে সরিয়ে রাখার একটি ঘৃন্য প্রয়াস।

 

আরেক টি মুশরিকদের ভাবনা দেখুনঃ

তারা হাযরে আসওয়াদের সাথে ঢালাইকরা বাদামী ধাতুর মধ্যে দেব দেবী আবিস্কার করতে সক্ষম হয়েছে। আর তা থেকে তারা তাদের র্ধমের প্রমাণ সাবমিট করার প্রয়াস করে বা মুসলমানদের বিষয়টি হিন্দুয়ানী প্রমান করতে সচেষ্ট হয়। আর আমি বলি আপনার চক্ষু থাকেল দেখেনিন আপনি কত টুকু র্মূখ। ঔ বাদামী রংএর অংশ হাযরে আসওয়াদ নয়। বরং এর মধ্যে দৃশ্যমান কালো ৮টি টুকরা হাযরে আসওয়াদ।

 

মুসলিম(দাবিদার) ফেরকার ভ্রান্ত ধারণাঃ

কিছু মুসলিম দাবিদার আছে যারা হাযরে আসওয়াদক চুম্বন করাকে তেমন কোন আমল মনে করেনা। হাযরে আসওয়াদ চুম্বন করা যদিও সুন্নত আমল কিন্তু পবিত্র হ্জ্জ পালনে তাওয়াফ করা ফরজ আমল আর ফরজ আমল সৌন্দর্য বর্ধিত হয় সুন্নত আমলের দ্বারা। আর বাড়ীতাআলার কাছে সুন্দর/ভাল আমল পাঠান উচিত কারণ আল্লাহ্ পাক বান্দার নিয়ত দেখেন।

 

শিয়ারা এই হাজরে আসওয়াদ নিয়ে বিভিন্ন মিথ্যা প্রচার প্রপাগান্ডা করে থাকে। যদিও আহলে সুন্নত উয়াল জামাতের মতে শিয়ারা বাতিল ফিরকা। তারা বলে হযরত আলী রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বেলাদত এর সন্মানে হাজরে আসওয়াদ প্রাই জায়গা থেকে সরে যায় বা ভেঙ্গে যায়। যা পুরোপুরি মিথ্যা কথা।

 

মূল কথা হাজরে আসওয়াদ মর্যাদাবান হয়েছে মূলতঃ আল্লাহ্ পাকের হাবীব নুরে মুজাসসম হুজার পাক সল্লাল্লহু আলইহে ওয়া সাল্লাম উনার জন্য আর এ বিষয়ের প্রতি আমাদের বিশেষ যত্নবান হওয়া উচিত। আর যারা হক্কানী ওলীআল্লার কদম মুবারক পেল তারা হাজরে আসওয়াদ কেন তার চেয়ে অনেক বেশী কিছু পেল কারণ হাজরে আসওয়াদ পথহারা বেদ্বীন বদদ্বীন লোকে কে ফিরিয়ে আনেনা কিন্তু যারা সাইয়্যদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরছালীন হাবীব নুরে মুজাসসাম হুজার পাক সল্লাল্লহু আলইহে ওয়া সাল্লাম উনার নায়েব (উয়ারিস) গনকে পেল তারা হাজরে আসওয়াদ কেন তার চেয়ে লক্ষকোটি গুন বেশী নেয়ামত পেল। আল্লাহ্ পাক আমাদের সকলকে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের তাওফিক দান কারুন ।(আমিন)

 

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

৩টি মন্তব্য

  1. সামহোয়্যারের পোষ্য খিঞ্জিরদের ব্যাপারে আর কি বলব? সব কিছুতে শির্কের নাপাকি খুঁজে বেড়ায়।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে